somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুরনো কথাবার্তা

২২ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফুটবল ফুটো কইরা দৌড়ানোর যে অভ্যাসটা আমার বাপ দাদাগো আছিলো তার সঙ্গে মিল খায় তোমাগো ছটফটানি। এই ধরো 'পয়লা বৈশাখে ইলিশ খাইয়েন না' এমন বক্তব্য দিয়া তোমরা তোমাগো খাওন দাওনের ম্যানু রাস্তায় রাস্তায় ঝুলাইয়া দিছো নাকি শুনলাম। যাক এক উছিলায় তোমাগো খাওনের ম্যানু ফলো করার সুযোগ খুইজেঁ পাইলাম। সমস্যা হইয়া দাঁড়াইলো আমার বউ আর ইলিশ। বউ নাকি কিছুদিন আগে বহু কষ্টে টাকা জমায়ে একখান ইলিশ কিন্না বরফে রাখছিলো। চেতার লগে বউ ইলিশ আইনা সামনে রাখে। অনেকক্ষণ পরীক্ষা নিরীক্ষা কইরা বুঝতে পারি' ইহা জাটকা না, আবার পেটে ডিমও নাই। এহন কথা হইলো বাঁচামু কারে? বউয়ের অনুরোধ? ইলিশ? খাওনের ম্যানু? নাকি আমনেগরে? বুঝবার পারতেছি না।

তয় কথা হইলো একদিন গেছিলাম কাঁঠালতলার সার্কাসে। চেনাজানা একজন ভাঁড়, সাহিত্যিক সম্বোধন কইরা খবর জানতে চাইলো আমার। একটু মুচকি হাইসা তারে বুঝাইতে চাইছি কপালে চাপিলা পান্তা জুটে নাই। সম্ভবত এটাও বুঝাইতে চাইছি নির্দিষ্ট তাঁবুখানা হয়তো রাইতের আন্ধারে অপহরণের সুযোগ করে নিছে কেউ। উনিও হয়তো আমারে নিয়া ভাইবা নিছেন, অমন সুন্দরীর লগে চিলিক চিলিক খেললে কেউ সাইধা আইসা খাওয়াইবো না। অবশেষে ভাঁড়ের ভাবনাটারে সফল কইরা কাঁঠালতলা ত্যাগ করি। এটা সবসময়ই করি, অন্যের চিন্তাটারে সফল করার সুযোগ থাকে ভালো।

একবার মধুর লগে তুলসীপাতা কচলাইয়া রস মিশাইয়া খাইতে দিছিলো মায়। ঘুম থেইকা উইঠা চোখ কচলানোর আগেই সাদা রঙের ডাট ভাঙা কাপে দিতো। এক ঢোকে না গিললে স্বাদের একখান ধমক খাইতাম। আর দাদু গলায় ঝুলাইয়া দিছিলো শিশার চান। যখন তখন চুইষে খাওনের জন্যে। এইসবে নাকি তোতলানি কমে। আদৌ কমেছে কিনা, জানিনা। কমলে জিহ্বাটা পাতলা হইতো মনে হয়। তাও হয় নাই। এ কারণেই বোধহয় কোনো কথার রিয়েক্ট হুট কইরা কইতে পারি না। আর এ না কওনের কারণেই অনেকেই আমারে দুর্বল ভাইবা বাঁশ দেওনের চেষ্টা লাগায়। ইদানিং আমারো বাঁশ নিতে ভাল্লাগে। বাঁশের তৈরি মানে বায়োলোজিক্যাল একখান দালান বানাইয়া বিশ্বরেকর্ড গড়মু যেমনি হোক।

এমনিতে কানা হইবার কারণে ঘটনা দেখার চাইতে শুনতে কম্পোর্ট ফিল করতাম। একবার কথা শুনতে গিয়া, হু বলার কারণে কানে এহেন জোরে টাস্কি মারেন আমার জেঠামশাই। তৎফল আমাকে দীর্ঘ ঊনিশ দিন সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেখতে হইছিল। পরে জানতে পারলাম সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দেখা আমার বাড়তি শাস্তির মধ্যে পড়েছে। তাতে কোনো কষ্ট পাইছি বলে মনে হয়না। কারণ এ ঊনিশ দিনে দেশের কোনো অঘটনের নিউজ কানে আসে নাই। যার জন্য আমার হৃদরোগের উন্নতিতে ভাটা পড়ছিলো। আরেকটা ব্যাপার জেঠামশাই হয়তো জানতেন না 'কানারা মাঝে মাঝে দেন্ধাও হয়'। জেঠামশাইর এ অঙ্গতাকেই নিজের ক্রেডিট ভাইবা চুমু খাইছিলাম নরম জাগা দেইখা। ঐ নরম জাগা ক্যামনে শক্ত হইলো তার গল্প আরেকদিন। আরেক বয়ানে।

হাসপাতালের সুইপার হুমায়ুন একবার কইছিলো 'দাদা, হাসপাতালে এতো ঘন ঘন আসেন ক্যান? ঐদিন আমি তারে কিছুই বুঝাইতে পারি নাই। ঠোঁটের লগে ঠোঁট ঘসাইয়া জিহ্বা দিয়া ঠেস মাইরা ঢুইকা গেছিলাম ডাক্তারের সেবা পাওনের লাইগা। প্রতিদিনই এমোন করি। হুমায়ুন কিছু কইতে চায়। অয় আমার ঠোঁটের ঘষাঘষি দেইখা চোখ নামায়া আনে। আর আমি রোগী সাইজা ঢুইকা পড়ি। এরপর আর বাইর হইতে পারি নাই।

এহন তোমরা যেহানে ফকফক কইরা উইড়া বেড়াও, ঐহানে আগে ময়নার ঠোঁট দিয়া গান গাইতো শংকর। শংকর মাঝে মাঝে তোমগো লগে মারবেল খেইল্লা মাথা ঝাকাইতো। তার লগে লগে তোমরা হাততালি দিতা। শংকর হারাইয়া যাওনের পর তোমাগরে উইড়া বেড়াইতে দেখছি। শংকরের বুঝনের দরকার আছিলো, তোমাগো এক একটা হাততালি ছিলো শংকরের জন্য মরণ কামনা। তয় শংকর না বুইঝা নিলেও আমি ঠিকই বুইঝা নিছি। আমি হারায়া যাওনের আগে তোমাগরে একটা কোল বালিশ দিয়া যামু।






সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:১৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×