গত ১৩ই আগষ্ট স্থানীয় সময় সকাল ৯:১৭ মনিটি জাপনের টোকিওতে মস্তিস্কের রক্তক্ষরনজনতি কারনে ইন্তেকাল করেছে।
আজকে সেখানেই ওর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ১৭ই আগষ্ট কাতার এয়ার লাইন্সের একট বিমানযোগে তার কফিন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে। আপনারা সবাই ওর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করবেন।
দীর্ঘ ছ’বছরের ব্লগ জীবনে আমি আমার পরিবারে কথা বলিনি। আমি আমার পরিবারের আনন্দ ভালবাসা ,দুঃখ কষ্ট কখনোই আমার ব্লগ ও ফেসবুকের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করিনি।এটা ছিল আমার সেই গরিবের বেনারশী শাড়ির মত। ছিড়ে যাবার ভয়ে গায়ে পড়িনি। তুলে রেখেছি ভাঙ্গা আলমারিতে। মাঝে মধ্যে বের করে অতি যত্ন গায়ে হাত বুলিয়েছি- আর ইতি উতি তাকিয়ে দেখেছি আর কেই যেন দেখে না ফেলে! এই প্রথম আমি দুছত্র লিখি আমার অতি অতি আপনজন পৃথিবীর সব’চে ভালবাসার মানুষটিকে নিয়ে;
ভাই আমার,
একটা সময় যখন যখোন যেই বই পেতি- সেখানেই তুই সেটা গোগ্রাসে গিলতি
কিন্তু আমার লেখা কখনও পড়িসনি।
এলোমলেো এই লেখার শুরুটা করি সেখান থেকেই;
অনেক বছর আগে; একযুগ দেড়যুগ কিংবা তারও বেশি সময় আগে মনে পড়ছে বহুবার তোর নিবিষ্ঠ মনে শোনা সেই গানের চরনগুলি-গানটা শুনতে শুনতে তুই-ও গুনগুনিয়ে সুর তুলতি;
বেশি কিছু আশা করা ভুল
বুঝলাম আমি এত দিনে
মুক্তি মেলেনা সহজে জড়ালে হৃদয়ে কোন ঋণে
…এই জগতে এমনও লোক থাকে
সপ্ন দেখতে নেই যাদের…
ভাইরে তুই তেমনই ছন্নছাড়া-দেউলিয়া পাষান বুকে কষ্ট চেপে রাখা একজন মানুষ ছিলি যাদের সপ্ন দেখতে নেই।
কতই না ঋন তোর কাছে। এই দ্যাখ, আমি তোর ঋণ শোধ করে দিচ্ছি স্মৃতির পাতায় লিখে রাখা কিছু কথা আর দু-ফোটা অশ্রুজল দিয়ে।কত সহজে তাইনা…
কি বোর্ডতো দেখতে পারছিনা- লিখবো কি ছাই!!!
বেঁচে থাকলে কোন একদিন হয়তো তোকে নিয়ে, তোর দুরন্তপনা নিয়ে তোর ভবঘুরে ছন্নছাড়া জীবন দু-খন্ড উপন্যাস লিখব।
সেদিন তো আর তুই ফোন করে উচ্ছসিত হয়ে বলবি না’তপন ভাই তুই-তো ভালই লিখিস।‘
তুই সবটুকু উজার করে তোর আপনজনদেরকে তোর বন্ধুদের তোর প্রিয় অপ্রিয় সবাইকে দিয়েছিস- কিন্তু বিনিময়ে কিছুই পাসনি। সব হারানো মানুষের দলে ছিলি তুই।
কিন্তু আজ দ্যাখ; বড় ভাই টোকিও থেকে ফোন করে কাদতে কাদতে বলল,শতাধিক বাঙালী-পাকিস্থানী তোকে হারিয়ে তোর লাশ বুকে জড়িয়ে হাউমাউ করে কাদছে। ভাই ভুলে গেছে এটা তার ভাই- মনে হচ্ছে তুই সবার ভাই। তোকে এত ভালবাসে মানুষ-সে ভাবতে পারেনি। সে ভেবেছিল; সবাই তোকে তুচ্ছ করে উপহাস করে ভাড় হিসেবে জানে।
যার সামনে কথা বলতে গিয় ভয়ে তোর কথা হারিয়ে যেত। যার বিরুদ্ধে ছি তোর অন্তহীন অভিযোগ- আবার অন্ধের মত ভাল বাসতি যাকে সেই কঠিন হৃদয়রে বড় ভাই আমার তোর পা জড়িয়ে ধরে কেদেছে।
ভাইরে তুই ক বুঝতে পারছিস? বলতে পারিস’ মৃত্যুর পরে মানুষ কি ভাবে?’ বলতে পারিস একবার ‘পরজনম বলে কিছু আছে কিনা?’
তুই কত কথাই না- জানতি। তোর কথার তোড়ে আর সবাই মুক হয়ে যেত। তুইতো সবার আগেই চলে গেলি;এখন তুই বলতে পারিস এমন অনেক গল্প ‘যা এই পৃথিবীর কেউ জানেনা।‘
আমরা এখন শুনব;কথা দিচ্ছ--একবারও বলবনা, ‘তরুন তুই ফোন রাখতো-ব্যাস্ত আছি।‘
স্কাইপি’তে তোর কল পেলে বিরক্ত হতাম। সেল ফোনে তোর নম্বর দেখলে ভভ্রু কুঞ্চিত হত। ফোন ধরেই বলতাম, কোন জরুরি কথা?
তুই বলতি ‘আমি তরুন। তুই কি ব্যাস্ত তপন ভাই? ব্যাস্ত থাকলে পরে ফোন দিই।‘
আমাকে নিয়ে কত তোর উচ্চাশা- কত সপ্ন ছিল তোর। শুনতে শুনতে লজ্জা পেতাম।
শুনতে শুনতে মাঝ পথে বলতাম, হয়েছে তুই একটু বেশী বাড়ায় বলিস।
তুই হাসতে হাসতে বলতি’ আরে তপন ভাই তুই ক আমি জানি। আমার সব ভায়েরাই অন্যরকম!’
আমি এখন শুনতে চাই খুব শুনতে চাই’ তোর ওইসব তথাকতথি ফালতু কথা।‘আমারমত অতি নগন্য মানুষকে আর কেউ এমন কর বলবে না’ তপন ভাই তুই অন্যরকম।‘
ভাইরে তোর মত এমন একজন প্রানোচ্ছল, তারুণ্যে ভরপুর, সব কষ্টকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবার মানসিকতা সম্পন্ন এমন বড় হৃদয়ের আমার অতিপ্রিয় মানুষকে কি করে শুইয়ে দিয়ে আসব গভীর মাটির অন্ধকার কারাগারে।
Piano Man | by Billy Joel
Sing us a song you're the piano man
Sing us a song tonight
Well we're all in the mood for a melody
And you've got us feeling alright
He says, "Bill, I believe this is killing me"
As a smile ran away from his face
"Well, I'm sure that I could be a movie star
If I could get out of this place"
And the waitress is practicing politics
As the businessmen slowly get stoned
Yes they're sharing a drink they call loneliness
But it's better than drinking alone…
Rakib Himon @ My Brother's departed soul - This single song he most listened in his abroad life.
(রাকিব হিমন আমাদের সবার ছোট ভাই)
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



