somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

এক নয়নের গল্প

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সকাল থেকে আকাশটা মেঘ মেঘ । আর যে গরম একটু বৃষ্টি হলে ভাল হত । রিক্সা টা সাইড করে টং দোকান থেকে এক কাপ চা একটা নুনতা বিস্কুট আর এক গ্লাস পানি খেয়ে নিল । শরীরের ঘামটা মুছে একটা খেপের জন্য অপেক্ষা করছে । পড়নে লঙ্গি খালি গা একটা গামছা শরীরে ঝুলানো । এর মধ্য একজন ডাক দেয় এই খালি মহা খালি যাবে । মালিবাগ থেকে মহা খালি ভাড়া টা চুকিয়ে যাত্রী তুলল । কিছু দূর যেতেই যাত্রী ভদ্র লোক বলল ড্রাইভার তোমাকে চেনা চেনা লাগছে । তোমার নাম কি ?
---৫৫ বছরের চালক বলল আমার নাম রমিজ ।
--- ৩০ বছরের যুবক বলল । তোমার নাম রমিজ ।
--- হা স্যার আমার নাম রমিজ ।
--- তোমার বাড়ি
--- আমার বাড়ি কিশোর গঞ্জ জেলার করিম গঞ্জ থানার খুদি জঙ্গল বাড়ি ।
কেন স্যার ? আপনার বাড়ি কোথায় ।
--- আপনার এলাকায় ।
--- স্যার রিক্সা চালকে খুব কম মানুষ আপনে করে বলে । আগে তুমি
বলছেন আর এখন আপনি করে বলছেন !
---- আমি মহা খালি যাব না । আপনি আমাকে খিলগাঁও নিয়ে যান ।
ভাড়া যা চান দিব । একটু ভুল করে চলে আসছি । আপনার ছেলে মেয়ে
সংসার নাই ।
--- না স্যার । কিছুই নাই । এখন
--- কেন বিয়ে শাদী করেন নাই ।
---- স্যার এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলব না ।
--- কেন
--- মানুষের জিবনে অনেক ঘটনা আছে । কিছু বলা যায় কিছু বলা যায় না।
---- ঢাকা কোথায় থাকেন ।
---- মিরহাজারি বাগ ।
--- কে কে আছে ।
---- আমি আর আমার বুড়া মা ।
---- ভাল । তাহলে বলবেন না ।
---- না স্যার । বলব না ।
---- আমাকে কি চেনা যায় ।
---- ঘার ফিরিয়ে দেখল আর একবার না স্যার চিনতে পারলাম না।
---- ভাল করে দেখেছেন ।
--- জি স্যার । দেখেছি । কিন্তু চিনতে পারি নাই । আপনার বাড়ী কি
আমাদের জেলায় ।
--- হ্যা । আপনাদের জেলায় । তা বাড়িতে যান না কত বছর ।
---- এই তো তেইশ বছর হল ।
--- কারো কথা মনে পড়ে না ।
--- আমার খবর কেউ নেয় না । আমি কার খবর নিব । স্যার আপনি কে ?
কি করেন ? মনে হয় সরকারি চাকুরি করেন ।
--- হে আপনি ঠিক বলেছেন । আমি ইঞ্জিনিয়ার । রিক্সা চালানোর আগে
কি করতেন ।
-----রিক্সা চালাবার আগে জুট মিলে চাকুরি করতাম পলাশ থানায় ।
----- তার পর ।
----- তার পর আর বলতে চাই না । আপনি খারাপ মনে করবেন ।
----- না মনে করব না ।
----- চাকুরি করা অবস্তায় এক স্যারের কথায় মিলের কিছু পাট ট্রাকে তুলে দেই । পড়ে পুলিশ চুরির অভিযোগ আমি এরেস্ট করে । যে স্যারের কথায় কাজ করলাম সেই স্যার আমাকে পুলিশে দেয় । ৫ বছর জেল খেটে বের হই ।
গ্রামে যেয়ে আর স্ত্রী পুত্র কে পাই না । শ্বশুর বাড়ি যাই তারাও বলে জানে না। জুট মিল এলাকায় যাই । তাদের আর পাই না । পরে চলে যাই চিটাগাং । সেই খানে ১২ বছর থাকি । পরে ছোট ভাই ঢাকা নিয়ে আসে । এখন সে বিয়ে
করে আলাদা আর আমি মা কে নিয়ে থাকি ।
---- ছেলে কে আর পান নাই ।
---- না আর পাই নাই । অনেক বার তার মামাদের সাথে যোগাযোগ করেছি । বিচার বসাইছি । তারা আরও বলে আমার নামে মামলা করবে আমি নাকি ওদের বোন কে মেরে ফেলেছি । স্যার কাউকে বলতে চাই না । মানুষ হিসাবে
আমি খুব খারাপ । মিথ্যা মামলা জেল । সব মিলাইয়া আজ ও খুব কষ্ট পাই ।
স্যার আমার বউ অনেক সুন্দর ছিল । আমি বিয়া করেছিলাম নান্দাইল ।
এটা ।
--- আপনার ছেলের নাম কি ছিল
--- আমার ছেলেটা তার মায়ের রঙ পাইছিল নাম রাখছিলাম নয়ন । নয়ন
ছিল স্যার নয়নের মত । মেইল গেইটে ছুটির সময় আমার জন্য চলে আসত ।
রিক্সার যুবক বলল- আপনার জীবন টা যেই লোক নষ্ট করল তাকে কি আপনি এখন চিনবেন ।
---- স্যার কেয়ামত পর্যন্ত চিনব । তবে ঐ লোক টাকে আমি ভুলব না ।
---- আপনি কি তাকে কি করবেন ।
---- আমি কি আর করব গরীব মানুষ । তবে একটা চর দেয়ার ইচ্ছা ।
যার আমি আমার জীবনের কথা কাউকে বলি না। আজ ও বলতে চাই নাই কিন্তু কথার ফাকে চলে আসছে ।
কথায় কথায় রিক্সা চলে এসেছে খিলগাঁ । গরমে শরীর দিয়ে ঘাম বেয়ে পড়ছে ।
রিক্সায় বসা ছেলেটা রিক্সা থেকে নেমে রমিজ মিয়ার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে আর চোখের পানি রাখতে পারছে না । রমিজ মিয়া বলে স্যার আপনার চোখে পানি কেন । যুবক রমিজ মিয়া কে জরিয়ে ধরে বলে আমি
আপনার ছেলে নয়ন । রমিজ মিয়া বলে স্যার আমার সাথে মিছা কথা বলে
কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছেন । নয়ন রমিজ মিয়া কে বলে আমার সাথে ভিতরে আসুন । দারোয়ান কে ডেকে বলল এই রিক্সা টা খেয়াল রাখো । রমিজ মিয়া
যুবকের সাথে বিশাল একটা দালানে উঠে । লিফট থেকে নেমে একটা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে । রিক্সা চালক রমিজ মিয়া অবাক হয় । দেখে তার বউ সীমা ।
ছেলে বলে এখন তো বিশ্বাস হল যে আমি আপনার ছেলে । নয়ন মাকে বলে
মা আমাকে কোন চোরে জন্ম দেয় নাই । আমি কোন চোরের ছেলে না । রমিজ মিয়া কে পাশের ঘরে নিয়ে যায় । দেখে বিছানায় একটা প্যারালাইস মানুষ শুয়ে
আছে । রমিজ মিয়া বলে বাবা মরা মানুষ কে কি আর বলব । তবে এই মানুষটা যাই করুক তোমাকে মানুষের মত মানুষ করেছে । আল্লাহ তাকে মাপ করুক ।
নয়ন তার মাকে বলল - মা তোমাকে দেখার মত তোমার আরও দুই ছেলে আছে । রমিজ মিয়া এখন ঠিক বুঝে গেছে এই ম্যানেজার তার বউ কে পাওয়ার জন্য এত কিছু তার বিরোদ্ধে করেছে । রমিজ মিয়া দামি বাসা থেকে বের হয় । শেষ বারের মত আর একবার তার বউ কে দেখে বলে দোয়া করি ভাল থাক । নয়ন তার বাবার সাথে নীচে নামে । রমিয়াজ মিয়া তার ছেলে কে বলে বাবা আমার জন্য তোমার মা কে ভুল বুঝ না। মানুষের জীবন কখন কি হয় আল্লাহ্‌য় জানে । নীচে নেমে দেখে খুব বৃষ্টি হচ্ছে রমিজ মিয়া রিক্সা বের করে ছেলে এসে বলে বাবা তুমি রিক্সায় বস আমি তোমাকে চালিয়া নিয়ে যাই । ছেলে কে বুকে জড়িয়ে বলে তুমিই আমার বাবা এই রিক্সাওলা বাপরে যে তুমি
নিজের বুকে নিয়েছ । আল্লাহ যে তোমার মুখটা আবার দেখাইছে এতেই আল্লাহর কাছে আমি সুখি । ছেলে কে জোর করে রিক্সায় বসায়ে বলে নয়ন হুড তুলে দেও বাবা তোমার ঠাণ্ডা লাগবে । নয়ন বাবার রিক্সায় বসে তার বাবা তাকে বার বার পিছন ফিরে দেখে আর ব্রিস্তির কান্যা চোখে হাসে । নয়ন বলে বাবা আমি কোয়াটার পেয়েছি তুমি আমি আর দাদি এক সাথে থাকব ।নয়নের বাপ বলে বাপজান তুমি যা বলবে তাই হবে...........................।।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৩:৫১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×