বিধাতা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর সৃষ্ট জগতের সেরা হিসেবে । মানুষের প্রতি তাঁর অসীম ভালোবাসার কারণেই হয়তো শ্রেষ্টত্বের দাবিদার তিনি মানুষকেই করেছেন । কিন্তু যদি ভালোই বাসবেন, তবে কেন তিনি সব মানুষকে শারীরিক এবং মানসিক দিক দিয়ে সমান করে গড়ে তোলেন নি? কেন মানুষে, মানুষে এত ভেদাভেদ? কেন এত বৈষম্য? স্বয়ং বিধাতা ছাড়া এর উওর হয়তো আমাদের কারো জানা নেই ।
মানুষ হিসেবে শারীরিক এবং মানসিক কোন এুটি থাকলেই সে মানুষটি প্রতিবন্ধী । অথর্াৎ সে জন্মেছে কোন না কোন এুটি নিয়েই । কিন্তু সুস্থ হয়ে জন্মাতে না পেরে ঐ মানুষটির দোষ কোথায়?এর জন্যে সে যেমন দায়ী নয় তেমনি তার বাবা-মা ও নয় । সৃষ্টিকতর্া ইচ্ছা করেছেন তাকে তিনি অপূর্ণ রাখবেন এবং এভাবেই পৃথিবীর আলোতে পাঠাবেন, আর তিনি তাই করেছেন ।এটা হয়তো তিনি করেছেন মানুষকে পরীক্ষা করে দেখবার জন্য । কারণ পরিপূর্ণএবং অপূর্ণ সকল মানুষই তিনি সৃষ্টি করেছেন । সকল কৃতিত্ব তাঁর একারই । যে মানুষটি পূর্ণ আর যে অপূর্ণ, সৃষ্ট জীব হিসেবে তারা সবাই তাঁর কাছে সমান । তিনি হয়তো ভেবেছিলেন তার সৃষ্টি এটা নিয়ে কোন পার্থক্য করবে না । করবে না কোন অহঙ্কার । নিজেদের মাঝে গড়ে তুলবে না ভেদাভেদের দেয়াল । কিন্তু পৃথিবীর মানুষরা কি তা পেরেছে??? মানুষ কি পেরেছে তাঁর অপূর্ণ সৃষ্টিকে মেনে নিতে? তারা তাকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করতে পারে না । আর পারে না বলেই তাকে পরিবার এবং সমাজ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়া হয় । তাকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হয় একাকিত্বের জগতে । কেউ সহজ ভাবে মেনে নিতে পারে না । আর দশটা শিশুর মত স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠতে দেয়া হয় না তাকে । গড়ে দেয়া হয় পার্থক্যের প্রাচীর । আর এভাবে পার্থক্যের মাঝে বড় হতে হতে, একসময় সে মানুষটি প্রচন্ড অভিমান নিয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় ।
প্রতিবন্ধী বলতে আমি বুঝি নিজের মাঝে বন্দি থাকাকে । কেননাএকজন প্রতিবন্ধী মানুষ কে সারাজীবন ই নিঃসঙ্গতা এবং একাকিত্বের মাঝে কাটাতে হয় । বেশির ভাগ ক্ষেএেই তারা কাউ কে নিজের জগতে আনতে পারে না এবং নিজেরা ও অন্যের জীবনে প্রবেশ করতে পারে না । যদি কেউ কখনো ওদের জীবনে প্রবেশ করেও ফেলে তবুও ওদের নিঃসঙ্গতা দূর হয় না । হয়তো সে মানুষটির জন্য ভালোবাসার বদলে করুণা থাকে বলেই তাকে কখনো পুরোপুরি বুঝতে পারে না হয়তো আমরা চাই না বলেই তা পারি না । কেন আমরা তা পারি না? এ ব্যর্থতা কি আমাদের নয়???
যে মানুষগুলো এ ভুবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, তাদেরকে আমরা কখনো খুঁজে বের করতে পারবো না । পারবো না কখনো ফিরিয়ে আনতে । কিন্তু যারা বেঁচে আছে, আমরা কি পারি না ওদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য ওদের পাশে গিয়ে দাড়াঁতে? পারিনা কি ওদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে? অকৃওিম ভালোবাসা উপহার দিয়ে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে? পারি কি পৃথিবীর সব মানুষ এক হয়ে যেতে? পারি কি ভেদাভেদের দেয়াল তুলে নিয়ে ভালোবাসার জাল বুনতে? তবে ওরা ও উপলব্ধি করতে পারবে, মানুষ হয়ে জন্মিয়ে কেউ ভুল করে নি । যেদিন আমরা তা পারবো, সেদিন ই হয়তো মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকবার সার্থকতা খুঁজে পাবো ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


