মায়েরা সবসময় ভুল করে। এই মা-টিও করেছিলেন। তার একটি ছেলে জন্ম না দেওয়া পর্যন্ত জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা উচিত হয়নি। এমনকি বাবাটিও বুঝতে পারেননি তার মৃত্যুর পর একদিন এই অনাগত ছেলে না থাকার ফলাফল স্বরূপ তার স্ত্রী'র হাসপাতালের এটেন্ডেনস এর ডিউটি দেবার জন্য কেউ থাকতে পারবে না।
এখনকার হাসপাতালে পোস্ট অপারেটিভ সেন্টার বলে যে জায়গাটি থাকে সেটার সামনে বা আশেপাশে রোগীর কোন আত্মীয়-স্বজনকে থাকার অনুমতি দেয় না। কিন্তু বলে দেয় হাসপাতালের নীচের লাউঞ্জে যেন কেউ না কেউ থাকে। কারণ রোগী কোন সিরিয়াস মুহূর্তে চলে গেলে যেন প্রয়োজনীয় বাইরের জিনিসপত্র আনা কিংবা সিদ্ধান্ত নেবার কাউকে পাওয়া যায়।
একজন মা হার্ট স্ট্রোক করাতে ছোট্ট একটা অপারেশন হবার পর পোস্ট অপারেটিভ এর সামনে বা আশেপাশে রাতে থাকার মত কোন পুরুষ দরকার এটি হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানালেন। এবং যথারীতি এই মায়ের দুটি সন্ন্তানই মেয়ে হবার কারণে সেখানে থাকার ব্যাপারে বিধিনিষেধ জারী হল। সবাই বোঝাতে চেষ্টা করল এটা নিরাপদ নয়। কেন নিরাপদ হবে না এটা কেউ একবারের জন্যও প্রশ্ন করে না। কারণ প্রয়োজন পরে না।
কারণ আমাদের দেশে আজও অনেক উচ্চশিক্ষার সার্টিফিকেটধারী মানুষেরা ৬-৭টি করে সন্তান জন্ম দেয় একটি ছেলের আশায়।
আজও অনেক উচ্চ চিন্তার ফসল উৎপাদনকারী যুবকেরা তাদের বোন স্ত্রী দের রাতে বাইরে নিয়ে যেতে ভয় পায়। তারা এটা চিন্তা করে না আজ তারা তাদের দুর্বলতা প্রকাশ করছে। তারা পুরুষ হবার চেষ্টায় খামতি রেখে যাচ্ছে। তারা যদি নিজেদের বোন স্ত্রীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এটা করে তাহলে বলা উচিত তারা কাপুরুষ। কারণ তারা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না।
আমরা কি আজও মানুষ হবার চেষ্টার মাঝপথে দৈহিক গঠনের কারণে পুরুষ কিংবা নারী হয়েই থাকব?
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা অক্টোবর, ২০১২ রাত ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





