somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জনম দুখী মা মাসুদার সাথে হাজতে নিষ্পাপ শিশু মিথিলা!

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কতই বা বয়স‍! বড়জোর দুই কি আড়াই বছর! মায়ের কোলেই উসখুস করছিল মিথিলা। সকাল থেকে পেটে কিছুই পড়েনি।
কোলেই বা কতক্ষণ থাকা যায়! কোল ছেড়ে নেমে যেতে চাইলেই নিজের অজান্তেই আবার টেনে কোলেই টেনে নিচ্ছেন মা।
কখনোও খামচি কেটে মাকে বিরক্তি করা, কখনোও অচেনা লোকগুলোর দিকে অপলক চেয়ে থাকা। কিন্তু ছোট্ট এই মিথিলার সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত ভবিষ্যত।
কোনো দোষ না করেই নিষ্পাপ শিশুটিকে মায়ের সঙ্গেই যেতে হচ্ছে হাজতে! এ সিদ্ধান্তেই যেন মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে মা মাসুদার। কোলে মিথিলা। আর ঘরে যমজ কন্যা কুসুম (১০), কলি (১০) আর ছেলে মাসুদ (৭)।

ওদের কে সামলাবে? সন্ধ্যায় মায়ের কোল জুড়ে কে ঘুমুবে? কে আদর করে বাচ্চাদের মুখে খাবার তুলে দেবে?



এমন সব দুশ্চিন্তায় দিনের আলোয় অন্ধকার মনে হয় মাসুদার চোখে। হতাশা আর নির্লিপ্ততা অদ্ভূত এক দৃষ্টি তখন মাসুদার চোখেমুখে। সাভারের মাদক পল্লী হিসেবে পরিচিত আমিনবাজারের বড়দেশি গ্রামে গাঁজা বিক্রি করতেন মাসুদা। সবে দু’দিন হয় এসেছিলেন এই পেশায়!

স্বামী পরিত্যাক্তা হিসেবে ভাগ্যই তাকে টেনে এনেছিল এ পথে! প্রতিদিন হাজার টাকার গাঁজা কিনে তা ৫০ ও ১শ’ টাকার পুরিয়া করে বিক্রি করতেন। দিন শেষে চার থেকে ৫শ’ টাকা আয় হত তার। এভাবেই দু’দিনের স্বপ্ন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়!

তৃতীয় দিনের আয় দিয়ে সন্তানের স্কুলের জামা আর বই কিনে দেবার পরিকল্পনা নিয়েই সোমবার সকালে আড়াই বছরের শিশু কন্যাকে কোলে নিয়েই এই পথে নেমেছিলেন মাসুদা।
বিধি বাম! র‍্যাবের অভিযানে ধরা পড়েন তিনি। নেওয়া হয় মিরপুরে র‍্যাব-৪’র কার্যালয়ে।


র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) কবির উদ্দিন সরকার এজাহার নিয়ে সোমবার বিকেলে হাজির হন সাভার মডেল থানায়। সেখানেই বিপত্তি বাধে। মাসুদা না হয় আসামি কিন্তু শিশুটি তো কোনো অপরাধ করেনি।
তাহলে তাকে কেন হাজতে যেতে হবে- থানার বড় বাবুর এ প্রশ্নে থমকে যায় র‍্যাবের মামলা।

মাসুদাকে বলা হয়, শিশুটিকে পরিচিতজনদের কাউকে দিয়ে বাড়ি পাঠাতে।
‘স্বামী তো আগেই ছাইড়া গেছে, স্যার আমার তো বাড়িতে ওরে দেহনের কেউ নাই,আর মা ছাড়া এই মাইয়াডা কিছুই বুঝে না’- মাসুদার এ কথাতে বিপাকে পড়েন পুলিশ কর্মকর্তারা। শিশুটির বর্ণনা এজাহারে না থাকায় তাহলে শিশুটির দায়িত্ব নেবে কে- এ প্রশ্নে সাভার মডেল থানার ওসি মোতালেব মিয়া র‍্যাব কর্মকর্তাদের বলেন, আমি শিশুটিকে কি করে হাজতে পাঠাব!

তার কথা তো এজাহারের কোথাও লেখা নেই! এভাবে মামলা নিতে পারব না। আর নিলেও আদালতের আদেশ না থাকলে কারাগারও শিশুটির দায়িত্ব নেবে না। তার চেয়ে এজাহার সংশোধন করে আসুন, মায়ের সঙ্গে দুধের শিশুটিও ছিল এই বর্ণনা দিন এজাহার নিচ্ছি, তার আগে নয়, ওসির এ বক্তব্যে এবার বিপাকে পড়ে র‍্যাব।

সন্ধ্যায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়, এজাহার সংশোধন করা হবে, আসামি হিসেবে মায়ের সঙ্গে থাকবে শিশুটিও। নতুন করে এজাহার করতে ফিরে যান র‍্যাব কর্মকর্তারা। একদিকে মামলা দায়েরের অপেক্ষায় ডিউটি অফিসার আর অন্যদিকে মাসহ নিষ্পাপ শিশুটির অপেক্ষায় হাজতখানা।

সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোতালেব মিয়া বাংলানিউজকে জানান, শিশুর বিষয়টি এমনিতেই স্পর্শকাতর।

নিষ্পাপ শিশুটিতে হাজতখানার মতো পরিবেশে থাকা যেমন অমানবিক আবার মা ছাড়া শিশুটির থাকাটাও অনিরাপদ। আমাদের কিছুই করার নেই। এখন মায়ের অপরাধেই শিশুটিকে দুর্ভোগ পোহাতে হবে।

সাভার মডেল থানার ডিউটি অফিসার দুলুমা বড়ুয়া বাংলানিউজকে জানান, শিশুটির অধিকারের বিষয়ে আমরা সচেতন তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের হাত বাঁধা।
আইনের হাত অনেক কঠিন!


হা ঠিকই বলেছেন। আইনের হাত তো কঠিন শুধু গরীব-দুখী, দুর্বলদের জন্য আর রাঘব-বোয়ালদের জন্য তো অাপনাদের হাত হালকা হওয়ার সাথে সাথে স্যালুট-তোষামদের বাহাস দেখায়।
আমি অাইনকে শ্রদ্ধা করি। আর আইন তো মানুষের জন্য। একটা স্বাধীন দেশে একটা-দুইটি নয়, তাজা পাঁচটা প্রাণ কত কষ্ঠে জীবন পার করছেন তার কোনো খবর কেউ রাখে না। কি সরকার বা বিরোধী দল না বাংলাদেশী বিলগেটসরা!! হা কেনই বা রাখবে তারা ?? অথচ ব্যালট বাক্স ভরাট করার সময় ঐ কথিত জনপ্রতিনিধি রূপী চাকররা সাধারন মানুষের হাতে পায়ে ধরতে কোন্ঠাবোধ করেন না।
জয় হোক মানবতার, অভিশপ্ত হোক জনচাকরা!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:২০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×