একহাতে লাগেজ টানতে টানতে কাউন্টার ছেড়ে বাসে উঠে পড়ে লিমা । টিকিট বের করে সিট নম্বর মিলিয়ে নিয়ে বসে পড়ে । কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ । বাস ছেড়ে দিবে কিছুক্ষনের মধ্যে । অথচ রায়হানের কোন দেখাই নেই । ছেলেটা সবসময়ই একটু কেয়ারলেস । সিনসিয়ারিটি একদমই নেই । সব কাজ একদম শেষ মূহুর্তে করবে , তা সে যত গুরুত্বপূর্ণই হোক না কেন ! ভার্সিটির টিউশন ফি জমা দেয়া , এসাইনমেন্ট জমা দেয়া , ল্যাব রিপোর্ট সাইন করানো সবই একদম শেষ মূহুর্তে । এমনকি প্রতিদিনের প্রথম ক্লাসে সে ক্লাসরুমে ঢুকতো প্রফেসর বের হয়ে যাবার কয়েক সেকেন্ড আগে । এ নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই একরাশ কথা শুনিয়ে দিত লিমা । রায়হান চুপচাপ শুনে যেত । কখনো দুহাতে কান ধরে উঠবস করার অভিনয় করতো । বলতো " আর কক্ষনো এমন হবে না । দেখে নিও । এবার থেকে সত্যি ভালো হয়ে যাব ।" কিছু বলতো না লিমা । কপট রাগ দেখাতো ।
লিমা জানে আজকেও রায়হান দেরী করবে । বাস ছাড়ার একদম আগমুহুর্তে দৌড়াতে দৌড়াতে বাসে উঠবে তারপর ধপ করে লিমার পাশে বসবে । লিমা তখন জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকবে । রাগ দেখাবে । রায়হান অনেক চেষ্টা করবে রাগ ভাঙানোর কিন্তু লিমা এবার একদমই ছাড় দেবেনা ।
কানে এয়ারফোন গুঁজে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে লিমা । শেষ বারের মতো হর্ণ বাজিয়ে দিয়েছে ড্রাইভার । যারা নিচে দাড়িয়ে পান বিড়ি খাচ্ছিলো তারা সবাই একে একে বাসে উঠে পড়েছে । রায়হান এখনো আসে নি । মেজাজ খারাপ হতে শুরু করলো লিমার । ফোন হাতে নিয়ে রায়হানের নাম্বার ডায়াল করেই কেটে দিলো । নাহ্ ফোন করবেনা সে । বারবার এভাবে একই যন্ত্রণা সহ্য করা যায় না । অনেক সহ্য করেছে । আর না । এবার সময় হয়েছে শাস্তি দেবার । আজকের বাসটা যদি মিস করে তাহলে আর কখনোই রায়হানের সাথে কথা বলবেনা লিমা । সুপারভাইজার টিকিট চেক করতে এসেছে দেখে হাতব্যাগ থেকে টিকিট বের করে এগিয়ে দেয় লিমা । সুপারভাইজার টিকিট ভালো করে দেখে একটা অংশ ছিঁড়ে নেয় । তারপর বাকীটা ফিরিয়ে দিতে দিতে বলে
-"আপনার দুটো সিট ?"
-"কেন ? টিকিটে লেখা নেই ?"
-"না মানে আছে ! তারপরও জিজ্ঞেস করে নিলাম আরকি ! দুটা সিটে একাই যাবেন ?"
-"হ্যাঁ যাব । আপনার কোন সমস্যা আছে ?"
-"আমার আবার কি সমস্যা !"
চলে যায় সুপারভাইজার । বিষদৃষ্টিতে সেদিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে লিমা । তারপর ব্যাগের ভেতর টিকিট ঢুকিয়ে রেখে আবার জানালায় চোখ রাখে । বাস ছেড়ে দিয়েছে । একটু একটু করে গতি বাড়ছে । একইসাথে লিমার দুচোখ জলে ভরে যাচ্ছে । দুঃখে নয় , কষ্টে নয়, অভিমানে । ঠিক সে সময় লিমা অবাক হয়ে দেখলো রায়হান বাসের গতির সাথে তাল মিলিয়ে দৌড়াচ্ছে ।
চোখে জল আর মুখে হাসি নিয়ে চিত্কার করে বাস স্লো করতে বললো লিমা । ড্রাইভার বাস একটু স্লো করলো । স্লো হতেই লাফ দিয়ে বাসে উঠে পড়ে রায়হান । তারপর বিশ্বজয়ী হাসি দিয়ে লিমার পাশে এসে ধপ করে বসে পড়ে । ঠিক যেমনটা লিমা কল্পনা করেছিলো ।
লিমার পেছনের সিটে বসে থাকা দুজন যাত্রী তখন অবাক হয়ে লিমার দিকে তাকিয়ে ।
কিছুক্ষন বসে থাকার পর লিমা লক্ষ্য করে রায়হান উশখুশ করছে । কথা শুরু করতে চাচ্ছে কিন্তু সে অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে আছে বলে শুরু করতে পারছে না । লিমার হাসি পাচ্ছিলো । কষ্ট করে হাসি চেপে আছে । হাসলেই সমস্ত পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে যাবে । তারচেয়ে বরং রায়হানকে একটা সুযোগ দেয়া যেতে পারে । লিমা খুব অল্প সময়ের জন্য ভ্রু কুঁচকে রায়হানের দিকে তাকালো । তারপরই চোখ সরিয়ে নিয়ে আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে গেলো ।
-"হ্যালো ! একটা মানুষ যে এতক্ষন ধরে আপনার পাশে বসে আছে সেটা কি আপনি দেখছেন না ? নাকি দেখেও না দেখার ভান করে আছেন ?"
লিমা কিছু না বলে মুখ লুকিয়ে হাসলো শুধু ।
-"কি হলো ? কথার জবাব তো দেবেন ? সবসময় তো আর দেরী করি না ! আজ নাহয় একটু দেরী করেই ফেলেছি ! তার জন্য হবু স্ত্রীর কাছ থেকে এরকম অবহেলা অবশ্যই আশা করতে পারিনা ! "
লিমা এবারো কিছু না বলে মুখ লুকিয়ে হাসলো । সে হাসি রায়হানের দৃষ্টিগোচর হলো না !
-"না মানে ঠিক আছে ! দোষ তো একটা করেই ফেলেছি তাইনা ? তার শাস্তি তো পেতেই হবে । তো বলুন কি শাস্তি দেবেন ! যা দেবেন মাথা পেতে নেব । এক কাজ করি বাস ভর্তি লোকের সামনে আমি আধবুড়ো একটা ছেলে কানে ধরে উঠবস করি আর বলি , আর কখনো দেরী করবোনা ! আর কখনো দেরী করবো না । ঠিক আছে ? শুরু করবো ?"
রায়হান সত্যি সত্যি সিট ছেড়ে উঠে যেতে ধরলো । লিমা তাত্ক্ষনিক মুখ ফিরিয়ে রায়হানের হাত ধরে ফেললো । তারপর সলজ্জ হাসিমুখে বললো ,
-"কে বলেছে তুমি আধবুড়ো ?"
রায়হানের মুখেও হাসি ফুটে উঠলো । সেই হাসিকে রহস্যময় করার চেষ্টা করতেই লিমা সেটা দেখে ফেলে । তারপর খিলখিল করে হেসে উঠে আবার ।
লিমার পেছনের সিটের যাত্রী দুজন আরো একবার অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে ।
***
৩০ মিনিটের স্টপেজ দিয়েছে । প্রায় সমস্ত যাত্রীর সাথে লিমা আর রায়হানও নেমে পড়েছে বাস থেকে । রেস্টুরেন্টে ঢুকে কোনার দিকে একটা টেবিল ঠিক করলো লিমা । রায়হান ফ্রেশ হতে ওয়াশরুমে গেলো আর লিমা অর্ডার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো । রায়হান ওয়াশরুম থেকে ফেরার আগেই খাবার নিয়ে হাসিমুখে উপস্থিত হলো ওয়েটার । কিন্তু লিমার ধমকে সে হাসি মুছে গেলো মুহুর্তেই ।
-"একটা প্লেট এনেছেন কেন ? দুজন মানুষ কি একটা প্লেটে খাব ? নাকি আপনারা এভাবেই সার্ভ করেন ? দুজনের জন্য একটা প্লেট !!?? আশ্চর্য ! যান প্লেট নিয়ে আসেন !"
ওয়েটার একটু খতমত খেয়ে আশে পাশে নজর বুলাতে লাগলো । সম্ভবত দুজনের দ্বিতীয় জন কে সেটা বোঝার চেষ্টা করছে । পাশের টেবিলে বসে থাকা দুজন যাত্রী তৃতীয়বারের মতো অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো লিমার দিকে ।
***
-"রায়হান একটা ব্যাপার খেয়াল করেছো ?"
-"কি ব্যাপার ?"
-"পাশের টেবিলে যে দুজন বসেছে তারা অনেকক্ষন থেকে আমাদের ফলো করছে ।"
-"আরে নাহ ! কি যে বলো ! যেহেতু আমরা একই বাসে যাচ্ছি তাই বারবার দেখা হচ্ছে ।
লিমা একটুক্ষণ কি যেন চিন্তা করলো । তারপর আবার খাবারে মন দিলো ।
গাড়িতে বসে আছে লিমা । একটুপরই বাস ছেড়ে দিবে । রায়হান আশেপাশে কোথাও দাড়িয়ে সিগ্রেট খাচ্ছে । লিমা সিগ্রেট এবং সিগ্রেটের গন্ধ কোনটাই সহ্য করতে পারেনা । রায়হান সেটা বেশ ভালো জানে । সেজন্যই কখনো লিমার সামনে সিগ্রেট খাওয়ার দুঃসাহস করেনি ।
শেষ হর্ণ বাজার সাথে সাথেই রায়হান বাসে উঠে পড়লো । লিমার পাশে এসে বসলো । সিগ্রেটের গন্ধ নাকে আসবে ভেবে লিমা জানালার দিকে মুখ ফিরিয়ে রাখলো । কিছুক্ষণ অতিবাহিত হবার পর লিমা অবাক হয়ে লক্ষ্য করলো সিগ্রেটের গন্ধের বদলে কেমন যেন সুন্দর একটা গন্ধ আসছে । দারুচিনির গন্ধ । লিমা অযথাই ভ্রু কুঁচকে তাকালো রায়হানের দিকে । রায়হান মিটিমিটি হাসছে । ভ্রু কুঁচকে থাকা অবস্থাতেই লিমাও হেসে ফেললো ।
***
ডক্টর ফজলুল করিমের টেবিলের সামনে দাড়িয়ে আছে দুজন ব্যক্তি । একজন লম্বা আরেকজন তুলনামূলক খাটো । ডক্টর ফ করিম তুলনামূলক আরো খাটো । টেবিলের প্রশস্ততা একটু কম বলে ডক্টর ফ করিমকে মাথা উচিয়ে কথা বলতে হচ্ছে
-"তো তোমরা কি অবজারভ করলে ?"
দুজনে একবার দুজনার দিকে তাকালো । চোখের ইশারায় ঠিক হয়ে গেলো কে কথা বলবে । অপেক্ষাকৃত খাটো ব্যক্তিটি একধাপ এগিয়ে আসলো । তারপর বললো
-"স্যার , লিমা আইমিন সাবজেক্ট..."
-"ইউ ক্যান ইউজ দ্য নেইম ।"
-"থ্যাংক ইউ স্যার । প্রথমদিকে লিমাকে দেখে মনে হলো কারো জন্য অপেক্ষা করছে । বাসে তার দুটো টিকিট কাটা ছিলো । টিকিট চেকার টিকিট চেক করে যাওয়ার পর লিমা কথা বলতে শুরু করলো । এমনভাব কথা বলছিলো যেন তার পাশে কেউ আছে । কিন্তু স্যার আসলে তার পাশে কেউ ছিলোনা ।"
এবার অপেক্ষাকৃত লম্বা ব্যক্তি এগিয়ে আসলো । বললো ,
-"স্যার বাস যখন স্টপেজ দিলো তখন লিমা রেস্টুরেন্টে খেতে যায় । সেখানেও দুজনের জন্য অর্ডার করে । যদিও পুরোটা সময় লিমা একাই ছিলো ।"
ডক্টর ফজলুল করিম মুখে একটা স্মিতহাসি ফুটিয়ে তুললেন । তারপর একটা চুরুট জ্বালাতে জ্বালাতে বললেন,
-" তোমাদের অবজারভেশন মতে লিমা পুরোটা সময় একা ছিলো কিন্তু এমনভাবে বিহেইভ করছিলো যেন তার সাথে অন্যকেউ আছে । তাই তো ?"
-"জ্বি স্যার ।" দুজনে একসাথে বলে উঠলো ।
-"এবার বলো তোমরা কি সিদ্ধান্তে পৌঁছালে ?"
অপেক্ষাকৃত খাটো ব্যক্তিটি বললো ,
-"স্যার লিমার কথায় আমরা কয়েকবার রায়হান নামটা শুনেছি । ব্যাপারটা এরকম যে লিমা যেন রায়হানেই সাথেই কথা বলছে । আমরা এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছি স্যার । রায়হান নামে একজনের সাথে লিমার এক ধরনের সম্পর্ক ছিলো । তাদের দেশের বাড়ীও একি জেলায় হওয়ায় তারা প্রায়ই একই সাথে ঢাকা থেকে দেশের বাড়ীতে যেত । এরকমই একবার দেশের বাড়ী যাবার সময় তাদের বাস এক্সিডেন্ট করে এবং রায়হান ঘটনাস্থলেই নিহত হয় । আর লিমা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয় । প্রায় দুই মাস পর লিমাকে রিলিজ করা হয় স্যার ।"
ডক্টর ফজলুল করিমের চেহারায় একটা উজ্জ্বল ভাব আসে । চুরুটে একটা লম্বা টান দিয়ে চেয়ারে বসে পড়েন তিনি । তার ছাত্র দুজনকেও বসার ইঙ্গিত করেন । মুখে একটা কৃতজ্ঞতার ভাব ফুটিয়ে বসে পড়ে দুজন । ডক্টর ফজলুল করিম আরেকবার চুরুটে টান দিয়ে নিভিয়ে রাখতে রাখতে বলেন,
-"লিমার যে রোগটা হয়েছে তার নাম ডিসোসিয়েটিভ পারসোনালিটি ডিসঅর্ডার । একে মাল্টিপল পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারও বলা হয়ে থাকে । খুবই রেয়ার একটা সাইকিয়াট্রিক ডিসঅর্ডার । প্রায় দু মাস আগে আমি এই কেইসটা পাই । কিছুদিন অব্জার্ভেশানের পর আমি রোগটা সম্পর্কে নিশ্চিত হই ।
বিভিন্ন কারণে এ রোগ হতে পারে । লিমা এ রোগের শিকার হয় প্রচন্ড শকের কারণে । আচমকা বাস এক্সিডেন্টে রায়হানের মৃত্যুটা লিমা সহ্য করতে পারেনি । প্রচন্ড একটা শক পায় সে । কোন ভাবেই বাস্তবতা মানতে পারছিলো না । আর এর ফলেই লিমার মস্তিষ্ক রায়হানকে তৈরী করে এবং বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন সময়ে লিমার সামনে উপস্থাপন করে । লিমার কাছে ব্যাপারটা চিরন্তন সত্যের মতোই সত্যি ।"
-"স্যার লিমাকে কি তার অসুস্থতার ব্যাপারে জানানো হয়েছে ?"
-"কয়েক বার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু কনো লাভ হয়নি । ধরো তোমরা দুজন একে অপরকে স্পষ্ট দেখছো , একজন আরেকজনের সাথে কথাও বলছো । এখন আমি যদি বলি এসব মিথ্যা । যদি তোমাদের কোন একজনকে বিশ্বাস করাতে যাই যে সে যা দেখছে পুরোটাই মিথ্যা , তাহলে কি হবে ? পরিপুর্ন সুস্থ মানুষটা আমি পাগলের স্বীকৃতি পাব তাই না ?"
ড. ফজলুল করিমের রসিকতায় হেসে ফেললো তার ছাত্র দুজন । এতে করে ঘরের ভেতর একটা হালকা পরিবেশ তৈরী হলো ।
-"স্যার এ রোগের চিকিত্সা ?"
-"প্রথমে রোগী এবং রোগের কন্ডিশন বুঝতে হয় । কি কারণে এই ডিসঅর্ডার সেটা জানতে হয় । ট্রিটমেন্ট মূলত তার উপর ডিপেন্ড করে । সবচেয়ে কঠিন কাজটা হচ্ছে মানসিক ভাবে রোগিকে যতটুকু পারা যায় কন্ট্রোলে রেখে তার সামনে বাস্তবতা তুলে ধরা । তাকে বাস্তবে ফিরিয়ে আনা ।
আমেরিকার ফার্গো শহরে একজনকে পাওয়া গিয়েছিলো যার রিকভার করতে প্রায় বিশ বছর লেগেছিলো ।"
ড. করিম একটু সময় নিলেন । নিভিয়ে রাখা চুরুট প্রথমবারের চেষ্টায় জ্বালিয়ে ফেললেন । দুটো আয়েশী টান দিয়ে আবার শুরু করলেন ।
-"আমার চল্লিশ বছরের ক্যারিয়ারে লিমাই একমাত্র ডিসোসিয়েটিভ পারসোনালিটি ডিসঅর্ডারের পেশেন্ট । তোমাদের ক্যারিয়ারেও এরকম ব্যতিক্রমী কিছু পেশেন্ট পেতে পারো যাদের ট্রিটমেন্ট বই দেখে নয় তোমার অভিজ্ঞতা এবং বিচক্ষনতা দিয়ে করতে হবে । আর কোন প্রশ্ন আছে তোমাদের ?"
অপেক্ষাকৃত খাটো ব্যক্তিটি একটু ইতস্তত করে বললো ,
-''স্যার, লিমা কে হাসপাতালে কেন রাখা হল না ?''
-"হাসপাতালে রাখলে লিমা নিজেকে অসুস্থ ভেবে বসে থাকেবে, এর ফলে মস্তিস্ক অযথাই অনেকটা বিক্ষিপ্ত থাকবে যেটা চিকিৎসার জন্য বাড়তি ঝামেলা ছাড়া আর কিছু না ।"
-"আর কিছু ?"
একটু দম নিয়ে ড. করিম যোগ করলেন ।
ছাত্র দুজন একে অপরের দিকে একবার তাকালো । তারপর চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে করমর্দন করতে করতে বললো "আজ আসি স্যার" । ড. করিম চুরুট মুখে একটু হাসার চেষ্টা করলেন । ছাত্র দুজন বের হয়ে গেলো চেম্বার থেকে । ড. করিম অযথাই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চুরুটটা নিভিয়ে রাখলেন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


