somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্ত চাই, আরো বেশি বেশি রক্ত...

০২ রা মার্চ, ২০০৬ সকাল ৮:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


''... একটি ... মশার ... আত্মকথন ...''

আমি একটি স্ত্রী মশা । আমার নাম মিংই । আমার একডজন ছেলেপুলে আছে । আমার পূর্ব পুরুষের অনেকেই এডিস মশার বংশধর ছিল । এখনো আমার বংশে অনেকেই আছে যারা এডিস মশার জীবানু বহন করে । সেই হিসেবে আমার বংশ অতিব উচ্চ । আমার বয়স হয়েছ । কখন চলে যেতে হয় তার নাই ঠিক । তাই ভাবলাম আমার বংশধর ও মনুষ্য জাতির উদ্দেশ্যে কিছু বলে যাই ।

মানুষের রক্ত খেতে খুবই মজা লাগে । যখন তাদের দেহে হুল ফোঁটাই আর রক্ত শুষে নেই কি যে ভালো লাগে । এখন আবার দিনে এডিস মশারা রাজত্ব করে । ওদের মত আমরাও তাই দিনে জেগে থাকার চেষ্টা করি । মাঝে মাঝে ক্লান্তি লাগে । সারারাত ঘুরে বেড়িয়ে পরিশ্রম তো আর কম হয় না । তবুও রক্ত খাওয়ার চাইতে আনন্দদায়ক আর কিছু নাই । আমি আবার গানও গাইতে পারি । মানুষের কানের কাছে গিয়ে গুনগুন করে মাঝে মাঝেই গান শুনিয়ে আসি । যদিও মনুষ্য জাতি এগুলোকে মশার ভনভনানি ভেবে ভুল করে । রক্ত খেতে ইচ্ছে হলেও খাই, ইচ্ছে না হলেও কামড় বসাই । কুটুস করে যখন মানুষের শরীরে কামড় দেই, তখন কি যে ভালো লাগে বলে বোঝাতে পারবো না ।

কিন্তু কিছু বদ লোকের জন্য আমার বংশ এখন আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে । এরা 'মশা নিধন' নামে প্রায় ই কিছু বৃথা কর্মসূচিতে যোগদান করে ।এ সকল লোকদের বলছি, তোমরা যত যাই কর কিছু করতে পারবে না । আর করলেও এখন কোন লাভ হয় না । স্প্রে, ধূপ, কয়েল যাই বলো না কেন, কাবু করতে পারবে না । ঝিম মেরে বসে থাকি কিছুক্ষণ । এসবের বিরুদ্ধে নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলছি । দিনদিন আরো এগিয়ে যাচ্ছি । তাই এখন আর এসব বিষাক্ত কিটনাশকে কোন কাজ হবে না । মজার ব্যাপার হচ্ছে, মশা মারার জন্য ওরা যা ব্যবহার করে তাতে ওদেরও ক্ষতি হয় । ঐ ফুসফুস নাকি কি যেনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ।

অতিব দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে, মানুষ যখন ওদের দু' হাতের তালু দ্্বারা আমাদের পিষ্ট করে তখন আর কিছু করার থাকে না । এভাবে আমার বংশের অনেকেই অকালে ঝড়ে পড়েছে । ফুলের মত নিষ্পাপ এ বাচ্চাদের আমি বা আমরা ধরে রাখতে পারি নাই । এখনও সবাই আফসোস করে । এ হইতে মুক্তির কি কোন উপায় নাই???

আমার বংশধরদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু এটাই বলতে চাই - তোমরা রক্ত খেয়ে যাও । আরো বেশি বেশি করে, তৃষ্ণা মিটিয়ে খাও । যত পার, তত খাও । পারলে মানুষের বংশ, করে দাও নির্বংশ । ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত না করে ফিরবে না । তবে খেয়াল করো, নিজেরা আবার মারা পড়ো না । সাবধানে অবশ্যই বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে রক্ত খেতে যাবা । আমার জীবন ভালো কেটেছে, সকল তৃষ্ণা মিটেছে । পরিশেষে, সকলের রক্ত খাওয়া সার্থক হোক, মানুষের বংশ নির্বংশ হোক-এই প্রত্যাশাই রইলো ।

আমি একটি গল্প বলার চেষ্টা করলাম (এটা কি হয়েছে বা কিছু হয়েছে কিনা আমি বুঝতে পারছি না ) । আসলে এ সময় যে হারে মশা বেড়ে চলেছে, মশার প্রকোটে জীবন অতিষ্ট । একদিকে কারেন্ট থাকে না, আবার মশারাও মারাত্বক জ্বালাতন করে । দিনদিন মশা যেভাবে বংশ বিস্তার করছে, এভাবে বাড়তে থাকলে দেশের জনসংখ্যা হয়তো সত্যিই কমে যাবে ।

ঢাকা শহরের চারপাশের পঁচা- দুর্গনধ, আবর্জনা, জমে থাকা পানি মশার ডিম পাড়ার স্থান । বংশ বৃদিধতে সহায়তা করছে । আমদের নিজেদের
ঘর বাড়িও পরিষ্কার রাখতে হবে । পানি জমিয়ে রাখা যাবে না । কিন্তু পানি সংকটের এই সময় এ শহরের অনেক এলাকাতেই পানি থাকে না । ফলে পানি জমিয়ে রাখা ছাড়া নগরবাসীর আর কোন উপায় নেই । তবুও চেষ্টা করা উচিত পানিটা যেন পরিষ্কার ও ঢাকা থাকে আর এর উপর সূর্যের আলো না পড়ে । আমি মনে করি মশা নিধন প্রকল্পে সকরারের পক্ষ থেকে জোড়দার কর্মসূচি গ্রহন করা উচিত । নিজেরাও মশা মুক্ত জীবন যাপন করুন, অন্যকেও সহযোগিতা করুন ।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×