somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ছোট্ট বাবুটা (৫)

১৪ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আগের পর্বঃ আমার ছোট্ট বাবুটা (৪)

এইভাবে সপ্তাহখানেক চলার পর বুঝতে পারলাম বাবু আমাকে চিনতে পারছে। আমাকে দেখা মাত্র সে একটা হাসি দেয়, ছোট্ট হাত দুটো বাড়িয়ে দেয় আমার দিকে। সেটা ছিলো জুলাই মাসের মাঝামাঝি। আমার ফ্লাইট নভেম্বরে, কাজেই কাজ ছেড়ে দেই, ঠিক করি যাবার আগ পর্যন্ত আমি সম্পুর্ন সময়টা আমার বাবুর সাথে কাটাবো।

সে সময় বাবুকে কয়েকটা টিকা দেয়া হয়। বাচ্চারা খুব কান্না করে টিকা দিলে, অনেক কষ্ট লাগে তখন, কিন্তু কিছুই করার নেই। আমাদের বাসার পাশেই ছিলো সুর্যের হাসি ক্লিনিক, সেখান থেকেই টিকা দেই, কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে বাবু মিনিট দুয়েক কেঁদে চুপ হয়ে যায়, বাসায় আসতে আসতে চুপ। ওর মা'ও খুব অবাক হয়। বাবুটা আসলেও অনেক কম কান্না করতো সে সময়। কিন্তু গভীর রাতে মাঝে মাঝে কেঁদে উঠতো, কেউ থামাতে পারতোনা ওকে, শুধু আমি কোলে নিলে সে চুপ করতো। পরে আব্বু একটা তাবিজ এনে দেন ওকে, তখন থেকে আর প্রতিরাতে কাঁদতো না।

এর মধ্যে আমিও বাবুর সাথে ঘুমানো আর যাগায় অভ্যস্ত হয়ে যাই। সে একটানা ২ ঘন্টা ঘুমাতো, আবার কিছুক্ষন জেগে থাকতো, খেতো, খেলতো। ওর তো আর রাত দিন বোঝার মত বয়স হয়নি তখন, তাই মাঝ রাতে উঠে খেলতে শুরু করতো। আমি দেখেছি - আমাকে থাবা দিয়ে জাগানোর চেষ্টা করতো সে। যদি আমি সাড়া না দিতাম, তাহলে একা একাই হাত পা নেড়ে খেলতে শুরু করতো। আমার খুব মজা লাগতো ওর খেলা দেখতে। কিন্তু এক সময় কাঁথা ভিজিয়ে ফেললেই সে আর তার ছোট্ট বিছানায় থাকতো না। কোল বালিশ ঠেলে ঠেলে আমার বুকের ওপর এসে উঠতো। সে জন্য আমিও মাঝে মাঝে ওর খেলা দেখতে দেখতে হাত দিয়ে ও কাঁথা ভিজিয়েছে কি না সেইটা পরখ করতাম, সে যখনই বুঝে যেত যে পাপা জেগে আছে ... সে কি হাসি তার। দাঁত ছাড়া মুখের সে হাসি হলো পৃথিবীর সবচাইতে দামী জিনিস।



আস্তে আস্তে বাবুর জেগে থাকার সময়টা বাড়তে থাকে। ১০ মিনিট খেলেই সে আর ক্লান্ত হয়ে যায়না। বিছানাতেও থাকতে চায়না তখন। সেই সময় আমি ওকে নিয়ে চলে যেতাম বসার ঘরে। একুইরিয়ামের সামনে বসিয়ে দিলে সে তার চেঁপে ধরতো কাঁচের সাথে, কি যে মজা লাগতো তখন। আর কেন যেন মাছ গুলো এগিয়ে আসতো ওর মুখের বা হাতের দেখা পেলেই। সে খুব অবাক হয়ে একবার মাছদের দেখতো, আবার আমার মুখের দিকে দেখতো। আমি ওকে মাছগুলোর নাম বলতাম, সে চুপ করে শুনতো। এক সময় আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম যে আমি ওর সাথে অনেক গল্প করি, অনেকটা বড় মানুষের মতই, সে মনযোগ দিয়ে শোনে :P কিছু দিনের মধ্যে আমাদের বাপ ব্যাটার গল্পের কথাটা ফাস হয়ে গিয়ে সবাই অনেক হাসাহাসি করেছিল :P



প্রতিদিনই দেখি বাবুটা একটু একটু করে বড় হচ্ছে, প্রতিদিনই সে নতুন নতুন কান্ড করতে শুরু করে। খুব মিশুক বাবু সে, সবার কোলে যায়, কোলে গিয়ে হাসে, খায় দায়, ঘুমায় তার ইচ্ছে মত, জেগে উঠে কাউকে না দেখতে পেলে কিছুক্ষন একা একাই খেলে, তারপর একটা চিৎকার দেয়, কেউ আসলেই থেমে যায় অবস্য। এর মাঝেই আমার বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি চলতে থাকে। বেশ কিছুক্ষন পর আমাকে দেখতে পেলে বাবু ঝাপিয়ে আমার কোলে আসে, আর আমাকে জাপটে ধরে রাখে শক্ত করে। আর বিকেল বেলা আমার সাথে ঘুরতে যাওয়া ওর অভ্যাস হয়ে যায় ততদিনে। একটা নতুন কিছু দেখলে সে আমার দিকে তাকায়, আমি বলে সেইটা কি, তারপর আবার দেখে। আমি ওকে নিয়ে বেশীরভাগ সময় রিক্সা দিয়ে বেড়াতাম বাসার আসে পাশেই। সে এক সাথে রাস্তার সব কিছু দেখে ফেলতে চেষ্টা করত, বার বার ঘাড় এদিক ওদিক করতো :D তারফলে ক্লান্ত হয়ে আর রিক্সার ঝাকুনীতে ঘুমিয়ে পরতো আমার কোলে।

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩৩
৩৩টি মন্তব্য ৩৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×