somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কলেজ...

২০ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অপরিচিত একটা নম্বর থেকে ফোন এসেছে। বোঝা যাচ্ছে বিদেশ থেকে কেউ। রিসিভ করতেই পরিচিত একটা কণ্ঠে, ‘হ্যালো ইমন কেমন আছো, আমি তোমার শিপন স্যার, জাপান থেকে।’ আমার কলেজের স্যার। স্কলারশিপে জাপান গিয়েছেন পিএইচডি করতে। কিন্তু সদূর জাপানে থেকেও ভোলেননি আমাদের মতো সাধারণ ছাত্রদের কথা। আর প্রিয় খালেদ স্যার প্রত্যেকটি অনুষ্ঠানে একদম নিয়ম করে আমাকে আগে ফোন দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। ছাত্রছাত্রী আর শিক্ষকদের আন্তরিকতার পরিবেশটাই এমন। এটাই আমার কলেজের ভিন্নতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ। না! আহামরি কিছু নেই, তবে আমাদের কাছে এটাই অক্সফোর্ড; এটাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত। এইচএসসি সেকশন, দুটি বিবিএ বিষয়, ১২টি সম্মান (অনার্স) বিষয় আর দুটি প্রিলিমিনিয়ারি মাস্টার্সের বিষয়সহ প্রায় নয় হাজার ছাত্রছাত্রী নিয়ে জেলার জমজমাট কলেজ এটি। আছে দুটি আবাসিক হল (একটি ছাত্রদের, অন্যটি ছাত্রীদের)। আর মাঠে অবস্থিত শহরের একমাত্র শহীদ মিনারকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসের রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠান।
এইচএসসির প্রথম বর্ষ থেকেই আপন হয়ে গেল এই কলেজ। তারপর একে একে কেটে যায় দুটি বছর।
এইচএসসির পর ভর্তি হলাম অনার্সে। আমাদের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সঙ্গে একটি মাঠ আর তার ঠিক সঙ্গেই ছোট পুকুর। এমনিতে মনে হতো মাঠ ছাত্রদের খেলার জন্য আর পুকুর এলাকার মানুষের গোসলের। কিন্তু নবাগত সবার এই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিতে শীত আর বর্ষা ঋতু যেন ঘাপটি মেরে থাকে। প্রথম বর্ষের একদিন বিভাগে যেতেই চোখে পড়ল সিনিয়র ক্লাসের ছেলেমেয়েরা গোল গোল হয়ে মাঠে রোদ পোহাচ্ছে। ওই শীত থেকেই শুরু হলো আমাদের ঈর্ষণীয় সেই গোল হয়ে রোদ পোহানোর আড্ডা। আর আস্তে আস্তে বাড়তে থাকল আমাদের দলও। রিপন, জেনী, রাকা, সাঈদ, চাঁপা, পোষণসহ আরও অনেকে। সবচেয়ে ভালো লাগত বর্ষায়। যখন পুকুর ভরাট হয়ে মাঠ পর্যন্ত প্লাবিত হতো। তখন পুকুরের মাছে মাঠকে মনে হতো মাছের উন্মুক্ত অ্যাকুরিয়াম। ভালো লাগত বিভাগীয় প্রধান মোজাম্মেল হক স্যারের অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। পিয়ন মুজিব ভাইয়ের ছন্দ মিলিয়ে কথা বলার স্টাইল আর নঈম উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান স্যারের ক্লাস যেন কোনো দিন ভোলার নয়।
কলেজে ক্লাস আর হাসি-আনন্দেই কেটে যেত আমাদের সারা দিন।
উজ্বল স্মৃতির উচ্ছল ভঙ্গিতে শেষ হয়ে গেল আমাদের লেখাপড়া। দেখা হবে না কারও কারও সঙ্গে অনেক দিন। প্রয়োজনের পথ ধরে জীবন আমাদের নিয়ে যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন প্লাটফর্মে। প্রয়োজনের বাইরে হয়তো কলেজ ক্যাম্পাসেও যাওয়া হয় না। তবে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই কলেজ আর বিভাগই আমাদের কাছে অন্য রকম ইতিহাস আর প্রেরণা.....

প্রথম আলো'তে ছাপানো অংশ...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:৫৬
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×