আমি আধাঁরে দাড়াঁই
আকাশের তারা চাই
কৃষ্ণের চাঁদ দেখে
প্রতিদিন মরে যাই ।
আমি মৃত্যুর শব থেকে জাগি
জীবনের কলোরবে রাগি
তুমি মৃত্যুকে করে দাও নির্ঝর
আমাকে মেরে ফেল ঈশ্বর ।
আমার চোখ তুলে নিয়েছে সকাল
ঝলসে দিয়েছে সূর্যের কাল
আমি চাই সীমাহীন আধাঁরের সখ্যতা
এইখানে মৃত্যুর নিরবতা ।
আমি মরে গেছি বহুকাল
কবেই তো ছেড়েছি জীবনের জঞ্জাল
ঈশ্বর আমায় গড়েছে যেদিন
আমি মরে গেছি তার পরদিন ।।
মানুষ যখন এই পৃথিবীতে জন্ম নেয়, তখন সে ভয় পায় । অনেকদিনের পরিচিত প্রচন্ড অন্ধকার কোন জায়গা থেকে, হঠাৎ আলোকিত সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে এসে পড়ে বলেই হয়তো এই ভয় পাওয়া । তেমনি একদিন এই আলো ছেড়ে সবাইকে আবার আধাঁরে ফিরে যেতে হবে । কখনো না দেখা সেই সীমাহীন অন্ধকারে মানুষ কি খুব ভয় পাবে? কেমন হবে তখন তাদের অনুভূতি? নাকি ভয় অনুভব করবার ক্ষমতাও তখন তাদের থাকবে না? এটা কি অন্ধকার থেকে আলোতে এসে, আবার অন্ধকারের কাছেই নিজেকে সমার্পণ করা নয়???
শুনেছি মানুষ মরে গেলেও নাকি পৃথিবীর সবাইকে দেখতে পায় । মৃতের আত্মা ঘোরাঘুরি করে তার প্রিয়জনদের চারপাশে । তখন কি তাদের খুব কষ্ট হয়, যখন সবার সব কিছু দেখেও ওরা কিছু বলতে পারে না? হয়তো কষ্ট হবে কারো কষ্ট দেখে। হয়তো আনন্দে হেসে ফেলতে ইচ্ছে হবে । কিন্তু কখনো কেউ সেটা দেখতে পাবে না। খুব কি ভয় লাগবে অন্ধকার অন্নরকম জগতে থাকতে? মৃতেরা নিজেদের মাঝে নিশ্চয়ই অন্নরকম নতুন কোন জগৎ তৈরি করে ফেলে । কিন্তু পৃথিবীর মানুষ ই নিজেকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না । তাহলে মৃতরা কি সব ভেদাভেদ, বৈষম্য ভুলে গিয়ে সবাই একসাথে মিলেমিশে থাকে? নাকি একা একা ঘুরে বেড়ায়? কেমন হবে ওদের সেই সীমাহীন অন্ধকার জগৎ? ওদের মাঝেও কি থাকে ''মানুষ'' নামক প্রাণির সাধারণ সব অনুভূতি ? মায়া, মমতা, কষ্ট, সহানুভূতি, ভালোবাসা অনুভব করবার কোন ক্ষমতা হয়তো ওদের থাকবে না । হয়তো সব কিছুই হবে অন্নরকম । পরিচিত পৃথিবীর কোন কিছুর সাথেই কোন মিল থাকবে না । আমরা হয়তো শত চেস্টা করেও কখনো সেটা জানতে পারবো না । কেমন হবে সেই জগৎটা? মাঝে মাঝে এসব ভেবে ভয় করে । আবার খুব কৌতুহল ও হয় । কারণ, অজানাকে জানার ইচ্ছে যে মানুষের বহুদিনের। একবার মরে গিয়ে সব কিছু দেখে, আবার ফিরে আসতে পারলে ভালো হতো ।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


