''... একটি ... মশার ... আত্মকথন ...''
আমি একটি স্ত্রী মশা । আমার নাম মিংই । আমার একডজন ছেলেপুলে আছে । আমার পূর্ব পুরুষের অনেকেই এডিস মশার বংশধর ছিল । এখনো আমার বংশে অনেকেই আছে যারা এডিস মশার জীবানু বহন করে । সেই হিসেবে আমার বংশ অতিব উচ্চ । আমার বয়স হয়েছ । কখন চলে যেতে হয় তার নাই ঠিক । তাই ভাবলাম আমার বংশধর ও মনুষ্য জাতির উদ্দেশ্যে কিছু বলে যাই ।
মানুষের রক্ত খেতে খুবই মজা লাগে । যখন তাদের দেহে হুল ফোঁটাই আর রক্ত শুষে নেই কি যে ভালো লাগে । এখন আবার দিনে এডিস মশারা রাজত্ব করে । ওদের মত আমরাও তাই দিনে জেগে থাকার চেষ্টা করি । মাঝে মাঝে ক্লান্তি লাগে । সারারাত ঘুরে বেড়িয়ে পরিশ্রম তো আর কম হয় না । তবুও রক্ত খাওয়ার চাইতে আনন্দদায়ক আর কিছু নাই । আমি আবার গানও গাইতে পারি । মানুষের কানের কাছে গিয়ে গুনগুন করে মাঝে মাঝেই গান শুনিয়ে আসি । যদিও মনুষ্য জাতি এগুলোকে মশার ভনভনানি ভেবে ভুল করে । রক্ত খেতে ইচ্ছে হলেও খাই, ইচ্ছে না হলেও কামড় বসাই । কুটুস করে যখন মানুষের শরীরে কামড় দেই, তখন কি যে ভালো লাগে বলে বোঝাতে পারবো না ।
কিন্তু কিছু বদ লোকের জন্য আমার বংশ এখন আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে । এরা 'মশা নিধন' নামে প্রায় ই কিছু বৃথা কর্মসূচিতে যোগদান করে ।এ সকল লোকদের বলছি, তোমরা যত যাই কর কিছু করতে পারবে না । আর করলেও এখন কোন লাভ হয় না । স্প্রে, ধূপ, কয়েল যাই বলো না কেন, কাবু করতে পারবে না । ঝিম মেরে বসে থাকি কিছুক্ষণ । এসবের বিরুদ্ধে নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলছি । দিনদিন আরো এগিয়ে যাচ্ছি । তাই এখন আর এসব বিষাক্ত কিটনাশকে কোন কাজ হবে না । মজার ব্যাপার হচ্ছে, মশা মারার জন্য ওরা যা ব্যবহার করে তাতে ওদেরও ক্ষতি হয় । ঐ ফুসফুস নাকি কি যেনো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় ।
অতিব দুঃখের সহিত বলতে হচ্ছে, মানুষ যখন ওদের দু' হাতের তালু দ্্বারা আমাদের পিষ্ট করে তখন আর কিছু করার থাকে না । এভাবে আমার বংশের অনেকেই অকালে ঝড়ে পড়েছে । ফুলের মত নিষ্পাপ এ বাচ্চাদের আমি বা আমরা ধরে রাখতে পারি নাই । এখনও সবাই আফসোস করে । এ হইতে মুক্তির কি কোন উপায় নাই???
আমার বংশধরদের উদ্দেশ্যে আমি শুধু এটাই বলতে চাই - তোমরা রক্ত খেয়ে যাও । আরো বেশি বেশি করে, তৃষ্ণা মিটিয়ে খাও । যত পার, তত খাও । পারলে মানুষের বংশ, করে দাও নির্বংশ । ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়ায় আক্রান্ত না করে ফিরবে না । তবে খেয়াল করো, নিজেরা আবার মারা পড়ো না । সাবধানে অবশ্যই বুদ্ধি বিবেচনা নিয়ে রক্ত খেতে যাবা । আমার জীবন ভালো কেটেছে, সকল তৃষ্ণা মিটেছে । পরিশেষে, সকলের রক্ত খাওয়া সার্থক হোক, মানুষের বংশ নির্বংশ হোক-এই প্রত্যাশাই রইলো ।
আমি একটি গল্প বলার চেষ্টা করলাম (এটা কি হয়েছে বা কিছু হয়েছে কিনা আমি বুঝতে পারছি না ) । আসলে এ সময় যে হারে মশা বেড়ে চলেছে, মশার প্রকোটে জীবন অতিষ্ট । একদিকে কারেন্ট থাকে না, আবার মশারাও মারাত্বক জ্বালাতন করে । দিনদিন মশা যেভাবে বংশ বিস্তার করছে, এভাবে বাড়তে থাকলে দেশের জনসংখ্যা হয়তো সত্যিই কমে যাবে ।
ঢাকা শহরের চারপাশের পঁচা- দুর্গনধ, আবর্জনা, জমে থাকা পানি মশার ডিম পাড়ার স্থান । বংশ বৃদিধতে সহায়তা করছে । আমদের নিজেদের
ঘর বাড়িও পরিষ্কার রাখতে হবে । পানি জমিয়ে রাখা যাবে না । কিন্তু পানি সংকটের এই সময় এ শহরের অনেক এলাকাতেই পানি থাকে না । ফলে পানি জমিয়ে রাখা ছাড়া নগরবাসীর আর কোন উপায় নেই । তবুও চেষ্টা করা উচিত পানিটা যেন পরিষ্কার ও ঢাকা থাকে আর এর উপর সূর্যের আলো না পড়ে । আমি মনে করি মশা নিধন প্রকল্পে সকরারের পক্ষ থেকে জোড়দার কর্মসূচি গ্রহন করা উচিত । নিজেরাও মশা মুক্ত জীবন যাপন করুন, অন্যকেও সহযোগিতা করুন ।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


