somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শক্তি শুধা
সকল রুদ্ধ বাতায়ন খুলে দাও, আকাশটা দেখতে চাই। অনুভব করতে চাই আমার আমিকে।

আমরা স্বপ্নচারী

২৩ শে মার্চ, ২০১৪ রাত ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুপরিচিত একজন উঠতি বয়সের লিখিকা। খুব মজার মানুষ উনি। তার লিখনী অসাধারণ। কিন্তু তার একটা ভিন্ন ভুবন আছে, ভাবনা থেকে বিভিন্ন চরিত্র ফুটিয়ে তোলে। যা তার কাছে বাস্তব সত্যেরচে' উপরে। যেনো তার সৃষ্ট চরিত্রের মাঝে সে মিশে গেছে।
একদিন মেয়েটি লিখতে বসেছে, এরই মাঝে সে আবিষ্কার করল, তার ছোট ভাইকে, যে কিনা টাকার অভাবে পড়াশুনা বাদ দিয়ে এখন বাসে বাসে চকলেট বিক্রি করে বেড়ায়। ভাইয়ের জন্য মেয়েটির মন কাঁদে কিন্তু কিছুই করতে পারে না। কারণ, সে নিজেই মামা মামীদের সাথে থাকে। নিজ পড়াশুনার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। মা মারা যাওয়ার পর সৎ মার অত্যাচারে ওদের এই অবস্থা। তার উপর মেয়ে মানুষ বলে কথা, এলাকার মানুষ নানান অকথ্যকথন বলছিল। যেমন কাল নাগিনী, অপয়া, অলক্ষী আরো কত কি! দিন দিন তার এসব আর ভালো লাগে না। সিদ্ধান্ত নেয়, মামা বাড়ী ছেড়ে দুচোখ যে দিকে যায় চলে যাবে। কিন্তু ছোট ভাইটিকে যে আজ কিছু দিন যাবৎ দেখছে না মেয়েটি। আহা! এ অল্প বয়সে তাকে দুনিয়ার কঠিন বাস্তবতার সম্মুক্ষিন হতে হয়েছে। না জানি কোন রোগ বাঁধিয়ে ফেলল। নাকি বাস থেকে সটকে পড়ে তার হৃদের স্পন্দন থেমে গেছে, সারাদিন আজে বাজে চিন্তা মেয়েটিকে ঘীরে ফেলল। ভাইটির চিন্তায় তার সারাদিন ঘুম হল না। হাঠাৎ মেয়েটি চোখের পাতা মিলিয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে দেখে জামি পাশের ঘরেই শুয়ে আছে অবুঝ বালকের মতো। তার খুশি আর ধরে না। জামিকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে, ব্যাচারা জামি কিছুই বুঝতে পারে না, কি হচ্ছে তার সাথে। মীম আপুর চোখের কোণে জমে থাকা পানি তাকে ভাবিয়ে তোলে, এমন স্বচ্ছস্ফটিক জলের কারণ জানতে চায় জামি। কিন্তু মীম নিরব। সে বুঝতে পারে তার গল্পের চরিত্রটি নিয়ে ভাবনাই তাকে তাড়িত করছে। সমাজের স্কন্দে ছড়িয়ে থাকা প্রতিটি চরিত্রই সে নিজের কাছের মানুষদের সাথে মিলিয়ে ফেলে আর অঝোরে কাঁদতে থাকে তাদের দূরগতি, নাজেহাল অবস্থা দেখে। ছোটবেলায় মেয়েটির ভাই জামি বাবা মা সবাই কার এ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়, সে দূর্ঘটনায় বেঁচে যায় মীম। কিন্তু আজও পাশের বেডে ছোট ভাই জামিকে দেখতে পায়, বাবা মার পরস্পর খুনসুটি লক্ষ্য করে হাসে। আর মনে মনে ভাবে কি ছেলে মানুষই না করছে তারা দু'জন। খাবার টেবিলে বসে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করে। ওদের বিড়াল ছানাদেরও খাওয়ায়। কিন্তু মামা মামীর কারণেই আজ মেয়েটিকে কোথাও বন্দি করে রাখা হচ্ছে। খাবার দিচ্ছে না ঠিক মতো, এখানকার পরিবেশ কতই না নোংরা। মানুষ কিভাবে থাকে। এভাবেই মীম একদিন ভাবনার জগতে হারিয়ে যায়। কিন্তু কেউ তার দু:খ বুঝেনি বরং দুনিয়ার মানুষ তাকে পাগল ভাবছে। কতোই না বিচিত্রময় আমাদের চারপাশের জগৎ। এরই মাঝে একটু আশা নিয়ে বেঁচে থাকা। মীম যেমন ভাবে জামি বেঁচে আছে, তার বাবা-মা তার পাশেই আছে। তেমন আমরা ভাবি আমাদের স্বপ্নগুলো আমাদের মাঝেই বেঁচে আছে তখন আমাদের চারপাশের পাষণ্ড জগৎ আমাদের পাগল ভাবে। স্বপ্নচারী মানুষ আমরা স্বপ্ন নিয়ে আশায় বুক বাঁধা আমাদের বাঙালিদের নিকট একটা মহা কাজ।
_শক্তি শুধা (সাবেত চৌধুরী)
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই অক্টোবর, ২০১৪ দুপুর ১:৫৩
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×