সাগরের ঢেউ তীরে এসে ভাঙার আগে ওটা দেখে মনে হয়, সিল্কের চাদরের নিচে গোলাকার কিছু গড়িয়ে গড়িয়ে আনা হচ্ছে। ছেলে তিনজন ওরকম ঢেউ এর জন্য অপেক্ষা করছিল। কাছাকাছি আসতেই, সাদা ফেনা নিয়ে ভেঙে যাওয়ার আগেই মাথা নিচু করে ঢেউয়ে ডুব দিচ্ছিল। তারপরে, অদ্ভূত দক্ষতায় কি করে যেন শরীর বাঁকিয়ে ঢেউয়ের ওপাশে ভেসে উঠছিল। কিংবা, নিজেকে ছেড়ে দিচ্ছিল ঢেউয়ের গায়ে। ঢেউ আলতো করে উঠিয়ে আবার নামিয়ে রাখছিল, ওরকম আলতো করেই।
ঢলে পড়া সূর্য্যের শেষ রশ্মিটুকু তখন সাগরের এক পাশে। দিগন্তের আকাশটাই পুবের আকাশ। লালের আভা লাগা শুরু করেছে মোটে। তখনও তিন সাগর প্রেমিকের ঢেউয়ের সাথে খেলা দেখতে ভালো লাগছিল বেশ।
তার চেয়ে বেশি ভালো লাগছিল বেঢপ শরীরের ওই মেয়েটাকে দেখতে। গর্ভবতী মেয়েটা গায়ে একটা গোলাপি তোয়ালে জড়িয়ে সৈকতের এ মাথা থেকে ও মাথায় হালকা দৌড়াচ্ছিল। এক হাত পেটে। যেন পৃথিবীতে আসার লোভ দেখাচ্ছে আসন্ন সন্তানকে, সাগরের গান শুনিয়ে।
আর ওই যে, সদ্য হাঁটতে শেখা পিচ্চিটা, বাবার সাথে ছোঁয়া ছোঁয়ি খেলছিল। বাবাটা প্রানপনে দৌড়ানোর ভান করছে, খুব আস্তে আস্তে পা ফেলে সামনে এগুচ্ছে। তাতেই বাবাকে ধরতে পিচ্চি রীতিমত দৌড়াচ্ছে। শেষমেষ বাবা ধরাই দিয়ে দিল।
অথবা গোলাপী জামা পড়া ছোট্ট মেয়েটা। মায়ের সামনে সামনে দৌড়াচ্ছে আর একটু পর পর পিছনে ফিরে সে কি খিল খিল হাসি! আমি মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিলাম।
সাগরকে আজ খুব হিংসা হচ্ছিল। নিজের কাছে মানুষ টেনে সবাই কি নিদারুণ সুখী করে ফেলে।
অবশ্য, সাগর তবু নি:সঙ্গ...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

