somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

গল্প: ‘অ-মানব’- (১৩ তম পর্ব)

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাদিয়ার সাথে এসে পাগল শিলার সামনে আসে । শিলার দিকে তাকিয়ে বলল যার অনেক কাজ বাকী সে যেতে পারবে না। এই দুনিয়ায় প্রতিটা মানুষ কোন না কোন কাজে এসেছে । শিলার মা বলল – ভাই আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন । নেন এই চেয়ারে বসেন । আপনার জন্য খাবার আনা হচ্ছে । পাগল বলল- আসলেই খুব খুদা লেগেছ । নাদিয়া বলল – ভাই আপনার আসলেই বাড়ী কোথায় । পাগল বলল – দেখুন আমি মিথ্যা বলি না। আমার কোন বাড়ী নেই । আমি একজন যাযাবর । যে খানে রাত সেখানেই ঘুমিয়ে পরি । নাদিয়া নাস্তা দিল । চা দিল ।

শিলার মা বলল – ভাই দুনিয়ায় যার কেউ নাই । তার আল্লাহ্‌ আছে । আল্লাহ্‌ আজ আপনাকে পাঠাইছে । আপনার যতদিন মনে চাইবে । আমার বাসায় থাকবেন । আমার বাসা এই শহরে লিচু বাগান । বিমান বন্দর রোড । নাদিয়া তুই ভাইকে নিয়ে বাসায় যা । বাংলা ঘরে সুন্দর একটা বিছনা করে দে। ভাই তুমি যেমন আমাদের চেন না। আমাদের জন্য তোমার রক্ত দিলে । আমিও তোমাকে চিনি কিন্তু আজ হতে তুমি আমার ভাই । নাদিয়া বাসায় নিয়ে যা। পাগল শিলার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল মা মনি তারা তাড়ি ভাল হয়ে উঠ । নাদিয়া পাগল কে রিক্সা করে তার বাসার দিকে যাচ্ছে । পাগল বলল অনেক শীত লাগছে কি আপনার ।
— হ্যা
— নাক টা চাদর দিয়ে ঢেকে বসুন । কান ঢেকে দিন । আর চিন্তা করুন
আপনি ভাল আছেন ।
—- নাদিয়া হেসে বলল আপনি খুব মজার মানুষ । এই সিলেটে অনেক পাগল আমি
দেখেছি কিন্তু আপনার মত দেখি নাই ।
— পাগলটা নাদিয়ার দিকে চেয়ে একটু হেসে বলল পাগল দেখা যায় না । পাগল কে
অনুভবে বুঝে নিতে হয় । নাদিয়া আপনার কাছে বিশ টা টাকা হবে ।
— হ্যা হবে এই নেন ।
পাগল আম্বার খানা পয়েন্টে নেমে বিশ টাকা দিয়ে ফুল কিনল । নাদিয়া তার ফুল কিনা দেখে হেসে বলল কাকে দিবেন ।
— কেন আপনাকে দেব । গোলাপ আপনার খুব পছন্দ । নাদিয়া গত সাতদিন এই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ফুল দেখে । কিনতে মনে চায় কিন্তু সময়ের জন্য কিনতে পারে না। ফুল গুলো পেয়ে খুব খুশি হল । নাদিয়া বলল কি নামে ডাকি আপনাকে
— পাগল একটু হেসে বলল আমার নাম অনেক বড় আপনার পক্ষে মনে রাখা সম্ভব
না । বরং আপনার যা ইচ্ছা ডাকুন । নাদিয়া হেসে বলে পাগল আপনি ।
— পাগল হেসে বলে এই নামটা আমার খুব প্রিয় দু জন মিলে এক সাথে হেসে দিল ।
ঝলমলে রোদ উঠছে । শীতের দিনে রোদ সবাই পছন্দ করে । নাদিয়া বলল আজ তিন দিন পড়ে সূর্যের মুখ দেখলাম । পাগল আকাশের দিকে চেয়ে বলে আকাশ আর
মানুষ এই দু এর কোন সীমা নেই ।। সিক্সা চলে আসে বাসার সামনে ।
মিলি ছাদে বাচ্চা কুলে নিয়ে বসে আছে । এমন সময় পাশের বাড়ির রেজিয়া বলে
আপা পাগল টা কোথায় । মিলি বলল ওকে পাগল বল না তো রেজিয়া । অ আল্লাহ্‌ বান্দা ।
—- আপা আপনি বলেন আল্লাহর বান্দা । আসলেই ঐ লোকটা একটা
সয়তান । জানেন আমি ওর ভয়ে জানালা খুলি না। খালি জানালার দিকে
চেয়ে থাকে ।
—- দেখ রেজিয়া তুমি যা বললে আর বল না । এত অল্প সময়ে কাউকে খারাপ বলা
চলে না। জোছনা এসে বলল – মামী আসলে রেজিয়া অ্যান্টি শুধু শুধু বেশী কথা
বলে ।
— মিলি বলল শুন রাজিয়া পাগলের সাথে যদি কথা বলে থাক । তাহালে মনে
রেখ এটা তোমার কপাল ।। এই বলে মিলি ছাদ থেকে তার ঘরে চলে
যায় । জোছনা ছাদের গাছ গুলোতে পানি দিতে থাকে ।
রেজিয়ার দেবর রেজিয়া কে ডেকে বলে ভাবি কাল কে তোমার ছবি তুলতে হবে । আগের ছবি দিয়ে তোমার পাসপোর্ট করেছি । এই নাও পাসপোর্ট । রেজিয়া পাসপোর্ট পেয়ে মহা খুশি । মনে মনে বলে পাগলের কথা কি ঠিক ? দেবর কে বলে আচ্ছা একটা কথা বলি তুমি যে অফিসে কাজ কর সেই অফিসের বস এর বউ কে কি তুমি চেন ?

রেজিয়ার দেবর এমন একটা ভাব নিল । দেখ ভাবি বস মানেই বস । আর তাদের বউ রা আরও বড় বস । আমি বসের বউ কে চিনি না। তবে শুনেছি ঐ মহিলা নাকি খুব খারাপ । রেজিয়ার দেবর জানে এক মহিলা অন্য মহিলার প্রশংসা শুনতে পছন্দ করে না। রেজিয়া তার দেবরের ফোনটা ভাল করে চেক করে । দেখে পরিচিত সব নাম্বার থেকে ফোন এসেছে ।। রেজিয়া আর দেবর মিলে তাদের বিদেশ যাওয়ার সব সময় ঠিক করে নেয় । প্রথমে তারা থাইল্যান্ড যাবে সেই খান থেকে অন্য দেশে ।
পাগল বিকেলে মেডিক্যালে আসে নাদিয়ার সাথে । নাদিয়ার ছোট বোন বলে – ভাইয়া আপনি এখানে বসুন । আমার নাম নাজ । আমরা তিন বোন । আমি নাজ । নাদিয়া আর নাজু আপু সবার বড় । সাথে সকালে তারা দু জন আমার মামা হয় । দুলা ভাই আজ লন্ডন থেকে আসবে রাতে ।। আপনি শুধু নাম নিয়ে রহস্য করছেন কেন ? আপনার নাম কি বলব বলেন । আমাদের ভাই তার নাম থাকবে না। শিলা ঘুম থেকে
উঠে পাগলের দিকে চেয়ে বলে – আম্মু আমি ওর নাম জানি ।
— শিলার মা মেয়ের দিকে চেয়ে । তাই মা মনি কি নাম বল শুনি ।
— মা আমি স্বপ্নে তাকে দেখছি । আমার জন্য সে আকাশ থেকে আসছে । কই মামা
আমার ফুলটা দাও । পকেট থেকে একটা অপরাজিতা ফুল দিল শিলার হাতে ।
শিলা বলল আজ ফুটেছে আমাদের বাগানে তাই না মামা ।
— হা মা । রাতেই ফুটেছে তোমার জন্য তাই নিয়ে এলাম । নাজ বলল শিলা
তুমি কি ভাবে জানতে । যে ভাইয়া ফুল নিয়ে আসবে ।
— খালা মনি আমি স্বপ্নে মামা কে দেখছি । মামা আমাদের বাসায় জানালা দিয়ে
এই ফুল ছিরেছে আমার জন্য ।
— নাদিয়া হেসে বলল তোমার সব স্বপ্ন সত্য হোক । ডাক্তার বলেছে কালকে তোমাকে
রিলিজ দিয়ে দিবে ।
— পাগলটা শিলার মাথায় হাত রেখে বলে বাসায় গিয়ে তোমার জন্য অনেক অনেক গাছ লাগিয়ে দিব । তোমার বাগান কে অনেক সুন্দর বাগান করে দিব । শিলার মা নাজু বলে ভাই তোমার কথা শিলার আব্বু কে বলেছি । সে বলেছে তোমার যখন যা লাগবে আমাকে বলবে । নাদিয়া চা দেয় পাগল কে । নাজ বলে ভাইয়া একটা কথা বলব আপনাকে ।
— হ্যা বল শুনি ।
— ডাক্তার কে আপনি টিপ সই দেখতে বললেন । আপনি চলে যাওয়ার পর
সে কাগজ টা ছিরে ফেলে । পড়ে অন্য একটা কাগজে সে নিজেই তার
ঠিকানা লিখে নিজেই সই করে রাখে । কি ছিল আপনার টিপ সই এ ।
— ডাক্তার আমাকে একটা ভুল কাগজে টিপ সই নেয় । আসলে ঐ কাগজটার পিছনে
একটা চিঠি ছিল । যা তোমার জানা দরকার নাই । নাজু বলে ঠিক অন্যের বিষয়
না জানা ভাল । নাদিয়া বলে আপা আমি বাসায় যাই । ভাইয়া কি পড়ে আসবে না
কি আমার সাথে যাবে । নাজ বলে তুমি নিয়ে এসেছ তুমিই নিয়ে যাও ।
পাগল মানুষ টা ছাদে দাড়িয়ে কুয়াশার মধ্য আকাশের দিকে চেয়ে আছে । নাজ নাদিয়া ছাদে আসে পাগল কে ঘরে না পেয়ে ।
— ভাইয়া আকাশে কি দেখেন ।
—- নাদিয়া কে বলে আমি আকাশ দেখি না । দেখি একটা গতি । আমরা
যদি একবার সেই গতির দেখা পেয়ে যাই । তাহালে অনেক অনেক
দূরে কোথাও ।
নাজ বলল – ভাইয়া কালকে ডাক্তার আপনাকে একটু দেখা করতে বলেছে ।
নাদিয়া বলল – লোকটা আপনার কথায় খুব চিন্তায় পড়ে গেছে ।
পাগল নাদিয়া কে বলল – যার মধ্য চিন্তা আছে সে নিজেকে বদলাতে পারে আর যার মধ্য চিন্তা নাই সে অন্ধকার থেকে বের হতে পারে না । নাদিয়া চিন্তাশীল হও । নাজ তুমি পড়তে যাও । পরীক্ষার অল্প দিন বাকী আছে । নাজ নাদিয়া ছাদ থেকে যাওয়ার
সময় দেখে খুব সুন্দর করে পাগল আসন করে বসেছে আর তার চার পাশে অনেক গুলো জোনাক পোকা আলো জালছে । নাদিয়া নাজ কে বলে অবাক করা একটা মানুষ

চলমান——-

সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১:৪০
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কারখানা বাঁচাতে পারিনি, তাই মানুষকে অটো চালাতে হচ্ছে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪


বাংলাদেশে এখন এমন এক অদ্ভুত অর্থনৈতিক সংকট চলছে, যেখানে একজন শ্রমিক কারখানায় বিদ্যুৎ না পেয়ে চাকরি হারিয়ে অটো রিকশা চালাচ্ছেন। সেই অটো আবার চার্জ দিতে বিদ্যুৎ খাচ্ছে। যে বিদ্যুৎ... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা কে রাখলে এমনি হবে...দাদা, যতদিন পারেন রাখেন

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:৩২



২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে বাংলাদেশ ছাড়ার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিশেষ বিমানটি ভারতের দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে (Hindon Air... ...বাকিটুকু পড়ুন

খারাপটা কোথায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪


বিশ্বখাতায় নাম লিখিলাম পাগল
কবিতারা হেসেই মাঠে হয়ে যায় ছাগল;
ঘাস খাওয়া আনন্দটা অন্যরকম
তবু পাগল বলে কথা, পূর্ণিমায় যুগল;
আজ কাল হাঁটবাজারে হিংসাটা
কম মূ্ল্যেই বিক্রয় হচ্ছে! যোগোপযোগি
সময়টা পাগল ছাড়া চলেই না
লেখার খাতার দামটাও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম্লিগ যদি আসে তাহলে ....... :(

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৬



বিএনপি। আপনারা ১৭ বছর ঘরে থাকতে পারেন নাই কিন্তু এখন যদি আবার আম্লিগ ফিরে আনেন তাহলে আপনারা তো দূরের কথা আপনার বাড়ির মাটিও থাকবে না। আপনার ঘর-দরজা থাকবেনা। শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরকাল কেন পাই না?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২

বিল গেটস এর নামে একটা কথা প্রচলতি আছে; জানি না কথাটা বিল বলেছে কি না, তবে আমার কাছে মাঝে মাঝে কথাটা সত্য মনে হয়। কথাটা এমনঃ আমি কোন কাজ করবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×