somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

থাবা বাবা ও আমার অনুভূতি

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথমেই বলে রাখি আমার এ পোস্টটি কারো ধর্মীয় অনুভূতি বা দেশ প্রেমে আঘাত করার জন্য নয়। কোন উন্নত মস্তিস্কের কেউ যদি এর ভেতর কোন দৈত অর্থ পান তবে তা তার নিজ দায়িত্বে খুজঁবেন।

যেকোন মৃত্যুই দুঃখ্যের, বেদনার। আর সে মৃত্যু যদি হয় অকালে তবে তা আরো কষ্টের। আমি থাবা বাবার প্রয়াণে তার শোকাহত পরিবারকে জানাই সমবেদনা।

কর্মব্যস্ততার কারনে ইদানিং পোস্ট করা হয়না। কিন্তু ব্লগে নিয়োমিত আসি এবং পড়ি। আজ সকালে থাবা বাবার প্রয়াণের খবর পেয়ে তার লেখাগুলো সব পড়লাম। উনি ব্লগ লিখছেন ৩ বছর ৩ মাস ধরে। এ সময় ধরে তিনি লিখেছেন মাত্র ১১টি। যা সময়ের হিসাবে কম। অর্থাৎ তিনি নিয়মিত ব্লগার ছিলেন না। আমার কথা নয় পরিসংখ্যান বলছে। সময় অনুপাতে তিনি মন্তব্যও করেছেন অনেক কম। তাকে বিভিন্ন ব্লগার যেভাবে নাস্তিক উপাধিতে ভূষিত করে গালিগালাজ করছে, থাবা বাবার লেখার ভেতর আমি সে রকম কোন কিছু পেলাম না। হতে পারে আমার অজ্ঞতা। খুজে খুজে কিছু মন্তব্যও পড়লাম। কিন্তু দেখলাম নাস্তিক্যের বিচারে সে খুবই নিচু অবস্থানে ছিল। তারচেয়ে অনেক বড় বড় গোড়া নাস্তিক এখনো বহাল তবিয়াতে আছে। নাস্তিক হওয়ার করনে এসব বড় বড় নাসিতকরা যদি খুনের শিকার না হন তবে থাবা বাবার খুন হওয়ার কথা না। এটাই সাধারণ যুক্তি।

তবে কেন খুন হলেন? এর উত্তর দেয়ার আমি কেউ না। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করবো না। আমার বক্তব্য হলো, যে কোন বিষয় সীমার ভেতর থাকা উচিত। সভ্যতা আমাদের তাই শিক্ষা দেয়। ইদানিং ব্লগে আসলে দেখা যায় শুধুই কাদা ছোড়া ছুড়ি। কিছু ধর্মান্ধ ও কিছু ধর্ম বিদ্যেশি একটি গ্রুপ আর একটি গ্রুপের পেছনে লেগে আছে। মজার বিষয় হলো দু'টি গ্রুপই নিজেদের খুবই সভ্য হিসাবে প্রমান করতে চায়। আমার কথা হলো আপনি যদি আপনার ভেতরের পশুকে দমন করতে না পারেন তবে কোন সভ্যতার বড়াই করেন। কি করে নিজেকে সভ্য দাবি করেন?

একজন মানুষ যখন মৃত্যু বরণ করে তখন গ্রামের একজন অশিক্ষত মানুষও তো মৃতের সব অপরাধ ক্ষমা করে দেয়। অথচ সামু একটি ব্লগ যেখানে শিক্ষত মানুষের মিলন মেলা সেখানে একজন সহব্লগারের মৃত্যুতে কিছু ব্লগার যে ধরনের উল্লাশ প্রকাশ করছে তা কোন সভ্য বা কোন ধার্মীকতার প্রকাশ আমি বুঝিনা। আমার খুবই লজ্জা লাগে।

ব্লগের যারা মডারেটরের ভূমিকায় আছেন তাদের উচিত অংকুরেই এ ধরনের অসভ্যতার রাস টেনে ধরা। অন্যথায় সেদিন বেশি দুরে নয়, যেদিন এই ব্লগেই ঠাই করে নেবে মৃত্যুর উল্লাস। ধার্মিকরা মরবে নাস্তিকরা উল্লাস করবে, বা নাস্তিকরা মরবে ধার্মিকরা উল্লাস করবে। সব করতে পারার নাম গনতন্ত্র নয়। কোন কাজ করার আগে অন্যের স্বার্থ দেখাই গনতন্ত্র।

আমার একজনকে ভাললাগেনা বলে আমি তাকে আমার ইচ্ছামতো গালমন্দ করার অধিকার রাখিনা। এটাই সভ্যতা আমাদের শেখায়, গণতন্ত্রও আমাদের এটাই শেখায়। একথা সবার জন্য। আমি কারো দর্শন পছন্দ করিনা বলে তাকে যা ইচ্ছা তাই বলতে পারিনা। আবার আমি ধর্ম মানি না বলে যারা ধর্ম মানে তাদের অনুভূতিতে আঘাত করতে পরি না।

যারা এ কাজ করে তরা যেমন দোষী তেমনি সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে যারা এ অপরাধ করার জন্য সহযোগিতা করে তারাও সমান দোষী। অতএব, এই ব্লগের যারা মডারেটর তাদের উচিত নেংরামী বন্ধে কঠোর হওয়া। নয়তো দায় এড়ানো যাবে না।

আজকে যদি থাবা বাবার খুন ব্লগ লেখার কারনে হয়ে থাকে তবে সে খুনের দায় সামান্যতম হলেও সামুর কাঁধে যায়। কারন তার ব্লগিং এর প্লাটর্ফম ছিল সামু। এ মৃত্যু ঠেকাতে সামু কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছিল? সে কি রাস টেনেছিল? আজ যুক্তি দিয়ে অনেক দায় এড়াতে পারবেন। কিন্তু বিবেকের দায় কিভাবে এড়াবেন?

এখনো সময় আছে নোংরামী বন্ধে জোরালো পদক্ষেপ নিন। পক্ষপাতিত্ব বা উস্কানিতে সহযোগিতা নয়; নিরোপেক্ষ অবস্থান নিন। এর সাথে আপনাদের বানিজ্যিক ভাবমূর্তিও জড়িত।

সব শেষে থাবা বাবার খুনের তীব্র নিন্দা জানাই। খুনিদের পাকড়াও ও দ্রুত বিচার চাই। সেই সাথে মৃতের আত্মার জন্য শান্তি কামনা করে সবাইকে জানাজায় অংশগ্রহণের আহ্বন জানাচ্ছি।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশে AI, গণমাধ্যম, এবং জনস্বার্থের প্রশ্ন

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৩২

বাংলাদেশে AI নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু “নতুন প্রযুক্তি” নিয়ে উত্তেজনা বা ভয় নয়। এখন বিষয়টা অনেক বড়। AI ধীরে ধীরে গণমাধ্যম, সরকারি কাজ, জনবিশ্বাস, ভাষা, এবং নীতিনির্ধারণের অংশ হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাল্যবিবাহে আমারও আপত্তি নেই, তবে…(একটু প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য)

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৩০



১. প্রথমেই সেসব ফেসবুক যোদ্ধাদের কাছে প্রশ্ন, যারা লুবাবা‘র বাল্যবিবাহ নিয়ে খুব উৎসাহ দিচ্ছেন, তেনারা নিজেদের ১৪/১৫ বছরের কন্যা সন্তানকে বিয়ে দিবেন কিনা। বিয়ে মানে কিন্তু শুধু জীবনসঙ্গীর সাথে এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন ওরফে সংবিধান সালাহউদ্দিন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০


ট্রেইন্ড সালাউদ্দিন ওরফে শিলং সালাউদ্দিন যিনি দীর্ঘসময় ভারতের তত্ত্বাবধানে শিলংয়ে সংবিধানের ওপর পিএইচডি করেছেন ফলে উনি এখন সংবিধান সালাহউদ্দিন যার সুফল এখন আমরা পেতে চলেছি। ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার বেলায় নীতি, তোমার বেলায় রাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১২


২০২৪-এর গণ-আন্দোলনে বলপ্রয়োগ ও গণহত্যার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলা হয়েছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-৪

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৪২



এ যুদ্ধে ইরান ইতোমধ্যেই একশো বছর পিছনে চলে গেছে। ইরানের খবর সেভাবে আমরা পাই না। কারণ, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদে জর্জরিত বিপদজনক, অস্বাভাবিক দেশ। নিষিদ্ধ দেশই বলা যায়। আইনের শাসন বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×