somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আ মরি বাংলা ভাষা

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইয়ে ফেভিকল্‌কা মজ্‌বুৎ জোড়্‌ হ্যায়...

ছোটোবেলায় যখন বাংলামাধ্যম স্কুলে পড়তাম তখন আমাদের কাছের কিছু চেনা-পরিজনেরা আমার বাবা-মাকে বলেছিলেন যে, "ছেলেটাকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিলে পারতে, তাহলেই ভবিষ্যৎে কোনো না কোনো চাকরি পাকা "।
কলেজ জীবনে যখন সেন্ট্‌ জেভিয়ার্সে ঢুকলাম, তখন সেইসব চেনা-পরিজনেরা আমাকে বলেছিলেন, " সাবধান , ওই কলেজে কিন্তু সবকিছু ইংরেজীতে হ্য় , তুই ধরতে পারবি তো ?" তারপর যখন পশ্চিমবঙ্গের বাইরে চলে গেলাম , তখন তারা কি বলেছিলেন ঠিক মনে নেই। আর সাড়ে চার বছর আগে যখন একেবারে দেশের বাইরে চলে এলাম তখন তারা মনে হ্য় ঠোঁটে ফেভিকল্‌ আটকে বসে ছিলেন।


ভাষা এমন কথা বলে বোঝেরে সকলে...

ভাবা যায় আজ থেকে ঠিক ষাট বছর আগে এই দিনটিতে কি ঘটনাই না ঘটেছিল ! "ভাবা যায়" লিখলাম এই কারনে যে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমাদের মাতৃভাষা কতটা মাতৃদুগ্ধের সমান এই নিয়ে কমবেশি আমরা সবাই ধন্ধে পড়েছি। আমার নিজের ক্ষেত্রেই আমি বলতে পারি যে এ ব্যাপারে আমি খুবই কন্‌ফিউজ্‌ড। দেখলেন তো , হঠাৎ করে কিরকমভাবে একটা ইংরেজী শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে গেলো আমার লেখায়। এটাই হচ্ছে মুশকিল। বাংলায় কথা বলতে বলতে আমার অজান্তেই আমি ইংরেজী, হিন্দী ইত্যাদি ভাষার শব্দ হর্‌দম্‌ ব্যবহার করে থাকি। আবার যখন বাংলায় লিখতে যাই তখন আমি যেরকমভাবে কথা বলি ঠিক সেরকমভাবেই লিখতে চেষ্টা করি আর তার ফলে অনিবার্যভাবেই অন্য ভাষার শব্দরা আমার মাতৃভাষার কাঁটাতার লঙ্ঘন করে। দীর্ঘ দশবছর পশ্চিমবঙ্গের (পড়ুন কলকাতার) বাইরে থাকার ফলে হয়তো এই অভ্যাসটা বেড়ে গেছে কিন্তু কলকাতায় থাকাকালীনও যে খুব শুদ্ধভাবে বাংলা বলতাম বা লিখতাম তাও তো মনে পড়ে না। এও স্বীকার করতে দ্বিধা নেই যে অনেকসময়েই আমি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যভাষার শব্দ ব্যবহার করি , হয়তো একটু সতর্ক হলে সেটা এড়ানোও যায় কিন্তু তা আমি করি না। এর মানে কি আমি আমার মাতৃভাষাকে ভালোবাসিনা ? নিজেকে বারবার এই প্রশ্ন করেছি , কিন্তু আমার উত্তর আমাকে হতাশ করেনি। নিজের জন্মস্থান থেকে বহু দূরে বসে আমি বাংলাভাষা চর্চা করি আর তাতে যদি আমার আশেপাশের মানুষজনের ভাষা কিছুটা হলেও আমাকে প্রভাবিত করে তাতে আমার মাতৃভাষার কোনো ক্ষতি
হয় বলে আমি মনে করি না। জোর করে , অন্য কোনো ভাষার শব্দ ব্যবহার না করে , খুব সতর্ক হয়ে বাংলায় লেখা বা কথা বলা হয়তো এ জন্মে আমার আর হবে না কিন্তু তা বলে যখন দেখি কেউ আমার ভাষাকে বিকৃত করে লিখছে বা বলছে তখন মনটা খারাপ হয়ে যায়। কলকাতায় গেলে যখন আমার বাঙালী বন্ধুরা তাদের বাঙালী বন্ধুদের সাথে আমার পরিচয় করায় ইংরেজীতে আর সেই নতুন আলাপ হওয়া ছেলেটি বা মেয়েটি যখন আমার সঙ্গে ইংরেজীতেই কথা বলতে থাকে ( কি কারনে ঠিক বুঝে উঠতে পারি না , আমেরিকাতে থাকি বলে কি এমন হনু আমি যে আমার সাথে উৎকট আমেরিকান অ্যাক্‌সেন্টে কথা বলতে হবে ?) তখন খুব অবাক হয়ে আমি বাংলাতেই উত্তর দিতে থাকি , তাই স্বভাবতই আমাদের মধ্যে কথোপকথোনটা খুব একটা বেশিদুর এগোতে পারে না। আবার দুজন বাঙালী ছেলে নিজেদের মধ্যে যখন ইংরেজী বা হিন্দীতে গল্প করে তখন যদিও আমার খুবই হাসি পায় , কিন্তু এওতো সত্যি যে বাঙালী বলে যে তাদের বাংলাভাষাতেই গল্প করতে হবে, এই মাথার দিব্যিও তারা দেয়নি। এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে বাংলাদেশ বা পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে বাইরে বেরোলে আমাদের অন্য ভাষায় কথা বলতেই হবে কিন্তু তা বলে নিজের বা অন্যের ভাষার অসন্মান ঘটানো কোনোরকম ভাবেই কাম্য নয়, যেমন নয় নিজের ভাষা নিয়ে বড্ড বেশীরকমের কোনো বাড়াবাড়ি করাও।


বলা বারন...

আমাদের পাড়ার রতনদার বইয়ের দোকানে আমরা প্রায় প্রতিদিন আড্ডা মারতে যেতাম। বইতো বেশি কিনতে পারতাম না কিন্তু ওই আড্ডার ছুতোয় বেশ কিছু বই ওখানেই পড়ে নিতাম। রতনদা মানুষ খুব ভালো ছিলেন কিন্তু আমাদের এইরকমের বেয়াদবিতে খুব রেগে যেতেন মাঝে মাঝে। আর আমরাও রতনদাকে খচাতে খুব ভালোবাসতাম , বলা যায় ওটাই ছিলো আমাদের ফেভারিট্‌ পাস্‌ টাইম্‌। একদিন রতনদাকে খুব গম্ভীর্‌সে জিগ্যেস করেছিলাম, "রতনদা, বর্ণপরিচয়ের মানে বইটা এসেছে নাকি ? একটু দেখাও তো ?" এর উত্তরে রতনদা কি বলেছিলো তা এখানে নাই বা বললাম, কিন্তু ভয় হয়, সত্যি সত্যি এরকম দিন আসবে না তো ? রতনদার মতো কারুর কাছে আমারই মতন কেউ এইরকম প্রশ্ন করবে আর ভবিষ্যতের রতনদা সেই আগামিদিনের আমিকে ঐ বিশেষ বইটি এগিয়ে দেবে কোনো কিচ্ছু না বলে, আর কোথা থেকে একটা পুরোনো ( বেশি পুরোনো ?) দিনের বাংলা গান ভেসে আসবে - " কেন এমন, কবে হঠাৎ, কিসের হাওয়া, তখন বিকেল...বলা বারণ..."।

পুনশ্চ: কিছু ইংরেজী, হিন্দী ইত্যাদী বিদেশী শব্দ ইচ্ছাকৃত এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার লেখাটিতে ঢুকে পরেছে, আজকের এই বিশেষ দিনে যেটা ঠিক সমীচীন নয়। কিন্তু এ দোষ সম্পূর্ণ আমার, তাই এ জন্য আমায় যত পারেন গালি দিতে পারেন, ওদেরকে দয়া করে কিছু বলবেন না ।


Shibasish Dasgupta
20th February, 2012
Gainesville, Florida, USA.
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১২ ভোর ৬:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×