গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদিত হয়েছে। এতে গ্রেড ভেদে সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের মূল বেতন ৯১ থেকে ১০১ শতাংশ বেড়েছে।
এই বেতন বাড়ানোর ফলে যদি ঘুষ কমে যায়, তাহলে লাভ আমার , আপনার এবং দেশের। তখন এই অতিরিক্ত ১৫০০০ কোটি টাকা খুবই তুচ্ছ লাগবে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, অনেক শিক্ষিত এবং সৎ লোক এখন সরকারি চাকরি তে ঢুকবে। আশা করছি, দেশের পরিবর্তন এখান থেকেই শুরু হবে ।
গত অর্থবছরে (২০১৪-১৫) বেতন-ভাতা খাতে সরকারের খরচ হয়েছে ৪৪ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। বেতন বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে (২০১৫-১৬) সরকারের অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৯০৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা। বেতন দ্বিগুন না বাড়লেও ৩৫% তো বেড়েছে ! নিঃসন্দেহে বাজারে মূল্যস্ফীতি কমপক্ষে ২০-২৫% বেড়ে যাবে।
এখন সমস্যা নেই। নির্জিব জনতা হয়েছে। তারা সরকারকে কর বাড়িয়ে দিবেন। জনগন বাদুড়-শোষা হয়ে যাবে। কিন্তু কেউ নেই প্রতিবাদ করার। প্রতিবাদ মানেই তো রাজদ্রোহীতা। রাজদ্রোহীতা মানেই মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো অনির্দিস্ট কালের জন্য জেল। জেল মানেই জীবনের আর কোনো নিরাপত্বা নেই। তাই হীরক রাজার দেশে রাজ কর্মচারী ও রাজার সুখের জন্য সব ই করবেন। না করলে জেল ধোলাই। গুম ধোলাই। ক্রসফায়ার ধোলাই।
সরকারের আয় বাড়াতে সাধারণ জনগণের উপর বাড়বে করের বোঝা, যা বহন করতে গিয়ে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাবে তারা। কারণ, তারা বাড়তি কর দিতে বাধ্য থাকলেও রাষ্ট্র পক্ষ থেকে তাদের জন্য কোন সামাজিক নিরাপত্তার সুযোগ নেই। কর ফাকি দিলে জেল ও জরিমানা হবে। এজন্য আরও জেলখানা বানানো দরকার। সেখানে বদ্ধ ঘরে থাকলেও অন্তত জেল জরিমানার হাত থেকে বাচবে অসহায় জনগণ !
"খসড়া হিসাব করে দেখেছি, ৭০ হাজার টাকা মূল বেতনের কোনো চাকুরে পূর্ণ পেনশন সমর্পণ করলে প্রায় ১ কোটি টাকা পাবেন। এটা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, সন্দেহ নেই। " অথচ লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত বেকার সরকারী চাকুরি প্রার্থীদের এর অর্ধেকেরও কমব্যায়ে অন্তঃত অস্থায়ি চাকরি মিলত!!
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



