somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নেক্সাস
ফরহাদের খেরো খাতা n.........n(লেখকের অনুমতি ব্যাথিত এই ব্লগের কোন লিখা কপি ও অন্য কোন মাধ্যমে প্রকাশ করা দন্ডনীয় অপরাধ।)

চোখটা এতো পোড়ায় কেন?

২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সারাদিন কর্মব্যস্ততা শেষে বিকেলের দিকে অন্তর্জালে উঁকি দিয়ে স্বদেশের খবর নেওয়া একপ্রকার রুটিন ওয়ার্ক। ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর এই রুটিন কাজটুকু করতে গিয়ে মুহুর্তে আমি বেদনায় মুষড়ে গেলাম। মধ্যপথে অকস্মাৎ থেমে গেল এক বিস্ময় পুরুষের জীবন গাড়ি। সঞ্জীব চৌধুরী আর নেই। আমার হৃদয় বিদির্ণ করে এক ঝাপটা হু হু হাওয়া বেরিয়ে মিশে গেল বিস্তির্ণ মরুর দিকশূন্য বুকে। এই সব্যসাচী মানুষটার সাথে আমারো যে অতি সামান্য কিন্তু অতি মূল্যবান কিছু স্মৃতি আছে।

আমরা তখন ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম আর দারুন সব ব্যান্ডদলের গানে বুঁদ হয়ে থাকা প্রজন্ম। সঞ্জীব চৌধুরীর অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের সাথে গায়কী মিলিয়ে দলছুট ব্যান্ডের গান আমাদের সোনালী তারুণ্য জয় করে ঠাঁয় নিয়েছে হৃদয়পুরে। আমাদের মুখে মুখে দেহগাড়ির সুর ব্যাঞ্জনা। আর বোধের নিউরণে পাঠকফোরামের শব্দ অনুরণন।
আমার বন্ধু সরফরাজ আর বোরহান তখন নামিদামি পাফোস। পাফোসদের সাথে সঞ্জীব চৌধুরীর হরিহর আত্মা। আমি তখনো ওস্তাদ ডাইনে প্যালাস্টিক টাইপ নগণ্য। লেখা পাঠিয়ে বি.স-এর দিকে তাকিয়ে থাকি আর মাঝে মধ্যে সরফরাজের সাথে বাংলামোটরের সেই বিখ্যাত চারতলায় ভোরের কাগজ অফিসে যাওয়া আসা করি। শব্দ শিল্পীদের সাথে পরিচিত হই, শব্দ বুননের গল্প শুনি। আর মনের ভেতর সুপ্ত আশা যদি একবার সঞ্জীব বাবুর সাথে দেখা হয়। কিন্তু ততোদিনে গানের ভুবনের রাজপূত্র সঞ্জীব পাঠক ফোরামের থেকে কিছুটা দুরে। একদিন সরফরাজ আকাশচুরি এলবাম দেখিয়ে বল্লেন দেখ সঞ্জীব দার গিফট। আহা সেই গান "তোমার বাড়ির রংয়ের মেলায় দেখেছিলাম বায়োস্কোপ"। একদিন আমার স্বপ্ন পুরন হল। ভোরের কাগজের চার তলাতেই কিভাবে যেন দেখা পেলাম তাঁর। সেখানেই কুশল বিনিময়। তন্ময় হয়ে দেখলাম নিজের গানের মতোই অসাধারন ব্যক্তিত্বের দরাজ গলার সুপুরুষ সঞ্জিব চৌধূরী। নষ্ট শহরে বুক চেতিয়ে প্রেম ও দ্রোহের গান গাওয়া ক্ষেপাটে যুবক, যার গান কাঁপন জাগাতো হাজারো বোহেমিয়ান অন্তরে.......চলতে চলতে ক্ষনিকের তরে আরো একবার দেখা হয়েছিল মোহ জাগানিয়া প্রিয় মানুষটির সাথে।

আমার আর ভোরের কাগজে যাওয়া হয়নি। হাজারো ভুলে ভরা গল্প বুকে জমা রেখে জীবনের তাগিদে আমি দেশান্তরী হলাম। প্রিয় স্বদেশ,পাঠক ফোরাম,সরফরাজ বোরহানদের সাথে কান্নার রং ছুঁয়ে যাওয়া বিচ্ছিন্নতা। শুধু ইথারে সাথী হয়ে থাকলো সঞ্জীবের একেকটা সঞ্জীবনী গান। হায়! এই ইথারেই একদিন নেমে এল জগতের সমস্ত নিস্তব্ধতা। ইথারের জানলাম কাউকে কিছু না জানিয়ে মধ্যপথে মানব গাড়ি থামিয়ে ভীনদেশে পাড়ি দিয়েছেন অনাডম্বর জীবনে বর্ণিল প্রতিভার অধিকারী অন্যরকম এক মানুষ সঞ্জীব চৌধুরী।

আজ তার বিরাণ পথে হেঁটে যাওয়ার একযুগ। অথচ সঞ্জীব চৌধুরী মোটেও হারিয়ে যাননি। শত কোটি মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। বেঁচে থাকবেন কিংবদন্তীর পিতা হয়ে অনন্তকাল। এই নষ্ট শহরে নাম না জানা এক মাস্তান সহস্র অনুরাগীর চোখের সমুদ্রে নাও ভাসিয়ে বারবার ফিরে আসবে মানবতার চিঠি নিয়ে, প্রেম ও দ্রোহের গান শোনাতে।
এপারে-ওপারে অনন্তকাল ভাল থাকুন প্রিয় শিল্পী, প্রিয় সঞ্জীব দা..........

প্রকাশিতঃ দৈনিক ভোরের কাগজ/ ২২.১১.১৯

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৭
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সক্কাল বেলা একটা জোক্সস শোনাই

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০৬


বাংলাদেশের ইতিহাসে শেখ হাসিনার আমলে যতটা নিকৃষ্ট ভাবে ভোট চুরি হয়েছে আর কারো আমলে হয় নি। এমন কি এরশাদের আমলেও না। ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট পোস্ট!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯


জুলাই সনদে স্বাক্ষরের দিন ড. ইউনুস বলেছেন, “এই সনদে স্বাক্ষর করলে আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় উন্নীত হবো।”
আর গতকাল উনি বলতেছেন বাঙালি হচ্ছে বিশ্বের মাঝে সবচেয়ে জালিয়াত জাতি! তো জুলাই সনদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯

তিন শ' এক//
আমার সাহস দেখে, জানি. তুমি খুব রেগে যাবে।
ঘরহীন, সর্বহারা ভালোবাসা জানায় কিভাবে ?

তিন শ' দুই//
চোখের মালিক ঘোর নিঃশ্বতার আঁধারে ডুবেছে;
তবুও বেকুব চোখ সুন্দরের নেশায় ডুবেছে!
...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী ১৭৫৭, বাংলাদেশ ২০২৬ঃ সিরাজের বাহিনি ও বিএনপি

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০



সামনের ইলেকশনে যদি ডিপস্টেট, জামাত ও এঞ্চিপির যৌথ প্রচেষ্টায় 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' বা 'মেকানিজম' হয় (যেটার সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই আলোচনা করছেন অনলাইন-অফলাইন-দুই জায়গাতেই), তবে কি বিএনপি সেটা ঠেকাতে পারবে? পারবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নাই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৩


ঢাকার মিরপুরে পরিচয় গোপন করে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের এক পোড়খাওয়া নেতা টাইম ম্যাগাজিনের তারেক রহমান কে নিয়ে লেখা বাংলা অনুবাদ পড়ছিলেন । প্রচ্ছদে তারেক রহমানের ছবি, নিচে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×