হ্যাঁ, বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের কথাই বলছি।যিনি বর্তমানে ভারতের চলচিত্তের নাম্বার ওয়ান হিরো।তিনি ‘টাইগার অফ বলিউড’, ‘ব্লকবাস্টার খান’, ‘বক্স অফিস কিং’ এবং সেই সাথে তার ভক্তদের কাছে ‘সল্লু’ এবং ‘ভাইজান’ নামেও পরিচিত। আমেরিকার টিভি চ্যানেল সি.এন. এন এর মতে, সালমান খান শুধু উপমহাদেশে নয় বরং পৃথিবীর সেরা জনপ্রিয় অভিনেতাদের একজন এবং বর্তমানে সিনেমার ব্যবসায়িক দিক থেকে ভারতের সবচেয়ে অভিনেতা। বর্তমানে সিনেমা প্রতি তার পারিশ্রমিক প্রায় ১০০-১৫০ কোটি রুপি।
আমাদের অনেকেই সালমান খানকে পছন্দ করেন তার স্টার ইমেজ, উদারমনা মন-মানসিকতা, সুন্দর মুখশ্রী,দুর্দান্ত ফিগার এবং সাবলীল অভিনয়শৈলীর কারনে।সালমান খানের দানের কথাও প্রায়ই শোনা যায়।সালমান খান, তরুণ-তরুণীদের কাছে রীতিমতো আইডল।সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সালমান খান অভিনীত সিনেমা “বজরঙ্গী ভাইজানের” কল্যাণে তার জনপ্রিয়তা এখন আরও তুঙ্গে এবং তার উদার মন-মান সিকতার কথা সর্বত্র আলোচিত হচ্ছে।এই সিনেমায় সালমান খানকে একজন উদারমনা অসাম্প্রদায়িক মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অনেকে সিনেমার মতো বাস্তবেও সালমান খানকে ভালও উদার মন-মানসিকতার মানুষ বলে মনে করেন যেটি সম্পূর্ণরূপে ভুল, হাস্যকর ও বাস্তবতাবির্বজিত ধারনা।
সালমান খানের ক্যারিয়ার যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাই, একের পর এক বিতর্কের কারণে তিনি খবরের শিরোনাম হয়েছেন। এমন কোন অপরাধ নেই যা সালমান খান করেননি। মাতাল অবস্তায় গাড়ি চালিয়ে মানুষ খুন খুন করা,দুর্লভ বন্য প্রাণী হত্যা করা, একের পর এক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলা, সহ অভিনেতাদের হুমকি দেওয়া ও অশ্রাব্য গালিগালাজ করা,জেলে যাওয়া,বেপরোয়া জীবনযাপন করাসহ এমন কোন কুকর্ম নেই যা তিনি করেননি।সম্প্রতি মুম্বাই সিরিজ বোমা হামলার অন্যতম আসামি ইয়াকুব মেমনের ফাঁসির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে টুইট করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।১৯৯৩ সালে সংগঠিত মুম্বাই সিরিজ বোমা হামলায় প্রায় ২৫০ জন মানুষ নিহত এবং ১৪০০ মানুষ আহত হয়। এই হামলার অন্যতম আসামি দাউদ ইব্রাহীম, টাইগার মেমনের অন্যতম সহযোগী ছিল এই ইয়াকুব মেমন। একজন কুখ্যাত জঙ্গির পক্ষ নিয়ে সাল মালমান খান প্রমাণ করেছেন তিনি নিজে ও বিকৃত মন-মানসিকতার মানুষ। সালমান খানের মতো মানুষরা ভাল মানুষ সেজে থাকা মুখোশধারী ভয়ংকর মানুষ। তার পুরো ক্যারিয়ার জুড়ে সব বিতর্কের উপর এক নজর আলোকপাত করা যাক-
১৯৯৯- সালমান খান এবং তার সহ অভিনেতারা “হাম সাথ-সাথ হ্যায়” সিনেমার শুটিং করতে গিয়েছিলেন ভারতের যোধপুরে। সেখানে সালমান খান এবং তার সহযোগীরা দুর্লভ প্রজাতির ‘চিনকারা’ হরিণ শিকার করে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলাও হয়েছে।সেগুলো এখন ও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
২০০২- সেপ্টেম্বর ২৮, ২০০২ সালে সাল মান খান গ্রেফতার হয়েছিলেন মাতাল অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে মানুষ খুন করার কারণে। মাতাল অবস্থায় তিনি তার ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি তুলে দিয়েছিলেন ফুটপাতের উপর। ফুটপাতে শুয়ে থাকা একজন মানুষ গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে সাথে সাথেই মারা যান এবং তিনজন মানুষ মারাত্মকভাবে আহত হন।
২০০২-সালমান খানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক বলিউডের আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায়ের সাথে। কিন্তু সে বছর মার্চে তাদের ব্রেক-আপ হয়ে যায়। এরপর থেকে সাল মান খান তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া ও হয়রানি করতে থাকে। ঐশ্বরিয়া রায়ের মা-বাবা সেই সময় সাল মান খানের বিরুদ্ধে মামলাও করেছিলেন।
২০০৩- অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সাথে তিক্ত সম্পর্ক সেই সময় সালমান খান কে ব্যাপকভাবে সমালোচিত করেছিল।
২০০৮- বলিউডের আরেক সুপারস্টার শাহরুখ খানের সাথে সালমান খানের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে ক্যাটরিনা কাইফের বার্থডে পার্টিতে।সেই পার্টিতে শাহরুখ খান সালমানের সাথে হালকা রসিকতা করলে সালমান খান মেজাজ হারিয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। এই ঘটনা সেই সময় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
২০১০- মুম্বাইয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা সংগঠিত হয় ২০০৮ সালে। জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সদস্য পাকিস্তানি চার যুবক এই হামলায় অংশ নেয়।তারা তাজ হোটেল,শিবাজি রেল স্টেশনসহ একাধিক জায়গায় হামলা চালায়। এই হামলায় প্রায় ১৬৪ জন মানুষ প্রাণ হারায় এবং আহত হয় ৩০৪ জন মানুষ। সালমান খান পাকিস্তানি টিভি চ্যানেলে মুম্বাই বোমা হামলা নিয়ে তির্যক মন্তব্য করে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।তিনি মুম্বাই হামলায় পাকিস্তানকে নির্দোষ দাবি করেন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
২০১৪- ভারতের মুজাফরনগরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ফলে অনেক পরিবার শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয় এবং রিলিফ ক্যাম্পে পুনর্বাসনের অভাবে বহু বাচ্চা মারা যাচ্ছিল।সেই সময় সালমান খান তার সহযোগী মাধুরী দীক্ষিত,আলিয়া ভাটকে নিয়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের হাইফাই সাইফাই মহোৎসব উদযাপন করছিলেন।সালমান খানের মতো একজন পাবলিক ফিগার সেই সময় মুজাফরনগরে অবস্থান করে মানুষ কে সাহায্য করা দূরে থাক বরং আনন্দ ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন।
২০১৫-মুম্বাই সিরিজ বোমা হামলার অন্যতম আসামি ইয়াকুব মেমনের ফাঁসির বিপক্ষে অবস্থান নেন সালমান খান। একজন জঙ্গির পক্ষে অবস্থান নিয়ে পূর্বের সব বিতর্ককে ছাড়িয়ে যান সালমান খান।এটি মিডিয়াতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।এছাড়া কিছুদিন আগে আত্নহত্যা করা অভিনেএী জিয়া খানের আত্নহত্যার ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত তার সাবেক প্রেমিক সুরজ পাঞ্চলিকে সালমান খান প্রযোজিত মুভি “হিরো” তে নায়ক হিসেবে নেওয়ায় ব্যাপক সমালোচলার জন্ম দেয়।
১৯৮৮-২০০৫- এই ২৭ বছরের ক্যারিয়ারে একের পর একে নারীর সাথে সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন। যদিও এখনো পর্যন্ত তিনি চিরকুমার।তার প্রেমিকার তালিকায় আছেন ঐশ্বরিয়া রাই,ক্যাটরিনা কাইফ, সোমু আলী, জেরিনা খান, মেহেক চাহাল(বিগ বস প্রতিযোগী),ক্লডিয়া সিসলা, ভারতীয় ক্রিকেটার আজ হার উদ্দীনের স্ত্রী সংগীতা বীজলানি সহ দেশি বিদেশী আরও অনেক মডেল।
অবশেষে এটা বলতে চাই, সিনেমার চাকচিক্য আর অভিনয় দেখে আমাদের প্রলুব্ধ হওয়ার কোন কারন নেই। সালমান খানরা ভাল মানুষের মুখোশধারী ভয়ংকর মানুষ এবং এই ধরনের ভাল মানুষের মুখোশধারী মানুষ আমাদের সমাজেও রয়েছে।সালমান খান মাঝে মাঝে দানও করে থাকেন যেটি শুধুমাত্র লোক দেখানো,স্টার ইমেজ ও মিডিয়া পাবলিসিটি বজায় রাখার কারণে।সালমান খানরা হাজারটি অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় শুধুমাত্র সিনেমার স্টার হওয়ার কারণে। সালমান খানের লাইফ স্টাইল দেখলেই এটা বোঝা যায়, তিনি একজন বিকৃত-মনা,কামুক,অহংকারী,উদ্ধত, মাতাল,কাণ্ডজ্ঞানহীন এবং বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে। বাংলাদেশের অনেক তরুণ-তরুণীও সালমান খানের সিনেমার ভক্ত, সচেতনভাবে আমাদের সালমান খানের মতো এইসব নীতি-নৈতিকতাহীন সিনেমার স্টারদের বর্জন করা উচিত।



অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

