somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সেলিনা জাহান প্রিয়া
আমি সেলিনা জাহান প্রিয়া , জন্ম পুরান ঢাকা, নাজিরা বাজার , নানা বাড়িতে ।বাবার বাড়ি মুন্সী গঞ্জ , বড় হয়েছি ঢাকা ।স্বামীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ ।ভাল লাগে ঘুরে বেড়াতে , কবিতা , গল্প , উপন্যাস পড়তে অজানাকে জানতে । ধর্ম বিশ্বাস করি কিন্তু ধর্ম অন্ধ না ।

ধারাবাহিক গল্প @ অ-মানব # ২৫ তম পর্ব

০১ লা মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রাক চালকের শরীরে আবার জ্বর আসতে লাগল । পাগল মানুষটা বেদেনা কে ডেকে বলল তোমার বাবার সাথে আমি একটু বাজারে যাই । আমরা না আসা পর্যন্ত তুমি একটু মাথায় পানি দাও । মুসা মিয়া কে নিয়ে পাগল মানুষ বাজারে যায় । মুসা মিয়া কে বলে এ কি কাজ করেন । মুসা মিয়া বলে টাকা থাকলে আমি ফলের ব্যবসা করতাম কিন্তু টাকা নাই । তাই যখন যে কাজ পাই তাই করি । কিন্তু আমার মেয়ে বেদেনার জন্য অনেক মায়া হয় । মেয়েটাকে রেখে কোথাও যেতে মন চায় না।
আল্লাহ্‌ যদি মেয়েটার একটা ব্যবস্তা করে ।
— পাগল বলল আপনি মেয়ে কে খুব ভাল বাসেন তাই না ।
— হ্যা মেয়ে ছাড়া আমার তো কেউ নাই ।
— আচ্ছা আজ যদি আপনি মারা যান তখন মেয়ের কি হবে ?
— আমি এই চিন্তা টাই সব সময় করি ।
— দেখুন আমার আপনার এই জগতের যে মালিক । সে কোন কিছুই কোন কারন ছাড়া সৃষ্টি করে নাই । তাই আমাদের চিন্তা থাকতে হবে তবে তা স্রষ্টার চেয়ে বেশি হলেই
আপনি ভুল করবেন । আপনার উচিৎ এই মেয়েটাকে কিছু হাতের কাজ শিখনো । আপনি চলে যান আপনার সেই ফলের আরতে । কাজ নেন । মেয়েটাকে নিয়ে যান । তাকেও কোন না কোন কাজ করতে দেন । যদি মনে করেন মেয়ে মানুষ কাজ করলে
আপনার সম্মান নষ্ট হবে। তাহলে আপনি মারা গেলে ও কি নিয়ে এই কঠিন সমাজে বাস করবে । যদিও মেয়েটা কে কেউ বিয়ে করতে চায় কিন্তু মেয়েটাকে কাজ না শিখয়ে বিয়ে দিবেন না। পাগল ডাক্তারের কাছ থেকে কিছু ঔষধ কিনে দিয়ে বলল আমি আর ফিরছি না। এই খানে কিছু টাকা আছে রাখুন । এই গুলো এক পুকুরের মাছ বিক্রি করা টাকা । যদি এই টাকা ব্যবসা ভাল হয় একদিন আমি ফেরত নিতে আসব । মুসা মিয়া বাজার করে বাড়িতে ফেরার পথে পাগলের কথা গুলো মনে মনে চিন্তা করতে লাগলো । ঠিকিই মেয়ে কে কিছু কাজ শিখাতে না পারলে তো সমস্যা ।

ট্রাক চালক সাবুর মাথায় পানি ঢালতে ঢালতে বেদেনা এক সময় সাবুর মাথায় হাত দেয় । মেয়েটার হাত সাবুর মাথায় ছোঁয়া মাত্র সাবু বলে – এত কষ্টে তোমাদের ফেললাম । মেয়েটা খুব শান্ত ভাবে বলে কোন কষ্ট না। কিন্তু রাতের বেলায় ঐ মানুষটা অনেক কষ্ট করেছে । আপনার চিনা জানা না। কিন্তু আমি দেখছি যে আপনার জন্য সে কত বার পানি নিয়ে আপনার মাথায় দিয়েছে । এখন বাবার সাথে বাজারে গেছে ।
মানুষ টা জানি কেমন। আপনি তো বার বার আমাকে দেখছিলেন কিন্তু ঐ মানুষটা একবার ও আমার দিকে তাকায় নাই । আমি এমন মানুষ প্রথম দেখলাম ।
— সাবু বলে ঐ মানুষ কি এই বাড়ির কেউ না।
— না । এই বাড়ির কেউ না।
— আমার মনে হইছিল এই বাড়ির কেউ ।
— না । তবে আমি ভেবেছিলাম যে আপনার হেল্পার । কারন গাড়িটা রাস্তা থেকে আমাদের বাড়ির সামনে কি সুন্দর করে চালিয়ে নিয়ে এসেছে ।
— সাবু বলে তুমি তো আমাকে তোমার কাছে ঋণী করলে মাথায় পানি দিয়ে । তোমার বাবার কাছে তোমার কথা জানলাম । আমিও তোমার মত কিছুটা দুঃখী । আমার একটা মেয়ে আছে নাম নুপুর পাচ বছর বয়স । ওর মা আমার হেল্পারের সাথে
চলে গেছে যখন নুপুরের বয়স তিন বছর । আমার মা নুপুর কে এখন পালতাছে ।
বেদেনা সাবুর কথা শুনে কিছুটা অবাক হইল । বলল- কেমন মা এমন দুধের বাচ্ছা রেখে চলে যায় ।
এর মধ্য সাবুর মা মেয়ে আর ট্রাকের মালিক চলে আসছে । মুসা মিয়া ঔষাধ এনে দেয় । মহাজন ট্রাক নিয়ে যায় । সাবুকে কে কিছু টাকা দেয় । বলে তুমি আস্তে ধীরে জ্বর কমলে আসো ।
নুপুর কে খুব আদর করে বেদেনা গোসল করিয়ে নিজের হাতেই খাওয়ে দেয় । সাবু বলে চাচা ঐ লোকটা কোথায় । মুসা মিয়া বলে উনি চলে গেছে । আমাকে না বলে চলে
গেছে ।
— হা । না বলেই চলে গেল । অনেক ভাল মানুষ ।
— সাবু বলল আল্লার ফেরেস্তা ।
মুসা মিয়ার বাড়ির পাশেই একটা সরকারি পুকুর দুপুরে খাবার শেষ করে বেদেনা আর নুপুর পুকুর পারে বসা এমন সময় সাবু মিয়া আসে এখন আর জ্বর নাই ।
নুপুর বলে আব্বু খালামনি কে আমাদের সাথে নিয়ে চল । সাবু বলে যদি মা তুমি বল
আর তোমার খালা মনি যেতে চায় তাহলে নিয়ে চল ।।

ডাঃ জীবন আর দিলরুবা ওসি সাহেবের সামনে বসা । ডাঃ জীবনের বড় ভাই রেজা তার ছোট ভাই এর জন্য খুবেই দুঃখ প্রকাশ করে বলে – তুমি এতটা নিচে নেমেছ ভাবতেও অবাক লাগে । আমার ও দুই টা মেয়ে আছে । তোমার একটা বোন আছে । এর এই মেয়ে কে তুমি বিয়ের কথা বলে তার জীবন নিয়ে খেলা করছ । একবার কি তুমি তোমার বোন ভাগনী ভাতিজী দের কথা চিন্তা করলা না। ভাগ্য ভাল যে তুমি
থানায় এসেছ । আর এই মেয়েটা তোমাকে বিশ্বাস করেছে তুমি তার বিশ্বাস নিয়ে খেলেছ । ওসি সাহেব আপনি এদের ব্যাপারে কি করে জানলেন । ওসি সাহেব বলে
তেজগাও থানার ওসি আমাকে বিষয়টা ফোনে বলে । আমি তখন ঐ ওসির কাছে তাদের হোটেলের নাম জানি । এবং তাদের পিছনে সোর্স লাগিয়ে তাদের নজরদারিতে রাখি ।
আপনার ছোট ভাই ডাঃ সাহেব হোটেল ছেরে দিবে তা হোটেল ম্যানেজার কে বলে ।
সোর্স আমাদের সংবাদ দেয় যে আপনার ভাই কিলার তারু কে টাকা দেয় । তখন আমাদের সন্দেহ হয় যে মেয়েটাকে মেরে ফেলতে পারে । তাই তেজগাঁ থানার ওসি সাহেব বলে যে ডাঃ যে মেয়েটা কে সাথে নিয়ে হোটেলে উঠেছে সে তার স্ত্রী না। তখন আমরা ঐ হোটেলে যাই । আমাদের এস আই সাহেব তাদের কথায় প্রমান পেয়ে যায় যে তারা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এই হোটেলে উঠেছে । এবং আমরা কিলার তারু কে এরেস্ট করি সে জানায় আপনার ভাই এই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে ।
এখন এই মেয়ে যাই বলবে মামলা সেই ভাবে হবে ।
— রেজা বলে ওসি সাব কি করা যায় বলেন ।
— ওসি বলে আপনি মেয়ের সাথে কথা বলেন । প্রেম করা পাপ না কিন্তু নস্টালজিয়া
খারাপ । বাজে পরিকল্পনা খারাপ ।
—- দিলরুবা বলে মানুষ এত খারাপ । আমাকে জানে মেরে ফেলার জন্য মানুষ কে টাকা দেয় । আরে আমি এমন একজন কে বিশ্বাস করলাম । যার জন্য আমি মরে যেতে চাই আর সেই কিনা আমাকে মারার জন্য মাস্তান ভারা করে । দিলরুবা বলে
ওসি সাব একজন মাতাল নিয়ে পঙ্গ মানুষ নিয়ে জীবনে বাচা যায় । কিন্তু লম্পট চরিত্রহীনের সাথে না । রেজা দিলরুবার মাথায় হাত রেখে বলে বোন আমি বড় ভাই হিসাবে তোমার দায়িত্ব নিলাম । তোমার মান সম্মান আজ হতে আমার পরিবারের সবার । তোমাকে আমার ভাইয়ের বউ হিসাবে মেনে নিলাম । ওসি বলে পারিবারিক ভাবে সমাধান হলে কি আর থানা পুলিশ লাগে । তেজগাঁ থানার ওসি এসে বলে ডাঃ জীবন আপনি হয়ত কোন ভাল মায়ের সন্তান । আর এই মেয়ে হয়ত আপনাকে ই শুধু
বিশ্বাস করেছে তাই আজ আপনার সব অন্যায় মাপ করে দিয়েছে । যান রেজা সাহেব
সামনেই কাজি অফিস । বিয়েটা শেষ করেন মিষ্টি নিয়ে আসেন । আজ ঐ পাগলটা কে খুব মিস করছি যে ফোন করে সব ঠিক করে দিল ।
—রেজা জানতে চায় কোন পাগল ।
— ওসি হেসে বলে ভাই যে পাগল আমার বউ এনে দিয়েছিল । আপনি চিনবেন না ।
চলমান————————-

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০১৬ রাত ১০:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডাক্তাররা সামনে আরও পিটুনী খাবে... প্রতিকারের সময় এখনি

লিখেছেন অপলক , ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫



দেশে রুগির চেয়ে ডাক্তার, নার্স বা সরকারী সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অনেক কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৯৯ জন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০১৮ সালের পর ঢাকাতেই ৪টা এক্সপ্রেসওয়ে

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৫৩



একটা দেশের উন্নয়ন কতটা এগিয়েছে, সেটা বোঝার অনেকগুলো উপায় আছে। তবে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সেই দেশের রাস্তা, সেতু আর যোগাযোগব্যবস্থা। কারণ এগুলোর পরিবর্তন সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×