somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতা

২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ২:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার মায়ের লেখা

স্বাধীনতা
- আতিয়া বেগম


'পেট খেতে চায় ভাদর মাসের পাকন পিঠারে
আমি পেটের কি করি উপায়।
পেট খেতে চায় পেট ভরিয়া ভাতরে
আমি পেটের করি কি উপায়।'

এমনি করে তার না খাওয়ার বেদনা, না পাওয়ার বেদনা, তার দারিদ্রতা, তার ক্ষুধা- এসব চিত্রই তার গানের মধ্যে প্রকাশ পেত। সে ছিল এক মহিষের রাখাল। নাম সদর। কোন এক গৃহস্থের মহিষ চরায় সে। বিনিময়ে জোটে দুবেলা ভাত। সে ভাতে তার পেট ভরেনা। কবে পেট ভরে খেয়েছিল সে কথা মহিষের পিঠে বসে চিন্তা করতে করতে মনে পড়ে যায়, মায়ের সাথে গিয়েছিল বহুদূর এক গ্রামে। চারিদিকে কলেরায় মানুষ মরেছিল। তাই গ্রামের লোকেরা এক হয়ে মিলাদ দিয়ে মানুষ খাইয়েছিল। সেদিন সদর পেট ভরে খেয়েছিল।

সময়টা ছিল ভাদ্রমাসের এক দুপুরবেলা। চারিদিকে পানি আর পানি। বানের পানিতে মাঠ ফসল ডুবেছে। ছমিরুদ্দিনের ১৫ বছরের ছেলেটা কলেরায় মারা গেল। ভীষণ শোক তার। সদর মিয়া ছমিরুদ্দিনের উঠানে বসেই ভাত খেল। অনেক ভাত খেল। বার বার মাকে বলল, আলুর তরকারি অনেক মজা। আলুতে মাংস ছিল, তা সদরের পাতে না পরলেও সে মহাখুশি। সে পেট ভরে ভাত খেয়েছে।

এখন সদরের বয়স বার। মা মরেছে সাত বছর বয়সে। বাবাকে সে কোনদিনও দেখেনি। জীর্ণশীর্ণ দেহ। দেখে মনে হয় কতকাল সে অনাহারে। পরনে তার শত তালি দেয়া লুঙ্গি। একটা গেঞ্জি আছে হাটবারে পরে।

মহিষের সাথে তার যত কথা।

মহিষকে সে চুপি চুপি মা ডাকে। তার যত দুঃখের কথা, তার যত সুখের কথা, তার যত আনন্দের কথা মহিষ-মাকে বলে।

একদিন সদর তার মহিষ-মাকে তার খুব বড় আনন্দের কথা জানালো।

মা, আমি কাল হাটে গিয়ে শুনলাম দেশ স্বাধীন হবে। স্বাধীন হলে অনেক ভাল। পেট ভরে ভাত খাব, ভাদর মাসের পিঠা খাব, নতুন লুঙ্গি পরব। স্কুলে যাব!
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০১৫ রাত ২:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×