somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

হাতিয়া , নিঝুম দ্বীপ ও নিউ সন্দ্বীপ বুকে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে আরেক বাংলাদেশ | --------------------------------------------------------------------------

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমে ২৫,০০০ একর জমির একটি ভূখণ্ড এখন আবাদযোগ্য হয়েছে। স্থানীয় ভাবে এটাকে জাহাজ্জিয়া চর বলা হয়ে থাকে। এই চরটি ‘ নিউ সন্দ্বীপ ‘ নামে গুগল মেপে দেখা যায়। সন্দ্বীপের পশ্চিম প্রান্ত লাগোয়া যে নতুন চর জেগে উঠেছে তা থেকে জাহাজ্জিয়া চরে ভাঁটার সময় হেঁটেই যাওয়া যায়। হলুদ পিন দিয়ে স্থানটিকে চিহ্নহিত করা হয়েছে। আশা করা যায় সহসা এটি নোয়াখালী, উরিরচর ও সন্দ্বীপের সাথে লেগে যাবে। এটি মস্তবড় আশার খবর। তাছাড়া
মেঘনা বেষ্টিত হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন একটি জেলার আয়তনের সমান। হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত প্রকৃতির অপরূপ লীলাভূমি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পূর্বে বিশাল আয়তনের ভূমি জাগছে। উল্লেখ্য, হাতিয়া উপজেলার আয়তন দেশের ২১টি জেলার আয়তনের চাইতে বড়, বিশ্বের ১৪টি দেশের আয়তনের চেয়ে বড় এবং সিঙ্গাপুরের আয়তনের তিনগুণ বেশী। হাতিয়া মূল ভূখ- ছাড়াও এর চতুর্দিকে ছোটবড় মিলিয়ে বর্তমানে ৫০টি চর জেড়ে উঠেছে। এগুলোর ১০টিতে জনসাধারণের বসবাস ও চাষাবাদ চলছে। অপরদিকে হাতিয়া উপজেলার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যে পরিমাণ ভূমি জাগছে তাতে করে আগামী দেড় দশকে আরো একটি জেলার আয়তনের সমান জেগে উঠার সম্ভবনা রয়েছে। হাতিয়া জাহাজমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে মেঘনা বেষ্টিত নিঝুমদ্বীপ ভ্রমণ বিলাসীদের জন্য দর্শনীয় স্থান। দেশ-বিদেশে এর ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। এছাড়া নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পার্শ্বে মেঘনা বেষ্টিত ত্রিশ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দমার চর নামক চরটিতে বর্তমানে কুড়ি হাজার অধিবাসীর বসবাস। নিঝুমদ্বীপ ও দমার চরের মধ্যবর্তী এলাকাসহ দক্ষিণ ও পূর্বদিকে মেঘনার বুকচিরে বিশাল আয়তনের চর জাগছে।জাহাজমারা ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিমে বিগত ষাটের দশকে মেঘনার বুক চিরে এক খ- ভূমি জেগে ওঠে। ১৯৬৫ সাল থেকে হাতিয়া মূলভূখ- থেকে কিছু অধিবাসী উক্ত চরে শস্য মৌসুমে চাষাবাদ শুরু করে। তখন উক্ত চরের নাম ছিল বালুয়ার চর। পরবর্তীতে কমলার চর থেকে বর্তমানে এটি নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ১৯৭০ দশকের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসে চরটির দুই শতাধিক কৃষক নিহত হয়। এদের মধ্যে ভাগ্যক্রমে মাত্র একজন প্রাণে রক্ষা পান। শুষ্ক মৌসুমে নদীতে জোয়ার কম থাকায় বিশাল এলাকায় ডুবোচর দেখা যায়। জানা গেছে, জাহাজমারা চ্যানেল অতিক্রম করে দক্ষিণে অন্তত একশ’ কিলোমিটার নৌপথ অতিক্রম করার সময় পানির গভীরতা কোথাও কোথাও ৫/৬ মিটার আবার কোথাও কোথাও ৮/১০ মিটারের মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে। একশ’ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করার সময় পানির গভীরতা ১০/১২ মিটার দেখা গেছে। অর্থাৎ দক্ষিণ ও পূর্বদিকে সাগরে ক্রমান্বয়ে পলিমাটি ভরাট হচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত ছবিতে দেখা গেছে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্বপাশে সাগর ক্রমান্বয়ে সাদা পলিমাটিতে ভরে যাচ্ছে। আগামী ৪/৫ বছরে এ বিশাল এলাকা ডুবোচর জেগে ওঠার পাশাপাশি এক দশকের মধ্যে জনবসতি গড়ে উঠবে।উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালের সংঘঠিত ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সময় সাগর থেকে জোয়ারের সাথে কোটি কোটি টন পলিমাটি এসে এখানকার নদনদী ভরাট করে। এতে বেশ কয়েকটি চরাঞ্চলের সৃষ্টি হয়। এরমধ্যে হাতিয়ার হরনী ইউনিয়ন, চানন্দী ইউনিয়ন, টেঙ্গারচর, সূর্যমুখী খালের পূর্বাংশ, দমারচর উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে জোয়ারের সাথে কোটি কোটি টন পলিমাটি দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে এসে থাকে। এতে করে ৪/৫ বছরের মধ্যে অসংখ্য ডুবোচর জেগে উঠছে। জানা গেছে, মেঘনা বেষ্টিত হাতিয়া উপজেলার বর্তমান আয়তন দেশের ২১ জেলার আয়তনের চেয়েও বড়। অপরদিকে নিঝুমদ্বীপের দক্ষিণ ও পূর্বদিকে যেহারে চর জাগছে তাতে করে আগামী দেড় দশকে আরো একটি জেলার আয়তনের সমান আরো ভূমি জেগে উঠার উজ্জ্বল সম্ভাবনা।
হয়ত আমরা দেখে যাব সাগরে বুকে ধীরে ধীরে জেগে উঠবে আরও একটি সবুজ দেশ ।

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৫ দুপুর ২:০৪
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×