somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হো চি মিন সিটি- ভিয়েতনাম ছবি ব্লগ

১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



হো চি মিন শহরে আকাশ চুম্বী ভবন তৈরি হচ্ছে দেখলাম। এখন এরকম ভবন বেশি নেই। আগামী বছর গুলোতে হো চি মিন সিটি তে অনেকগুলো আকাশছোঁয়া ভবন দেখা যাবে বোঝা যাচ্ছে। এখন সারা পৃথিবী থেকে দল বেঁধে পর্যটকরা এদেশে আসছে। পর্যটনকে ভিয়েত নামীরা আলাদা ভাবে উন্নয়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা না চালালেও পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক ম্যাপ ও নানা ধরনের গাইড বই প্রায় সব হোটেলে আছে। হোটেল গুলো ও পর্যটক দের ঘুরে বেড়ানোর ব্যাপারে নানা ধরনের সহযোগিতা করে। হো চি মিন সিটির রাস্তা গুলোর পরিচ্ছন্নতা দেখার মত। রাস্তায় কাগজের টুকরা , ময়লা, পলিথিন ও অন্যান্য আবর্জনার কোন চিহ্নই নেই। জনগণ তাদের শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে যেন সংকল্পবদ্ধ। রাস্তার দুধারে দোকান, দোকানগুলো সাজানো গুছানো। তাদের সাইনবোর্ড গুলো বেশ নতুন ও চকচকে। নিয়মিত রঙ করে তা সুন্দর রাখার প্রচেষ্টা চলছে অবিরত। শহরের মধ্যে কিছু দূরে দূরে বেশ বড় বড় চত্বর। এখানে বড় বড় গাছের সারির পাশাপাশি হাঁটার রাস্তা, বাগান এবং পথিকের বিশ্রামের জন্য পার্ক আছে। এসব পার্কে আলো ছায়ার খেলা দেখা যায়। এখানে এসে পথিক কড়া রোদের হাত থেকে কিছুক্ষণের জন্য নিস্তার পায় এবং একটু বিশ্রাম নিতে পারে।

সায়গন শহরে মসজিদ

হো চি মিন সিটি- (সায়গন শহরের) দৃশ্য

সায়গন শহরের দৃশ্য

হো চি মিন সিটিতে আমাদের সময় শেষ। বিকেল বেলা হো চি মিন সিটি থেকে হ্যানয়ের পথে বিমান যাত্রা। বিকেল চারটায় ফ্লাইট, হ্যানয় যেতে সন্ধ্যা ছয়টা বেজে যাবে। সকালের আবহাওয়া চমৎকার, সুন্দর সূর্যের আলো, নীল আকাশে হালকা শাদা মেঘ সহনীয় উষ্ণতা, আমরা একটু আগে লাঞ্চ সেরে ফেলার জন্য সাড়ে এগারোটার দিকে চেক আউট করে হোটেল থেকে রেস্টুরেন্টের দিকে রওয়ানা হলাম। রাস্তায় বেশ ভিড় , আজকে অফিস আদালত সব খোলা। একটা ভাল মুসলিম রেস্টুরেন্টের সামনে গাড়ি থামালাম। আশেপাশে দেখে বুঝলাম এটা মুসলিম প্রধান এলাকা। খোঁজ নিয়ে জানলাম এই এলাকাতে অনেক ভিয়েতনামী মুসলিম থাকে। হোটেলের সামনে রাস্তের ওপারে বিশাল মসজিদ, বেশ পরিছন্ন এলাকা।
ভিয়েতনামে বেশ কিছু মুসলমান আছে। অনেক স্থানীয় ভিয়েতনামী ইসলাম গ্রহন করেছে, তাছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা অনেক মুসলমান এখানে স্থায়ী ভাবে বসত গেড়েছে। হোটেলের মালিক ও কর্মচারী সবাই স্থানীয় ভিয়েতনামী মুসলিম। হোটেলের পরিবেশ বেশ পরিচ্ছন্ন। খাবারের মান ভাল , স্বাদও চমৎকার। দুপুরের খাবার খেয়ে তানসননুত বিমান বন্দরের দিকে রওয়ানা হলাম।


হো চি মিন সিটি- (সায়গন শহরের) দৃশ্য


হো চি মিন সিটি- (সায়গন শহরের) পার্ক এলাকা

হোচিমিন সিটি বিমানবন্দরের ভেতরে
তিনটার দিকে এই রোদেলা আকাশ ঘন মেঘে ছেয়ে গিয়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি শুরু হল। হোচিমিন সিটির রান ওয়েতে পানি জমে গেছে, আমাদের বিমান এ কারনে হ্যানয় থেকে রওয়ানা হতে পারেনি।বিমানের জন্য অপেক্ষা করে আছি। হ্যানয় শহরে সন্ধ্যা কাটানোর সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। চারটার বিমান শেষ পর্যন্ত নয়টার পর ল্যান্ড করল। দশটায় টেক অফ, হ্যানয় যেতে যেতে রাত বারটা বেজে যাবে। সন্ধ্যায় হ্যানয় ঘুরে দেখা আর সম্ভব হল না। এর মধ্যে বৃষ্টি থেমে গেছে, রানওয়ের পানিও নেমে গেছে, আমরা হোচিমিন সিটির তানসননুত বিমান বন্দরের লাউঞ্জে বসে অলস সময় কাটাচ্ছি। অনেক যাত্রী, সবারই বিমান আসতে দেরি হচ্ছে। এর মাঝে পুরো বিমান বন্দর দুই তিনবার ঘুরে এলাম। ভেতরে বেশ সুন্দর বসার ব্যবস্থা আছে। সুন্দর ভাবে সাজানো ভাল দোকানপাট ও আছে ভেতরে, ডমিস্টিক টার্মিনাল বলে ডিউটি ফ্রি সপ নেই এখানে। অনেক যাত্রী আজকে সব দোকানেই প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এক বোতল পানি কিনলাম, বাহির থেকে পাঁচ গুন বেশি দামে। আমাদেরকে বিমান কত্তৃপক্ষ বিমানের দেরীর কারনে একটা মিল খেতে দিল। যে ক্যান্টিন থেকে খেতে বলল সেখানে অল্প কয়েকটা আইটেম আছে, কি খাব এখানে সব কিছুতেই শুকরের মাংস দেয়া। নিরাপদ থাকার জন্য সবজি ও ভাত নিলাম। মিষ্টিতেও শুকরের পাউডার দেয়া তাই নেয়া হল না। অবশেষে বিমান ল্যান্ড করল আমরা আশার আলো দেখলাম। সত্যি সত্যি হ্যানয় যাচ্ছি , না যেতে পারলে একটা দিন নষ্ট হতো হো চি মিন শহরে।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১২:১০
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×