বলছিলাম- আমার দেশ পত্রিকা ও এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কথা। এ লোকটির পলিসি ছিল এমনভাবে প্রতিবাদ করা যার মাধ্যমে হয় থাকবো না হয় মরবো। আমার মতে এ ধরণের প্রতিবাদ এক ধরণের বোকামি। একটি প্রতিষ্ঠান টিকে থাকলে ধীরে ধীরে অনেক প্রতিবাদ করা যায়। একবারে মাংস না খেয়ে প্রাথমিকভাবে সবজি দিয়ে খেয়ে কিন্তু ভালোই চলা যায়। কিন্ত মাংস এমন খাওয়া খাইলাম --স্থান হলো হাসপাতালে..অতপর ডেড। এ ধরণের চিন্তা-ভাবনা আজকের জগতে চরম বোকামি।
মাহমুদুর হরমানের মূল টার্গেট ছিল জামায়াতি পন্থা অবলম্বন করে সরকারের পতন ঘটনানো। কিন্তু তার বাস্তবায়ন ছিল কল্পনা পসূত। হেফজাতকে তিনি নামিয়েছিলেন ঠিকই ...কিন্তু তার পকেট সর্বস্ব দল বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। যার ফলশ্রুতিতে মাহমুদুর রহমান অধৈর্য হয়ে উঠলেন। তিনি শাহবাগের গণজাগরণকে লিখলেন শাহবাগে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি...এর কোনো দরকার ছিল না। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কথাও ভাবা তার উচিত ছিল। একটা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে তারা কোথায় যাবে..তাদেরকে অন্য মিডিয়া গ্রহণ করবে কি না..এসব বিষয় তার চিন্তা থেকে হাজার মাইল দূরে ছিল। এজন্য তাকে বুর্জোয়া আখ্যা দিতে আমি কুণ্ঠাবোধ করি না। তবে মাহমুদুর রহমান এজন্য জনপ্রিয় ছিলেন---তিনি ছিলেন ১০০ ভাগ সরকারবিরোধী। সরকারের পক্ষে দুইএকটা কথা বলে তিনমাস টিকে থাকা দরকার ছিল..আবার লিখতো হতো। কিন্তু পত্রিকাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে এটা তিনি একেবারেই ভাবেন নি।
আজ আমার দেশ নামে কোনো পত্রিকা কিংবা প্রতিষ্ঠান নেই বাংলাদশে। অথচ মাহমুদুর রহমান চাইলে এটা টিকিয়ে রাখতে পারতেন। এখনও লাখ লাখ কপি বিক্রি হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিল।
সাংবাদিকতার ইথিকস বলতে কিছু অবশ্যই আছে। এখানে নিরপেক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার কোনো বালাই ছিল না। যেকোনো ঘটনা ইনিয়ে বিনিয়ে সরকারবিরোধী হিসেবে বানানো হতো। এটা কেন? সরকারবিরোধী হোক- সেটা সমস্যা না - কিন্তু দেশবিরোধী কিংবা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে মাহমুদুর রহমানের চলা ঠিক হয়নি। তিনিও তো দেশের মেধাবী সন্তান , বুয়েট আইবিএর মতো প্রতিষ্ঠানের গ্রাজুয়েট..
যাই হোক মাহমুদুর রহমানের চারপাশে যেসব লোক ছিল তারাও তাকে ভুলপথে চালিত করতে সহায়তা করেছে নানাভাবে। সেইসব বড়বড় সাংবাদিকরা আজ বেকার......অথচ শুধু সরকারবিরোধী হলে কোনো সমস্যা ছিল না...আমার দেশে হয়ে গিয়েছিল অতি সরকারবিরোধী একটি পত্রিকা।
পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অনেক দিন পর আমার দেশ পত্রিকার এক শিফট ইনচার্জ (নিউজ ডেস্ক) আমাকে বললেন. এখন নিরপেক্ষ সেজে কোথাও ঢুকে যাওয়া দরকার। তা না হলে এ পথে টিকে থাকাই টাফ হয়ে যাচ্ছে। তখন আমি মনে মনে বললাম ..আমার দেশ পত্রিকাটা যদি সামান্য পরিমাণ নিরপেক্ষ অবস্থানেও থাকতো তাহলে প্রতিষ্ঠানটা আজ বিলীন হয়ে যেত না। ওই সাংবাদিকের মনে অবশেষে উদয় হয়েছিল নিরপেক্ষতার কত প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




