somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেম

০৭ ই জুলাই, ২০১৫ রাত ৯:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের সমাজে প্রেম যেন এক নিষিদ্ধ বস্তু। প্রেম যেন ঘৃণীত, প্রেম যেন অপরাধ।
স্কুল-কলেজর মাঠে বসে লোকে মাদক সেবন করলে সকলের নজরে পড়েও পড়ে না, কিন্তু একজোড়া নর-নারী যদি মাঠে বসে গল্প করে তবে কেন জানি কারো নজর এড়ায় না।
খুন করে খুনি পলিয়ে গেলে পুলিশের নজরে পড়ে না, কিন্তু প্রেমিক-প্রেমিকা রাস্তায় হাত ধরে হাটতে বেরুলেই তারা কোথা হতে জানি দৌড়ে আসে তাদের নাজেহাল করে পয়সা আদায় করতে।
এলাকায় কেউ কোন ভালো বা মন্দ কাজ করলে যতোটা না রটে, প্রেমের কথা এপড়া থেকে ওপাড়া বাতাসের আগে ছোটে।

কোনো ধর্মে আবার বিবাহপূর্ব প্রেমকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের সমাজে প্রেমকে কখনোই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সমাজের লোকেরা প্রেমকে ঘৃণার চোখে দেখে। ফলে বিয়ে হয় পাত্র-পাত্রীর বাবা-মায়ের পছন্দে।
এক্ষেত্রে বিয়ের পর তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক হবেই, কিন্তু প্রেম হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে ।

আজ প্রেমের এ করুণ পরিণতির জন্য দায়ী প্রেমিক-প্রেমিকারা।
সেকালের প্রেম আর একালের প্রেমে অনেক পার্থক্য।
পারু-দেবদাস, শিরি-ফরহাদ, লাইলী-মজনু, চন্ডীদাস-রজকিনী, রোমিও-জুলিয়েট প্রভৃতি যে প্রেমের কাহিনী আমরা বইতে পড়ি তা পবিত্র প্রেম, বিশুদ্ধ প্রেম। আর বাস্তবে যা দেখি তাতে মুখে কিছু বলার মতো ভাষা থাকেনা।
আধুনিক প্রেমিক-প্রেমিকারা প্রেম আর যৌনতাকে মিশিয়ে ফেলে।
লিটনের ফ্লাটের ঘটনা সকলেই অবিদিত।
প্রেমে যৌনতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে phone sex, vedio sex, sex chat প্রভৃতি।
অধিকাংশ প্রেমিকরাই মনে করে প্রেম হলো প্রেমিকার দেহ, মাংসল স্তন, আর ঘন কেশরের যোনী।
আবার অধিকাংশ প্রেমিকারা প্রেমকে প্রেমিকের টাকাভর্তী মানিব্যাগ মনে করে।

প্রেমে ছ্যাঁকা নামের এক ভাইরাস ঢুকেছে। দু'দিন কথা বলার পর ভালোনা লাগলে তাকে ছেড়ে দিয়ে নতুন আরেকটা ধরাকে ছ্যাঁকা দেওয়া বলা হয়। অনেকেই আবার একইসঙ্গে ৩-৪টা এমনকি ৮-১০টা প্রেমও করে।
জিজ্ঞাসু মন জানতে চাই, এগুলো কি আসোলেই প্রেম?
বর্তমান প্রেমিকসমাজ প্রেমের নতুন একটা নাম দিয়েছে - relation.
প্রেম বলতে তারা লজ্জা পায়। অবশ্য ওদের এই কার্যক্রমকে প্রেম বললে প্রেমের অমর্যাদা করা হবে ।
তারা প্রেমিককে বলে Boy Friend বা BF আর প্রেমিকাকে বলে Girl Friend বা GF.
বন্ধুত্বের মান-সন্মানটুকুও ডোবালো।
এজন্যই হয়তো স্যার হুমায়ূন আজাদ বলেছিলেন-
"একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড়ো কুসংস্কারের নাম প্রেম।"
তিনি আরও বলেছেন-
"দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ প্রেম বলে কিছু নেই, মানুষ যখনই প্রেমে পড়ে, সেটাই তার প্রথম প্রেম। "
প্রেম যদি বিশুদ্ধ হয়, তবে তা কখনোই
লুচ্চামি নয়।

প্রেমকে মরা গাছের শুকনো-পঁচা ডালের
সাথে তুলনা করা যায়, জীবনের পথে
হেঁটে চলা কোন মানুষের উপর কখন
ভেঙ্গে পড়ে তা বলার জো(উপায়)
নেই। সকলেই প্রেমে পড়ে, হোক শিশু, হোক কিশোর-কিশোরী, তরুন-তরুনী বা বৃদ্ধ- বৃদ্ধা। কেউ কবিতার প্রেমে পড়ে, তো কেউ উপন্যাসের, কেউ সাগরের প্রেমে পড়ে, তো কেউ পাহাড়ের, কেউ
মানুষের প্রেমে পড়ে আবার কেউবা
প্রকৃতির।
প্রেম সদা সর্বত্র সকলের জীবনেই
বিদ্যমান।

প্রেম আর যৌনতা দু'টি ভিন্ন বিষয়।
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, কাম, ক্রোধ, মায়া আর লোভ প্রতিটি মানুষেরই রয়েছে। এগুলি প্রতিটি মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। এখানে প্রতিটি বিষয়ই ভিন্ন। প্রেম আর যৌনতা দু'টি ভিন্ন বিষয়।দু'টি আমি আলাদা দৃষ্টিতে দেখেছি।
এখানে ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা যেমন এক নয়,
তেমনি প্রেম বা মায়া আর কাম দু'টি
ভিন্ন বিষয়।
প্রেম-ভালোবাসা হচ্ছে মায়া। যার জন্যে জগৎ চলে।
আর কাম হচ্ছে যৌনতা। এটি সকল প্রাণীরই বৈশিষ্ট্য।
প্রেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইজির গানের একটা কথা না বললেই না, তা হলো-
" কাম হয়েছে প্রেমের লতা,
কাম ছাড়া প্রেম যথা-তাথা
নয় সে প্রেমের আগমন,
করি কেমনে সহজ-শুদ্ধ প্রেম সাধন???"

উল্লেখ্য, এখানে বলা হয়েছে, 'কাম
ছাড়া যে প্রেম, যথা-তথা সে
প্রেমের আগমন ঘটে না, কারণ
আমাদের চিত্ত প্রেমের নামে কামে
পাগল। তাই সাঁইজি চিন্তিত কিভাবে কামহীন সহজ-শুদ্ধ প্রেম সাধন করবেন।'
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×