
দুজন মানুষ এক সন্ধায় কথা বলছিল,
তাদের একজন ছিল বিশ্রামাগারের প্রহরী, অন্যজন সেখানকার আগত অতিথি
একজন কথা শুনছিল আর কাঁদছিল, তার কান্নার কথা ছিল না।
অতিথি প্রহরীকে ডেকে বলল কে তুমি? কেমন আছো?
স্মৃতির সাথে এলো রাশি রাশি কান্না, প্রহরীর জন্য।
সেই অতীত ছিল প্রচণ্ড প্রতাপের, প্রাচুর্যের, অহংকারের
আর সেই স্মৃতি এখন বেদনার, পরাজয়ের, কান্নার
সময়ের ব্যবধান মাত্র দুইয়ের একটু বেশি।
নদী পাড়ের এক গ্রামের মানুষ তারা দুজনেই,
একই গ্রাম, একই স্কুল, একই সব কিছু
ব্যবধান ছিল অর্থ, প্রাচুর্য আর প্রতাপের।
তার গ্রাহ্য করার প্রয়োজন হতো না কাউকে
অতিথিও ছিল সেই গ্রামেরই মানুষ
প্রহরীর পরিবার ছিল অহংকারী, লড়াকু
তাই ভয়ে সংকোচে দুরেই থাকত সব মানুষ।
সেই দূরের একজন আজ কথা বলছে অনেক কাছ থেকে নিজ আগ্রহে,
বহু দিন দেখা নেই সেই গ্রামের, সেই আবাস ভূমের
তাই দুজনেই স্মৃতির পাতা উল্টে চলছিল
দুজনের কেউ সেখানে থাকে না, বহু বছর যাওয়া হয়ে উঠেনি।
স্মৃতি তাই দুজনের কাছে তার আগল খুলে দিয়েছিল
তারা বিগত দিনের অনেক অজানা কথাগুলো বলছিল।
স্কুলের পাঠ শেষ হবার আগেই গ্রাম ছেড়ে ছিল একজন,
অন্যজন তার বিত্তের বলয়ে বন্দী হয়ে নিজ গ্রামে ভালই ছিল,
অনেকগুলো বছর, তারপর হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল
প্রমত্তা নদী গ্রাস করা শুরু করল সবকিছু,
ফসলের মাঠ ভিটে বাড়ী যা আছে সব,
পর পর কয়েক বছরে, শত বছরের সম্পদ বিত্ত সাথে প্রভাব
নদী টেনে নিয়ে গেল নিমেষেই,
নিঃস্ব পরিচয়ে গ্রাম ছাড়তে হলো, শহরের পথে বাঁচার তাগিদে।
কোন মতে টিকে থাকার সংগ্রামে, আজ এখানে এই গল্প দুজনেরই,
তবে তফাৎ অনেক,
ঢাকায় এসে পড়া শেষে ভাল চাকুরী,
সময়ের ব্যবধানে বিত্ত আর প্রভাব এখন অনেক তার
সে তার অধস্তনের সাথে কথা বলছিল নিজ থেকে, না জেনেই তাকে,
অনেক কথা জানা হয়ে গেল দুজনেরই,
আজ কে কোথায়? তখন কোথায় ছিল?কেমন ছিল ?
এভাবে জীবন বয়ে চলে, কুল ভাঙা কুল গড়া নদীর মত,
কারো ভেঙ্গে দিয়ে, কারোর গড়ে দিয়ে,
কেউ তো জানেনা কি আছে? কি হবে?
কখন কেউ কাঁদবে শব্দহীন কান্না,
কেউ না কেউ কেঁদেই যাবে চিরদিন।।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



