আমার অফিসে বিশেষ কেউ কফি খেতে আসলে; আমি সবসময়য় চাইবো, আমার সবচেয়ে স্মার্ট পিয়নটা কফি পরিবেশনকরুক
একটা ল্যারল্যারা পিয়ন কাঁপতে কাঁপতে ট্রে নিয়েআসবে... এটা আমি চাইবো না আপনিও চাইবেন না। একটা নতুন থিওরী বলি; মনে করেন আপনি কফি খেতে আসলেন। দরুন আপনাকে কফি পরিবেশন করছে এমন একটা ছেলে, যার একটা পা খোঁড়া... বা, হাতের ২টা আঙুল নেই আমি সাথে সাথে বললাম, “এই ছেলেটা রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে বেঁচে এসেছে দুর্ঘটনার পর সে কোথাও কাজ পাচ্ছিলো না... তাই সে এখন আমাদের সাথে কাজ করে” আপনি কি মুগ্ধ হবেন না সেই অফিসের উপর?মনে মনে কি ভাব্বেন না, ওয়াও হ্যা জিডিপিতে অবদান রাখান জন্য, প্রোডাক্টিভিটি বাড়ানো ছাড়াও কর্পোরেটদের অনেক কিছু করার আছে আমি যদি আজকে রবি বা গ্রামীণ ফোন বা ইউনিলিভারে বা স্কয়ারে যেয়ে কফি খেতে খেতে এরকম দৃশ্য দেখি, ট্রাস্ট মি আমি মুগ্ধ হয়ে বের হবো সেই অফিস থেকে একটা সিম্পল ঘটনা, সেই কর্পোরেটের উপর নিমিষেই আমার আউট-লুক চেইঞ্জ করে দিবে যে আমি আগে চাইতাম গেস্ট আসলে স্মার্ট পিয়নটা চা নিয়ে আসুক... সেই আমিই এখন চাইবো গেস্ট আসলে যেনও সেই খোঁড়া রবিউল চা নিয়ে আসে। এটাকে অহংকার বলে না... এটাকে বলে গর্ব
আরেকটা গল্প বলি, পাবনা মানসিক হাসপাতালে ২৩ জন রোগী আছে যারা ভালোহয়ে গেছে কিন্তু তাদের আত্মীয়, তাদেরকে ভুল ঠিকানা দিয়ে এখানে ভর্তি করিয়ে চলে গিয়েছে ভালো হওয়ার পর, এরা আর বাসায় ফিরতে পারছে না এটা ১ দিন ২ দিন আগের কথাবলছি না। গত ১১ বছরের কথা বলছি গত ১১ বছর থেকে প্রতিদিন জানালায় দাঁড়িয়ে থাকে, তার আত্মীয় আসবে। ২৩ জনের মধ্যে ১ জন ইতিমধ্যে মারাও গেছেন বাকিদের জন্য কোর্টে পিটিশন করা হলো... পাবনা মানসিক হাসপাতাল বলছেন, “আমরা কি করবো ভাই? কেউ যদি এদের নিতে আসে, আমরা দিয়ে দিবো... এছাড়া আমি কি করতে পারি?” কোর্টের রায় নিলাম, ‘কেউ এদের পুনর্বাসন করতে চাইলে দিবেন তাদেরকে এদের হাতে?’ হাসপাতালের ব্যবস্থাপক বললেন, “খুশি মনে দিবো...কারণ তাতে আমার ২২ টা বেড খালি হবে... ২২ টা নতুন রোগী আসতে পারবে” কাজ এতোটুকু গুছিয়ে এনেছি আমরা... বাকিটা আমি একা পারছি না ২২ জনের ১ জনকে না হয় আমি
আমার অফিসে দারোয়ানের চাকরি দিতে পারব কেউ আমার অফিসে বেড়াতে আসলে আমি গর্ব করে তাকে ‘পাবনার সেই ২২ জনের ঘটনা তো শুনেছেন নাকি? তার ১ জন কিন্তু আমার অফিসে জব করে’ ... বলার লোভ আমি সামলাতে পারছি না এটাকে অহংকার বলে না... এটাকে বলে গর্ব
প্রপার লিগ্যাল পেপারস, মেডিক্যাল পেপারসসহ রিলিজ করার ব্যবস্থা আমরাকরে রেখেছি বাকিটা, আপনাদের হাতে। ২২ টা কর্পোরেট হাউজ কি পাবো না? এই পোস্ট যখন লিখছি, তখনও তারা জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছেআমি শিওর আপনি যদি যেয়ে বলেন, “মনসুর সাহেব বের হয়ে আসেন... আমি আপনার আত্মীয়”বিশ্বাস রাখেন সে তার বেডের নিচে তার হাতব্যাগটা গুছিয়েই রেখেছে ২ মিনিট দেরি হবে না তার চোখ মুছতে মুছতে বের হয়ে আসতে শুধু ডাক দেয়াটা বাকি।
( পুরো লেখাটি আরিফ আর হোসেন ফেসবুক থেকে নেয়া। আপনারা যদি কেউ সহযোগীতা করতে চান তবে উনার ফেবু অ্যাকাউন্ট দেয়া হলো নিচেঃ
ফেবুলিংকঃhttps://facebook.com/arifRhossain.TheVoices )

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




