somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

খুললাম নববর্ষের ব্লগীয় হালখাতা :)

১৫ ই এপ্রিল, ২০০৯ রাত ৯:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুয়েটের বাঁশ আর লোডশেডিং এর যুগপৎ আক্রমনে ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত হয়ে ব্লগিংকে শুধুমাত্র মন্তব্য প্রদানের মাঝেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলাম :( ।তাই নতুন বছরটিকেই বেছে নিলাম সববাধাকে ছুঁড়ে ফেলে,আবার নবউদ্যমে ব্লগিং এ নেমে পড়ার জন্য :)

কিন্তু এই নবউদ্যোগের শুরুতেই খেলাম বিশাল ধাক্কা!!!মাথায় লেখার কোন আইডিয়াই আসছে না :D । তাই ভাবলাম নববর্ষের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়েই একটি পোষ্ট দিয়ে ফেলি।;)

কাল ঘুম থেকে উঠলাম সকাল ৭:৩০ এ।এক বন্ধু রিকশা নিয়ে আসবে ৮:৩০ এ। তার সাথে প্রেস ক্লাব যাবো,সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বুয়েট ক্যাম্পাস। তাই রাতে ঘুমানর আগেই আলার্ম দিয়ে রেখেছিলাম। ভাবলাম দিনের সবকিছুই ভাল কাটবে,কারণ প্রথম ধাপটিই পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হয়েছে।কিন্তু বিধি বাম!!! প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে গিয়েই চলে গেল ২০টা মিনিট:D।যা হোক দেরির কারণে আম্মু নাস্তা খাইয়ে দিল। খাওয়া শেষে গোসলে ঢুকতে যাব; মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ হিসেবে এলো বন্ধুর ফোন-সে পৌঁছে গেছে আমার বাসার কাছাকাছি রিকশা নিয়ে এবং রিকশা ঠিক করেছে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত :|।তাই কোনমতে মাথায় পানি ঢেলেই দৌঁড়!

প্রেসক্লাবে নেমেই ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে হন্টন শুরু এবং মিনিট পাঁচেকের মাঝেই বৈশাখী হন্টন আনন্দের যে আশা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলাম,তার অবাঞ্ছিত মোহমুক্তি ঘটল রৌদ্রের খরতাপে।তাই যাত্রার দিক পরিবর্তন করলাম হলের উদ্দেশ্যে।হলে গিয়েই গা এলিয়ে দিলাম ঠান্ডা বাতাসে। আরেকটি ভালো কাজ করলাম বন্ধুদের ঘুম থেকে উঠিয়ে।:)

১০টার দিকে সবাই একসাথে ক্যাফের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম।সেখানে আরো অনেক বন্ধুও এসে যোগ দিল।সবাই একসাথে কিছুক্ষণ গান গাইলাম। প্রেমিক বন্ধুরা একসময় বিদায় নিল আমাদের কাছ থেকে। আর আমরা ব্যাচেলররা বসে বসে বৈশাখী শাড়ি পরা ললনাদের দেখতে লাগলাম ;)। প্রকৃতির অমোঘ নিয়ম অনুসারে শুধু সিনিয়র আপুদেরই পছন্দ হল:D। এক্জন জুনিয়র বা ব্যাচমেটও চোখে লাগলো না/:)

চোখের ব্যায়াম শেষ হলে সবাই মিলে বের হলাম ক্যাম্পাস ভ্রমণে।এরই মাঝে এক বন্ধু ঘোষনা দিয়ে বসল সে আজ তার পছন্দের মেয়েটিকে মনের কথা জানিয়ে দেবে।আরেকটা ব্যাচেলর কমছে এই দুঃখকে পাশে রেখেই বন্ধুর সাহায্যে ঝাপিয়ে পড়ার প্রতিজ্ঞা করলাম সবাই :D।বিধাতার কি খেলা?ক্যাফে থেকে বের হতেই মেয়েটির সাথে দেখা।আমরাও নতুন উদ্যোমে এগিয়ে যেতে লাগলাম।কিন্তু যখনই ভাবলাম খেলা শুরু হবে, দেখি আমাদের দুরন্ত সাহসী বন্ধুটি উধাও!!আশেপাশে তাকিয়ে দেখি সে উসাই বোল্টকে হার মানিয়ে আর্কিটেকচার বিল্ডিং এর দিকে ভোঁ দৌড় লাগিয়েছে। =p~

আসন্ন এই অ্যাডভেঞ্চার অঙ্কুরেই ঝড়ে পড়ায় আমরা টিএসসির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম।দুপুরের মাঝে পুরো ভার্সিটি এলাকা ঘোরা শেষ করে এক বন্ধুর বাসায় ঘাটি গাড়লাম দুপুরের খাওয়ার জন্য।খাওয়া শেষে এক ঘন্টা বিশ্রাম- এর মাঝেই হোষ্ট বন্ধুটি কি-বোর্ড বাজিয়ে আর গান শুনিয়ে তার অসাধারণ প্রতিভার সাথে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিল :),যা দুই বছর আমাদের কাছে অজানাই ছিল।

৬:০০টার দিকে আবার আর্কিটেকচার বিল্ডিং এর উদ্দেশ্যে যাত্রা, লক্ষ্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপভোগ।তবে মূল লক্ষ্য ছিল "শিরোনামহীন"-এর কনসার্ট।আগে আগে যাওয়ায় দ্বিতীয় সারিতেই জায়গা পেয়েছিলাম।যা হোক আমাদের পরিশ্রম বৃথা যায়নি।বাউল গান আর আর্কির নিজস্ব ব্যান্ডের উপস্থাপনা ছিল চমৎকার।বাউল গান যথারীতি সুপারহিট।আমিও সুযোগ পেয়ে আমার ঝাকড়া চুল ঝাকিয়ে নিলাম;)।আর আর্কির ব্যাণ্ডের পরিবেশনা ছিল অসাধারণ।একে একে তারা গাইল ওয়াটসন ব্রাদার্সের- রঙ,অর্থহীনের-চাইতে পার আর বিজয়ের গান, ওয়ারফেইযের- সময়ের ছলনায়

তারপর এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ-শিরোনামহীনের আগমন।তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে শিরোনামহীন মঞ্চে প্রবেশ করল।কনসার্ট শুরু হল বুয়েটের জাতীয় সংগীত ক্যাফেটারিয়া দিয়ে।এরপর তারা পরিবেশন করল-একা পাখি,নদী,সূর্য,ইচ্ছে ঘুড়ি,বন্ধ জানালা,বুলেট কিংবা কবিতা। ব্যতিক্রমধর্মী পরিবেশনা হিসেবে ছিল "পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে"।
কনসার্টের সমাপ্তি ঘটল হাসিমুখ দিয়ে যেন আমরা হাসিমুখে স্ব-গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে পারি।সবশেষে তুহিন ভাই খালি গলায় বাংলাদেশ গানটির কয়েক লাইন গেয়ে শুনালেন।মোহাবিষ্ট একটি ঘন্টা কিভাবে কেটে গেল বুঝলাম না!!!এক আনন্দময় অনুভূতি নিয়ে হলে ফিরে চললাম। :)
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০০৯ দুপুর ১:৫৯
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×