সুজন হাসানোর চেষ্টা করছে ওকে--এটা বুঝতেই একটু একটু হাসা শুরু করল মিলি। মনের গহ্বরটাকে চাপা দিয়ে রেখে। হঠাৎ হঠাৎ যন্ত্রনায় চোখ বন্ধ করে ফেলছে। সুজন কি কি যেন বলে যাচ্ছে বন্ধুদের নিয়ে। হঠাৎ থামিয়ে দেয় মিলি, 'আপনারা কয় ভাই বোন?'
'তিন ভাই, দুই বোন।'
'মিস করেন ওদের?'
'করব না? আমাদের বোনটা খুব আদরের। আমার চেয়ে এক বছরের ছোট। ওর সাথে খোঁচাখোঁচিটা খুব মিস করি।'
'জানেন, আমার একটাই ভাই।'
'তাই? খুব আদরের বুঝি?'
'হুম।'
'ঝগড়া হয় না?'
'উহু।'
'ঝগড়া হয় না? কি বলেন? ভাইবোনের মধ্যে ঝগড়া হয় না এমন আছে?'
'হু আছে। ওর সময় হয় না। আগে ঝগড়া হতো।'
মিলির গলায় কিছু ছিল তাই সুজন একটু চমকাল। 'ছোট না বললেন?'
'হ্যা, ছোট, কিন্তু ও-ও বড় হয়ে যাচ্ছে।'
'কি সে পড়ে?'
'ইয়ার ইলেভেন।'
'হুম, অনেক বড় হয়ে গিয়েছে তো।'
'হ্যা, অনেক বড়...'
কেমন একটা কণ্ঠে বলল মিলি। সুজন কথা ঘুরালো, 'সেদিন বাসায় পৌঁছেছিলেন ঠিক মত?'
'হু।'
'আম্মু বকে নি এত রাত হওয়ায়?'
'নাহ।'
'ঘুমাবেন না?'
'ঘুম আসে না। আপনি ঘুমাতে চান?'
'কালকে কাজ আর ক্লাস আছে তো, আচ্ছা আরেকটু কথা বলি। মিলি, মন খারাপ কেন বলা যাবে?'
'বললে?'
'তাও ঠিক। কিছু করতে পারব না হয়তো। কিন্তু আপনার মন খুব খারাপ। নিজেই তো জানালেন। হালকা মন খারাপ হলে এতক্ষণে হয়তো ভাল হয়ে যেত। কিন্তু পারছি না। মন ভাল করার জন্য কিছু করতে পারলে ভাল লাগতো।'
মিলি চুপ। বেশ কিছুক্ষণ পরে বলল, 'জানেন, বাংলাদেশে একবার বিকাল বেলা খেলতে গিয়েছিলাম আমরা। আমি আর রোহান। রোহান আমার ছোট ভাই। কলনীর দোলনায় চড়ার খুব নেশা তখন আমাদের। রোহানকে বসিয়ে রেখে ধাক্কা দিতাম। প্রথম পাঁচ মিনিট ওর জন্য। তারপরে, পাড়ার বান্ধবীদের সাথে দু'জন মিলে উঠতাম একটা দোলনায়। দুইজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেমন একটা ঢেউ খেলিয়ে দোলনা খুব জোরে চালাতাম। আমি থ্রিতে পড়ি, রোহান স্কুলে ভর্তি হয় নি। ও দোলনায় ওভাবে চড়তে পারত না। ওকে পাশে দাঁড় করিয়ে রেখে দোলনা চালাচ্ছিলাম আমরা সেদিন। শেষ করে দেখি ও পাশে নেই। যেদিকে তাকাই ও কোন দিকেই নেই।'
থামল মিলি। সুজনের মনে হল গলা বুজে এসেছে মিলির। কিছু না বলে চুপ করে রইল। মিলিই আবার শুরু করলো,
'জানেন, ওকে সেদিন অনেক খুঁজার পরে পেয়েছিলাম। খোঁজার সময় কেমন লাগছিল সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। আজকে বুঝতে পারছি।'
এবার কোন ভুল নেই, মিলি কাঁদছে। 'মিলি, রোহান কোথায়?'
অনেক্ষণ কোন কথা বলল না মিলি। তারপরে বলল, 'জানি না। কয়েক ঘন্টা আগে বাসা থেকে চলে গেল।'
(চলবে হয়তো!)
আলোচিত ব্লগ
সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান
সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল

সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন
=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।
বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।
যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।