somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ! শিক্ষকদের জন্য আজ যা সত্য !

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এটা সত্যিই বেদনা দায়ক একটা বিষয় যে, যারা আমাদেরকে দেশকে, জাতিকে কিছু দিতে চাই তাদেরকে আমরা কতটা অবমূল্যায়ন করছি। মাস শেষে বাজার খরচ চালাতেই তাদের হিমশিম খেতে হয়, বাসা ভাড়া, সন্তানদের ভরণ পোষণ, চিকিৎসা ইত্যাদি তো বাদই দিলাম। যারা বলে ঢাবির শিক্ষকরা নানা রকম উপায়ে উপার্জন করে তারা ভালোভাবে দেখাতে পারবে না সেই উপার্জনের উৎস গুলো কী?
হ্যা মানছি , Specific কিছু শিক্ষক উপার্জন করে বিভিন্ন পার্ট টাইম ক্লাস নিয়ে, পার্ট টাইম ক্লাস নিতে গিয়ে তাদের একবার দৌড়াতে হয় নিজের লালিত স্বপ্নের ঢাবিতে যাকে ভালবাসে অন্তর থেকে, কিছু দিতে চাই জাতির বিবেক তৈরী করতে। আর একবার দৌড়াতে হয় ধানমণ্ডি, উত্তরা, বসুন্ধরার দিকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও।যান্ত্রিক এই নগরের রাস্তায় তাদেরকে রক্তকে ঘামে পরিণত হচ্ছে। প্রেস্টিজ রক্ষা করতে হয়তো কারো একটা গাড়ি আছে তাও তেল কেনার টাকা থাকে না। আর যার গাড়ি নেই, সে হয়তো ঢাবিতে আসছে ঢাবির গাড়িতে, যে গাড়ির টাইম ফিক্সড থাকে। কিন্তু যখন অন্য কোথাও ক্লাস নিতে হচ্ছে তখন তাকে আমার আপনার মতো লোকাল, সিটিং এই চড়তে হয়। কিন্তু ঢাবির একটি বৃহৎ শিক্ষক গোষ্টি সেই পার্ট টাইম ক্লাসটুকু নিয়ে যে উপার্জন করবে তাও পারছে না। কেন? কারন তার ডিপার্টমেন্ট তো জাতি গড়তে জানে, নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিতে পারে কিন্তু চাকরির বাজারে ধোপে টেকে না।
ভাইরে ঐ পেটের দায়েই আমার শিক্ষকদের আজ এই অবস্থা।

আর ঐ যে আপনি তাকে এলিট শ্রেণীর তকমা লাগিয়ে দিয়েছেন। বলছেন ঢাবির শিক্ষক, সেতো বিশাল সম্মান। আরে ভাই সম্মান ধুয়ে কি খাবার জোটে?

বাস্তব সত্য এই যে, প্রাইভেট ভার্সিটিতে এখন ঢাবির কিছু সিনিয়র শিক্ষকরা আর কচিৎ ডিপার্টমেন্টের টিচাররা ছাড়া ক্লাস নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। কারন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকেই এখন ভুরি ভুরি শিক্ষকের জন্ম হচ্ছে।

অনেকে বলেন, ঢাবির শিক্ষকেরা খাতা দেখে, পরীক্ষার হলে গার্ড
দিয়ে, বিভিন্ন সেমিনারে বক্তৃতা দিয়ে উপার্জন। কোন খোঁজ নিয়ে দেখেছেন সেই উপার্জনটা কতো। আমার মতো University Coaching Center চাঁপাবাজ শিক্ষকেরা ৪ মাস ক্লাস নিয়ে আর নোট, শীট বিক্রি করেই তার থেকে বেশি টাকা ইনকাম করে। আমার প্রশ্ন হলো জাতির বিবেক তৈরীর কারিগরদেরকে কেন পেটের দায়ে এদিক ওদিক ঘুরতে হবে? কেউ আমাকে একটু ব্যাখ্যা করে বলে যাবেন।
হ্যা আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের কচিৎ শিক্ষকদের ভিতরে একটা দিকে নোংরামি আছে যেটা সত্যিই কষ্ট দায়ক। সেটি হলো শিক্ষকদের দলীয় লবিং, তেলবাজি, চামবাজি, দলবাজি। ঢাবির শিক্ষকদের নিয়োগে দেখা যাচ্ছে অসচ্ছতা, প্রথম শ্রেণীতে ১২ তম, ১৫ তম রা এখন শিক্ষক হয়, কেন না তারা জন্মগতভাবেই টাকা পয়সাওয়ালা বা কোন মন্ত্রীর আত্মীয়স্বজন। যাদের কাছে ঢাবির শিক্ষকতা পেশাটা তাদের সম্মানকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং এটাকে তারা ব্যবহার করে সম্মানের শো পিচ হিসেবে । বিদেশে বিভিন্ন ডিগ্রি নিতে সুবিধা পাচ্ছে কতিপয় কিছু তেলবাজ শিক্ষকেরা যাদের নামে বিভিন্ন কেলেঙ্কারীর ঘটনা হর হামেশায় ঘটতে থাকে। মেয়ের মতো ছাত্রীকে যারা কুপ্রস্তাব দিতে দ্বিধাবোধ করে না। অনেক মেয়ে লোক লজ্জার ভয়ে তা বলতেও পারে না। ক্লাসে তারা আর কী পড়াবেন? যার কারনেই আজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের কাছে আজ কমন প্রশ্ন। ঢাবির শিক্ষক অথচ তিনি ক্লাস নেন যেন প্রাইমারীর, হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের। ভাবতেই ঘৃণাবোধ হয় এই অসভ্য দলীয়পনায়।

কিন্তু প্রথম শ্রেণীতে প্রথম, দ্বিতীয় হয়েও শিক্ষক হতে পারছে না কারন তাদের নেই টাকা পয়সা। নেই মন্থ্রীর ফোন, নেই দলীয় লেজুড়বৃত্তি । না নিলেই নয় এই জন্য এখনও লোক দেখানোর জন্যে নেওয়া হচ্ছে ।কিন্তু শিক্ষক হওয়ার পরে তারা কিন্তু ডিগ্রি নিতে ছুটি পাচ্ছে না। কেন ? কারন তারা দলীয় লেজুড় বৃত্তিতে নেই।সততাকে টিকিয়ে রাখতে তারা না পারছে ওকূল ধরতে না পারছে একূল ধরতে। সত্যতা যাচাই করতে সৎ শিক্ষকদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন, নিজের বিভাগেও খোঁজ নিতে পারেন।
আমার সহজ কিছু প্রশ্ন,
জাতির বিবেক তৈরীর কারিগরদের কেন শ্রেণীকক্ষে বসে টাকার কথা ভাবতে হবে, কেন টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে ল্যবিএইডে যেয়ে টাকা দিতে না পারায় ভর্তি হতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে। এক শ্রেণীর ভণ্ড লোকে রা আমাদের যা বোঝাচ্ছে, আমরা তাই বুঝছি, শুনছি। আমরা বুঝতে চাই না, শুনতে চাই না। চাইলেই এর সমাধান করা যায়। কারন ঢাবি আজও ঢাবি
শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য কী আজ তারা অসভ্যের মতো লাঠি নিয়ে আন্দোলন করবে???

নিজের বিবেকের কাছে কেন প্রশ্ন করছি না?
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বেজন্মা

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২১ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪১


হু বেজন্মা কথা শুনার পর
আমি বিরক্ত মনে করতাম
কিন্তু বেজন্মা কথাটা সত্যই
স্রোতের মতো প্রমান হচ্ছে-
খুন ধর্ষণ করার পশুত্বকে
বলে ওঠে বেজন্মা ক্যান্সার;
ক্যান্সারের শেষপরিণতি মৃত্যু
তেমনী বেজন্মার হোক মৃত্যু-
চাই না এই বেজন্মাদের বাসস্থান
আসুন রুখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো থাকো ছোট্ট মা এই অনিরাপদ শহরে

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৫




মাঝে মাঝেই মনে হয়, পৃথিবীতে আমি যদি সত্যি কাউকে নিঃশর্ত ভালোবেসে থাকি, তবে সে আমার মেয়ে।
ওকে প্রথমবার কোলে নেয়ার দিনটার কথা আমাকে আবেগ প্রবণ করে তোলে ছোট্ট একটা উষ্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

খালাশ

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২১ শে মে, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬

ছবি : এ আই

জোর জবরদস্তি,
উঠিত লিঙ্গের দুই মিনিটের সুখ
তারপর ???
গরম, মাথা গরম।
কোপ, কল্লা মাথা আলাদা,
শেষ, নিথর নিশ্চুপ দেহ,
খণ্ডিত ছিন্নভিন্ন।

লাল রক্ত কালচে হওয়ার আগেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র কেন রামিসাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ?

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২১ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:১০


সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে যে গভীর ও দমবন্ধ করা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা কোনো কাল্পনিক ভীতি বা বিচ্ছিন্ন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসার শিশু আবদুল্লাহর হত্যার বিচার কি হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


একটা ১০ বছরের বাচ্চা, যে মাত্র একদিন আগে ফোনে মায়ের কাছে ২৫০ টাকার চকলেট খাওয়ার আবদার করেছিল, সে হুট করে বাথরুমের ভেণ্টলেটরে ঝুলে আত্মহত্যা করতে পারে এই গল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×