একটি রিসার্চে বের হয়েছে মসত্দিষ্কের আলাদা কিছু বিশেষ কোষ আলাদা রকম আচরন করে যদি এই বিখ্যাতদের চিনতে পারে। যারা প্রায় ডজনখানেক ছবি বা সিনেমা দেখে ফেলেছে তাদের মসত্দিস্ক বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা পেয়েছেন সেলিব্রেটি, ল্যান্ডমার্ক, পশুপাখী বা বিভিন্ন বিষয়ের জন্য কিছু আলাদা কোষ আলাদা রকম কাজ করে। উক্ত কোষগুলো সেলিব্রেটি মনে করতে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন আচরন করে। যেমন, হল ব্যারীকে মনে করতে গিয়ে প্রথমেই কোষগুলো খুঁজে বের করেছে "ক্যাটওম্যানে" হলব্যারীর পরা কাস্টিউম। অথবা খুঁজে বের করেছে "জেমস বন্ড" ছবিতে তার বিকিনী পরে সমুদ্র থেকে উঠে আসার দৃশ্য। মনে করার ব্যপারটি একেক জনের একেক রকম হতে পারে। সেটি নির্ভর করে সে নির্দিষ্ট কোন বিষয়ের কোন ব্যপারটা দেখে খুব বেশী আকৃষ্ট হয়েছে তার উপর।
পরীৰা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা মসত্দিস্কের এমন কিছু কোষ আবিস্কার করেছেন যারা শুধু মানুষ যা হৃদয়ঙ্গম করে শুধু তা মনে করার কাজেই ব্যবহৃত হয় এবং সেটা তারা বেশ ভালোভাবেই মনে করতে পারে। পড়ালেখা বা কাজ ভুলে যাওয়ার মতো ঘটনা এখানে ঘটে না। কথাগুলো বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উক্ত প্রজেক্টের সিনিয়র ইনভেষ্টিগেটর ডা: ফ্রেড। তিনি আরো বলেন, এই ব্রেন সেলের(কোষ) খুঁজাখুঁজির ব্যপারটার মানে এই না যে একটি বিশেষ ব্যাক্তিত্য বা বিষয় মনে রাখার কাজটি একটি মাত্র ব্রেন সেল করে থাকে। যেমন, উদাহরনস্বরূপ- জেনিফার লোপেজকে মনে রাখার জন্য ব্রেনকে যে কিছু কোড তৈরী করতে হয় তা শুধু মাত্র একটি সেল করতে পারে না। এটা সম্ভবই না।
"এটা আসলেই মজার ব্যাপার যে, কিছু নির্দিষ্ট নিউরন স্পেশাল কিছু বিষয়ের উপর স্পেশাল আচরন করে।" কথাগুলো বলেন একই প্রজেক্টের আরেকজন সিনিয়র কর্মকর্তা ক্রিষ্টোফার নক, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি। তিনি বলেন, "মানুষ সাধারন ভাবে যা চিনত্দা করে তার থেকে এটি কিন্তু সম্পূর্ন আলাদা। তাই 'সাধারন চিনত্দা করা' ও 'স্পেশাল কিছু মনে করা' এই দু'টোকে গুলিয়ে ফেললে হবে না।"
জানা গেছে উক্ত সেলগুলো তার নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হয় না। সেলগুলো আবার একক সেলিব্রেটি মনে করার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে। পাশাপাশি অনেকগুলো সেলিব্রেটিকে মনে করতে গেলে তারা তেমন কোন সাড়া দেয় না। সেটা সেলগুলোর কাছে অন্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। যেমন ব্র্যাড পিট ও জেনিফার এইন্সটনের একত্রিত ছবি- যারা পরে বিবাহ বিচ্ছেদ করেছিলো যখন দেখানো হয় তখন উক্ত সেলগুলোকে কোন রকম সাড়া দিতে দেখা যায়নি।
উক্ত প্রোজেক্টের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায়, মানুষ তার মসত্দিষ্ককে খুব বেশী কম খাটায়। এক গবেষনায় দেখা গেছে মানুষ মসত্দিষ্কের মাত্র 40% খাটায় আর বাকি 60% অংশ চুপচাপ থাকে। আরও সুন্দর করে বললে বলা যায়, খুব কম মানুষই আছে যারা মসত্দিষ্কের এই 40% পুরোপুরি খাটায়!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


