somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঋষি কাব্য

০৩ রা আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১০:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছেলেটা ঘুমের মধ্যে বদ্ধ ঘরে একাকি মরে পড়ে রইল! কেউ বলে স্ট্রোকে মৃত্যু, কেউ বলে, আত্মহত্যা, কেউ বলে পরিকল্পিত খুন।
সে ছিল একজন ট্রাভেলার, দুর্দান্ত ফটোগ্রাফার আর কবি।
মাত্র সাতদিন আগে লেখা তাঁর একটা কবিতা সাড়া জাগিয়েছিল ভীষন!
তাঁর লেখার শুরুটা ছিল এমন;
"আমি আসলে চেয়েছিলাম
মেট্রো স্টেশন হতে
যার ধ্বংসে কান্না ধরে রাখা যায় না!
(কিংবা টোল প্লাজা, ডাটা সেন্টার, সিটি কর্পোরেশনের ওয়েস্ট ডাম্পিং ট্রাক .. ব্লা ব্লা ব্লা)

“কিন্তু আমাকে ছাত্র করে পাঠালেন,
যে মরলে কান্না আসে না ,
যার রক্তে কোটি টাকার লোকসান হয় না ,
যে মরলে কেউ দেখতে আসেনা ,
রাষ্ট্রীয় ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় আসেনা আমার নাম,
যার লাশ মর্গে নিছক একটা সংখ্যা....

অথচ 'আমি কতো কি হতে চেয়েছিলাম.!”
*সংক্ষিপ্ত
- written by Rishi Kabbo, ২৫.০৭.২০২৪

মাত্র দিন আগে সে তাঁর ওয়ালে শেয়ার করল আরেকখানা অগ্নিঝড়া কবিতা;

এই শহরে পাখিদের ঘুম ভাঙ্গে গুলির শব্দে
এই শহরে ছাত্র পড়ে থাকে মগজ ভর্তি বারুদের গন্ধে

মস্তিষ্ক ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে শকুন এর গুলি
রক্তের দাবানলে ভেসে যাচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীরা

ফ্যাসিষ্ট কারা? স্বৈরাচার কে?
শকুন এর ভয়ে থাকে ঘরে কে ?
মায়ের বুকের আর্তনাদ-
হামার বেটাকে মারলু কেনো?
তৃষ্ণার্ত কালো র‍্যাব,
পানি লাগবে আর কারো?
* সংক্ষিপ্ত

র মাঝে তাঁর ফেসবুকওয়াল জুড়ে কোমল পেলব নারীদের শরীরের ফাঁক গলে আর বাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়ে ভরে উঠল কোটা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের উত্তাল মাতাল করা রক্তভেজা ছবি। যার প্রতিটা ছবি ঠাই নিবে নিশ্চিত ভবিষ্যত ইতিহাসের পাতায়।
এর পর থেকেই নাকি ভীষন মানসিক যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল সে। যে রাতে তাঁর শেষ প্রয়ানের ক্ষণ ঠিক হয়েছিল- সন্ধ্যেয় বাবাকে ফোন করে বলল, পকেটে টাকা নেই- ডাব খেতে ইচ্ছে করছে টাকা পাঠাও। বাবা তাঁর আদরের ছেলেকে সঙ্গে সঙ্গে বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দিল। সে যত ব্যস্তই থাকুক বাবা মায়ের ফোন রিসিভ করবেই। এর পর আর সে ফোন ধরে নি। সম্ভবত রুমের দরজা ভেঙ্গে তাঁর লাশ উদ্ধারের পরে, স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে বলে বাবা তড়িঘড়ি করে গ্রামে নিয়ে কাব্যের লাশ দাফন করে দেয়।

ঋষি কাব্য এটা তাঁর নিজের দেয়া নাম। "এক লেখককে বলেছিল, ঘুরাঘুরি নিয়ে তাঁর অনেক গল্প আছে, পুরো বাংলাদেশ কোন টাকা পয়সা খরচ ছাড়া ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা আছে। মানুষের বিচিত্র সব ভালবাসার আখ্যান আছে। তিনি যেন সেই গল্পটা লিখেন"।
কিন্তু সে নিজে যে কত বড় মাপের গল্পকার-লেখক সে তাঁর ছোট্ট এই আত্ম কথনেই বোঝা যায়।
সময় থাকলে পড়ে দেখুন;

শুভ সকাল ফেনী....

মার বয়স যখন ৪, তখন থেকে ২০১৭ অবধি আমি পুরোটা সময় ফেনী ছিলাম ।
আমি খুব ভুলে না করে থাকলে শুধু একবার ফ্যামিলির সাথে কক্স বাজার গেসিলাম ৪ রাত আর বড় মামার শশুর বাড়ি বগুড়ায় সপ্তাহ খানেক ছিলাম । এই ছাড়া আমি একটা রাত ও শহরের ঘরের বাহিরে ছিলাম না ।

তখন অবধি আমি কোনোদিন আমার পাশের শহর নোয়াখালি, কুমিল্লা,চিটাগাং ও যাই নাই ।
আর গত আট বছরে আমি দেশের ৬৪ জেলা চইষা বেড়াইসি । ইন্ডিয়ার ১৩ টা স্টেটের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরসি থাকসি....
একটা চা হাতে নিয়ে বিড়ি ধরানোর দূরত্ব থেকেও নেপাল,মালদ্বীপ,থাইল্যান্ড কিংবা ইন্দোনেশিয়া কাছে ।
আট বছরে আমি ৮০ দিন ও ফেনী ছিলাম না ।
আট বছর আগে আমি কোনোদিন চায়ের দোকানে পর্যন্ত আড্ডা দেই নাই ।
আর গত আট বছর এমন কোনো ভালো আড্ডা , বাজে আড্ডা বাদ নেই যেটা আমি রিচ করতে পারসি কিন্তু দেই নাই । যখন যা পারসি যা ইচ্ছে করসে, যা ভাল্লাগছে, যা করতে পারসি করে ফেলসি ।

আমার আট বছর আগের পৃথিবী আর গত আট বছরের পৃথিবী খুব প্যারালাল , খুব কনফ্লিক্টেড ।
ফেনী শহরে যারা আমার আশেপাশে ছিলো, কাছের ছিলো তারাও এখন আমাকে দেখে চিনতেই পারে না, নয়তো চিনলেও আগের ক্যারেকটারের সাথে ম্যাচ করতে পারেনা ।
কিছুদিন আগে একবার পাবলিক লাইব্রেরিতে অনেক বছর পর আমার খুব কাছের একটা বোনের সাথে দেখা হইসে । আমি তাকে কি কি বললাম সে প্যারা খেয়ে গেলো এই ছেলে এইইভাবে কথা বলে ক্যানো?
পাশে বসে ছিলাম । ২০ মিনিট পর সে হটাৎ চিনতে পারসে আমাকে । তারপর বলে "ওমা কিয়ারে কিয়া তুই নে , এ অবসতা কা তোর? " ( এমা কিরে তুই ? এই অবস্থা ক্যানো তোর?)
আট বছরে আগে একটা স্কুল ছিলো আমাদের "পথের পাঠশালা" নামে ওখানে বাচ্চাদের পড়াইতাম, পরাইতাম,খাওয়াইতাম ।
সারাদিন রক্ত নিয়ে দৌড়াইতাম ।
ঐ যে লোকটা যিনি রাত তিনটায় সদর হসপিটাল এর বারেন্দায় বসে আমাকে বলতেসিলো " বাবা ত্যুই ন থাইকলে আর মাইয়াগারে আইজ্জা আর বাঁচাইতাম হাইত্তামনা,আর কাছে কিচ্ছু নাই তোয়ারে দিবেরলাই " (বাবা তুমি না থাকলে আমার মেয়েটাকে আজকে বাঁচাইতে পারতাম না, আমার কাছে তো কিছু নাই তোমাকে দেওয়ার )
কিংবা ঐ লোক গুলা যারা ঝড় আসলেই আমাদের টিমের অপেক্ষায় বসে থাকতো ?
দিন রাত তখন কাটতো হসপিটালে, রেল স্টেশনে, রেড ক্রিসেন্টে নয়তো কোনো অজপাড়া উপকূল গ্রামে....
আর গত আট বছর?
সারাদিন রাস্তায় রাস্তায়, পাহাড়ে , জঙ্গলে, গ্রামে,হাওড়ে, সমুদ্রে কিংবা ঝর্ণায় ঘুরে কাটে । সারাদিন ছবি তুলে কাটে ।কিংবা মানুষ এর হাসিমুখ খুঁজে খুঁজে সময় যায় ।
সারাদিন ছবি রেডি করতে করতে সময় যায় । খাইতে বসেও ছবি রেডি করি কিংবা বিচ্ছিরি ভাবে কান্না পাইলেও ছবি রেডি করতে বসি । তাও মানুষ বকা দেয় ছবি দেই না ক্যানো?
আমার জীবনে কোনো কিছু নিয়েই রিগ্রেশন নাই । না আগের লাইফ নিয়ে না এখনকার লাইফ নিয়ে ।
শুধু মাঝে মাঝে একটু কান্না পায় যদি একটা প্রেমিকা থাকতো? কোলে মাথা রেখে ঘুমাইতাম?
যদি কটা বন্ধু থাকতো ? বইসা তাদের কাছে কান্না করতাম কিংবা হেসেখেলে সময় পার করে দিতাম?
কিংবা কয়টা কাছের সুন্দর মানুষ যাদের সাথে হেটে বেড়াইতাম ঘুরে বেড়াইতাম ?
দিন শেষে একটু শান্তি ই তো চাই? পৃথিবীর সব মানুষ এর এই একটা কমন ব্যাপার যে সবাই শান্তি চায়।

ক্রিমিনাল, ভালো মানুষ, খারাপ মানুষ, গরিব মানুষ, ধনী মানুষ সব্বাই শান্তি চায় । ভালো কাজ করে হোক কিংবা খারাপ কাজ করে ।
ঐ যে অঞ্জন এর গানের লাইন টা " সেই পৃথিবীতে বাঁচবো বলে যুদ্ধ করি রোজ, একটু খানি বাঁচার আশায় হাজার আপোশ "

কিংবা মৌসুমী দি যখন বলে, কোথায় গেলে শান্তি পাবো, বলো কোথায় গেলে?
অথচ শান্তি ডুবে যায় বন্যায়, পুড়ে যায় কিছু দিন পর পর এই শহরে জ্বলে উঠা আগুনের শিখায়, পিছনে পড়ে যায় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভবিক দৌড়ের সাথে, পিষে যায় বাসের চাকার নিচে পড়ে , তলিয়ে যায় ধর্মীয় দাঙ্গায়
কিংবা প্রেমিকার চোখে ডুবে যায়, প্রেমিকের এলো চুলে উড়ে যায় ,পরিবারের সিদ্ধান্তের নিচে পড়ে যায় , কখনো সমাজের ক্রুশে ঝুলে থাকে ।।।
কিংবা হ্যাপি প্রিটেন্ড করতে করতে হারায় যায় মহাকলে ।
আর কেউ সুদিন ফিরবেই এই অপেক্ষায় থেকে শান্তির দেখা পায় না আর।
তাও আমরা হটাৎ বলেই উঠি কাউকে " Be my Peace !"
লিখতে লাগছিলাম শুধু শুভ সকাল ফেনী, কি কি জানি লিখে ফেলসি...
Country Roads Take me to the Hell,the mountain, the Ocean, the GreenLand, the Iceland, the Desert ,the good places, the bad places,the Heaven.....
সুন্দর থাকেন, আশেপাশের সবটা সুন্দর রাখেন ।


ঋষি কব্যের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া বর্তমান ছাত্র আন্দোলনের কিছু ছবি শেয়ার করলাম;


*****
~ আকাশ ব্যানার্জীর নতুন ভিডিও শেয়ার করলাম এইসাথে।
*** তুমি কে আমি কে রাজাকার রাজাকার এই শ্লোগান নিয়ে যাদের বিশেষ চুলকানি আছে তারাও এই গানটা শুনবেন দয়া করে।
তুমি কে আমি কে (হার্ড রক -বেনামী গায়ক)
***
*সুপ্রিয় ব্লগারঃ আমি আমার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ এটুকুই করতে পারি- হয়তো এর থেকে বেশী নয় , সেটা একান্ত আমার অক্ষমতা বা ব্যর্থতা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০২৪ সকাল ১০:৩৩
১৩টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪৫


শেখ হাসিনার আজকের ভার্চুয়াল বক্তব্য: উপস্থাপনা, নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা ও জন-প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক The Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত একটি বিশেষ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের কনফারেন্সের বাংলা ভার্সন/ জননেত্রী বঙ্গবন্ধু কণ‍্যা শেখ হাসিনা ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২০


ল্লীর প্রেস কনফারেন্সে শেখ হাসিনা ,ইংরেজীতে তাঁর বক্তব্য রাখেন, পুরো বক্তব্যটি পাঠকের জন্য বাংলায় অনুবাদ করে দেয়া হলো-

Fcc South কে ধন্যবাদ জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বক্তব্য শুরু করেন।

বাংলাদেশকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×