somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসহায় বাংলাদেশ.. অসহায় জনগন

২৪ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকের এই আধুনিক বিশ্ব সমাজ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের মত এত দূর্ভাগা, অসহায় জাতি মনে হয় আর একটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। বিশ্ব যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে আমাদেরকে টেনে দরে রাখছে, এক অশুভশক্তি। তা হল আমাদের অপরিপক্ব রাজনীতি। বারবার এই অশুভ শক্তি আমাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালেও, আমরা জাতি হিসেবে এতই অসংগঠিত, অপরিনামদর্শী যে, আমরা যেনে শুনে বারবার অাগুনে পা দিয়েই যাচ্ছি।
আমাদের রাজনীতি কে এমনভাবে দ্বিজাতিতত্ত্বের মতো দ্বিরাজনীতিতে পরিনীতি করেছে ও বর্তমান সমাজকে এমনভাবে দ্বিখন্ডিত করেছে, বাবা- ছেলে, ভাই-ভাই, চাচা - ভাতিজা কে সামনাসামনি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এমন এক ভীতকর পরিবেশ তৈরি করেছে , বাবা ছেলের, ভাই ভাইর , ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে।
দ্বিরাজনীতি ব্যবস্থা দেশকে এমন এক আবদ্ধ ঘরে আটকে রেখেছে, যেখানে সূর্যের আলো পৌছার কোন ব্যবস্থা নেই,ফলে নতুন করে ফসল উৎপাদের কোন সম্ভবনাই নেই, শুধু কি তাই, যা আছে তা থেকে নতুন কোন ফসল উৎপাদনেরও কোন উদ্দেগ্যও নেই। তারা আবদ্ধ ঘরে রেখে, জনগনের মধ্যে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, দৈনন্দিন বা বেঁচে থাকার যাবতীয় পণ্যসামগ্রী কে তাদের মূল হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের মধ্যে কবজ্জা করে রেখে জনগনকে তাদের হুকুমের গোলাম বানিয়ে রেখেছে। মাঝে মাঝে জনগনের মধ্যে থেকে যারাই বিদ্রোহ করেছে, তাদেরকে হয়তো মরতে হয়েছে আর না হয় মরার মত বেঁচে থাকতে হচ্ছে। দুই দলের গদি দখলের জন্য হানা হানা, মারামারি, খুন, দুর্নীতি, অনিয়ম, অপশাসন, অপরিকল্পিত সমাজ উন্নয়ণ ব্যবস্থার কারনে বর্তমানে এমন এক ভুতুড়ে পরিবেশ তৈরি হয়েছে, মানুষ বিচার ব্যবস্থার উপর থেকে এতটাই অাস্থা হারিয়ে ফেলেছে যে, প্রকাশ্যে খুনের বিচারও পরজগতের বিচারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
জনগন বুঝতে পারছে, তারা অর্থনীতির দুষ্টচক্রের মত রাজনীতির দুষ্টচক্রের মধ্যে পড়ে, বারবার একই বৃত্তের পরিধির চারপাশে ঘুরতেছে। তারা এইও জানে, এই দুষ্টচক্র থেকে বের না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই দুর্বিষহ জীবন ব্যবস্থা হতে মুক্তিও নেই। এত কিছু বুঝতে পেরেও তারা অাজ পথহারা , কারন এই ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন করে, নতুন ব্যবস্থা পরিচালনা করার মত, সুনির্দিষ্ট কোন দিক নির্দেশনা যেমন নেই, তেমনি তাদেরকে নির্দেশনা দেবার মত কোন সৎ নেতাও তাদের মধ্যে নেই।
একসময়ে এদেশের উন্নয়নের মূল বাধা ছিল বিট্রিশরা, এরপর ছিল পাকিস্তানিরা, কিন্তু বর্তমানে হচ্ছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং তাদের লালিত পালিত শিক্ষিত,অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত, লোভী, দুর্নীতিবাজ, চোরবাটপার, খুনেরর আসামি জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির সুবিধাবাদী নেতা। যাদের কাছে কুলিমুজুর থেকে শুরু করে সম্মানিত শিক্ষক পর্যন্ত অপমান অপদস্থ, এমনকি পায়ে ধরে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে বাধ্য। বিট্রিশ এবং পাকিস্তানিদেরকে যুদ্ধের মাধ্যমে তাড়ানো গিয়েছে, মুক্তি মিলেছে সাধারন মানুষের অপশাসন থেকে। কিন্তু যাদেরকে আমরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি, তাদের থেকে মুক্তি লাভের একটি উপায় ছিল, ভোটের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে দেশ এতটাই ডিজিটাল হয়েছে যে, সেই পুরানো ভোটাধিকার টাও বর্তমানে নেই। আপনি ঘরে না শুধু বিদেশে থাকলেও অসুবিধা নাই, আপনার ভোট, ভোটের আগের দিনই কাস্ট হয়ে যাবে। আপনাকে কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে না।
ফলে মুক্তি আপনি সহজে পাবেন কি? না।
প্রশাসনের প্রত্যেকটি পর্যায় রাজনীতিকরণ হয়ে গিয়েছে। স্বাধীন কোন প্রতিষ্ঠান নেই। এমনকি বেসরকারি গণমাধ্যমও, সরকারের পা চাটা ভৃতে পরিনত হয়েছে, অথচ তাদেরই উচিত ছিল , অনিয়ম, দুর্নীতি, অপশাসনের অন্তঃপুরের কাহিনী জনগনের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে গন আন্দোলণ সংগঠিত করা।
আজকে জাতি হিসেবে আমরা এতই অপরিনামদর্শী, খামখেয়ালিপনা, এতটাই বেখেয়ালি, আমরা জানি না, সাধারণ মানুষ জানেই না তাদের ভবিষ্যৎ কি, পাঁচ বছর পর তারা কোথায় দাঁড়াবে অথবা জাতি হিসেবে তাদের লক্ষ্য কি, দেশের ভবিষ্যৎ কি?। শুধু কি সাধারন জনগন, আমি হলফ করে বলতে, যাদেরকে জাতি নির্বাচিত করেছে, তাদের কাছেও এই সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাবে। যাদেরকে এদেশের মানুষ সুশীল বলে, তারা মনে হয় আন্দাজ করতে পারবে না, বাংলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিবে।
এতকিছুর মূল সমস্যা একথায় বলা যায়, আমাদের দুষ্টরাজনীতিচক্র। এই বিষবৃক্ষ সম্পর্কে ছেলে, বুড়ো, থেকে শুরু করে শিক্ষিত, অশিক্ষিত, সুশীল সমাজ সবাই অবগত, তবু আমরা জাতি হিসবে ঐক্য বদ্ধ হতে না পারা সত্যিই দুর্ভাগ্য। শুধু মৃত্যুভয়, আর জেলের ভয়ে আজ সবাই এই অন্যায় অত্যাচার সহ্য করে যাচ্ছে সবাই।
আমরা সবাই অপেক্ষায় আছি, কেউ এসে আমাদের কে এই অন্ধকার প্রকোষ্ঠ হতে উদ্ধার করে, মুক্তির স্বাদ দিবে। এমনটা ভেবে থাকলে তা হবে চরম বোকামি। স্বয়ং আল্লাহ যেখানে বলেছে, "যে জাতি নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে সচেষ্ট নহে,...................
সেখানে আমি, আপনি, যদি এভাবে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকে, আর ভাবতে থাকে একদিন কেউ এসে আমাদের ভাগ্য পরিবর্ত করে দিবে, তবে মনে রেখো সেই একদিন আর আসবে না, এই অন্যায়, অপশাসন, দুর্নীতি, অবিচার আমাদের ওপর অভিশাপ স্বরূপ চলতে থাকবে এবং পরবর্তী প্রজম্মর ওপরও চলবে। আর ইতিহাসে আমাদের ঠাঁই হবে, দুর্বল চিত্তের, এবং নিকৃষ্ট মানুষ হিসেবে।
এমন অনিয়ম, দুষ্ট রাজনীতির বেড়াজালে পড়া শর্তেও আবারও আমাদেরকে এক হয়ে ভাঙতে দুষ্টরাজনীতিচক্রকে।
সময় লাগবে বেশী, ত্যাগও করতে হবে বেশী কারণ দুষ্টচক্রের হাত পা বড্ডই বড় হয়ে গেছে, অার শুরু করতে হবে আমাদেরকেই, আমাদের পরবর্তী প্রজম্মের জন্য, না হলে এর দায়বার ও কুফল দুইটাই আমাদেরকে বহন করতে হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:২৯
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাহরাম নয়, এমন পুরুষকে কি একজন স্ত্রীলোক নিজের স্তনের দুধ পান করাতে পারবেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২১

আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: সাহলা বিনতে সুহাইল নবী করীম ﷺ-এর নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমার নিকট সালেমের আসাটা আবু হুযাইফা ভালো মনে করছেন না। নবী বললেন:... ...বাকিটুকু পড়ুন

লুচ্চামি আর যৌন হতাশা এক বিষয় না।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


সম্প্রতি জামায়াতের এক লুচ্চা এমপি-র অন্তত দুইজন তরুণী নিয়ে কট খাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। তিনি তরুণী নিয়ে হোটেল, কোচিং সেন্টারে রুম ডেট করতেন। নেটিজেনরা তার এই লুচ্চামি এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
-মোঃ মুসা (গাঙচিল)

তুমি আমার আধো আধো সকাল হবে?
ঘর কাপলের জোড়া শালিক!
শেষ শিশিরের নরম আলো
তোমার মনে মুখটা একটু ধুইতে দেবে?

তুমি আমার নৌকা বিহীন নদী হবে?
বৈঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রপতির বিদায়ঘণ্টা: রাজনীতি ও নৈতিকতা

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ২৪ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩



বাংলাদেশের রাজনীতি অঙ্গনে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের গুঞ্জন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের
পদত্যাগ কেবল একজন ব্যক্তি বা কোন একটি বিশেষ পদের পরিবর্তন নয় বরং এটি দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেনাবাহিনী যখন দেশপ্রেম দেখাতে ব্যর্থ ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৫ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:৫০



গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা বিএনপি নেতা রাশেদ খান বলেছেন, ‘ক্যান্টনমেন্টের স্পষ্ট ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পর নাহিদ ইসলাম এক দফার ঘোষণা করেছিলেন।’ জুলাই বিক্ষোভ নিয়ে শুক্রবার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×