somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাল আবার দেখা হবে

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আধো চাঁদের আবছা আলো তখন আকাশের নীলাভ স্তরের উপর একটা লালচে বেড কাভার জড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছিল। গতকাল এমন লালচে রঙ আমার চোখে পড়েনি। প্রতিদিন এসময়টায় আমি ঐ নদীর ধারের বট গাছের পাশে মানব সঙ্গহীন বসে থাকি। তবে গতকাল এখানে আসা হয় নি। তাই জোনাকীদের সাথে থাকা সবুজ আলোর ঝুলি সমেত দাপিয়ে বেড়ানোর দৃশ্য আমার দেখা হয়নি। ঝিঁঝিঁ দের অর্কেস্ট্রার শব্দ আমার কানে না আসার শূন্যতা বেশ করে তাই টের পাচ্ছিলাম। গত রাতে আমি একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। আমার এক বন্ধুর ভাই এর বিয়ে। বন্ধুর ভাইয়ের বিয়ে নয় বরং আমাকে ঐ অনুষ্ঠানে টেনে নিয়ে গিয়েছিল পোলাও কোরমা। অনেকদিন খাইনা। খাবোই বা কি করে??? পকেটে একসাথে ১০০ টাকার বেশি দেখিনা অনেকদিন হল। তার উপর আছে সিগারেটের নেশা। রাতে নদীর জলে ওপারের ল্যাম্পোস্টের আলোয় রূপালি ঝিলিকে কি আর পেট ভরে?? তার জন্য টাকা লাগে টাকা। কিন্তু আজ আমি এখানে ঠিকই এসেছি। একদিন পর এসে মনে হচ্ছে যেন আমি নই ঐ জোনাকীর আর ঝিঁঝিঁরাই উল্টো আমাকে দেখে বেজায় খুশী হয়েছে। তাই জোনাকীর আলোর তেজ আর ঝিঁঝিঁদের অর্কেস্ট্রার শব্দ দুটোই যেন আজ একটু বেশিই মনে হচ্ছে।
একটা কবিতা লিখবো, গত সাত দিনে একটা কবিতাও লেখা হয় নি।। একটা গানও বুনতে পারিনি। ঐ মন্টু মিয়ার গ্যারেজের পাশে ভাঙ্গা ঘরটায় ৫০ টাকা ভিজিটে দেখা ডাক্তার কলিম আমায় নিষেধ করেছেন। আমি উনাকে কলিম চাচা বলে ডাকি। উনি বলেছেন আমার নাকি বেশ সিরিয়াস সাইনাসের সমস্যা আছে পাশাপাশি আমার চোখের পাওয়ারটাও বেড়েছে বলে উনি আশঙ্কা করে আমাকে একজন ভালো চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পরামর্শ দিলেন। চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে এখনও অব্দি যাওয়া হয় নি। যাই হোক কবিতাটা লিখে ফেলি।

আমার বন্ধু কে??
এই বটগাছ??
নাকি ঐ ওপাড়ের কুঁড়ে ঘরটা?
নাকি সেই বীভৎস মুখ যার
ভেতর ফুটে আছে অসংখ্য উজ্জ্বল দাঁত?
যার কপালের টিপ টা শোভা পাচ্ছে নাভিতে।

আমার বন্ধু কে??
আমার বন্ধু এই রাতের হলুদ বুনো ফুল
যার সুগন্ধ নেই, আছে অস্তিত্ত্ব
যা ঘরে শোভা পায় নি আজও
কিন্তু তার নাম এখন অব্দি ফুলই আছে।
ও বড্ডই অবহেলিত
কিন্তু ত্রুটি ওর ভেতর আমি খুঁজে পাইনি।

আমার বন্ধু কে???
সদ্য দেখা আলেয়াটা আমার বন্ধু হতে পারে না
ও আমার জন্য অপেক্ষা করে নি,
ও আমার কথা শোনে নি,
ও বড্ড স্বার্থপর,
নিজেরটা বেশ করে বোঝে।

আমার বন্ধু কে???
আমি জানি না কে আমার বন্ধু।
তবে ঐ মোটা জোনাকীটা যে উড়ছে
ঐ সবচেয়ে উঁচু স্বরে যে ঝিঁঝিঁটা গাইছে
এদের আমি খুব ভালবাসি,
হয়তোবা এরাই আমার বন্ধু।

বেশ আবেগে কবিতাটা লিখে নিজেকে একজন বেশ উঁচুমানের প্রকৃতিবাদি বলে ভাবতে শুরু করলাম। খানিকক্ষন চুপ থেকে ভ্রু দুটো কুচকে কবিতাটা কেটে দিলাম। এটা কোন কবিতা হল??? এটা তো ওই লাবুদের গোয়ালঘরের গরুটাও লিখতে পারতো যদি ওর হাত থাকত। ধ্যাত। কাগজটা একটা নৌকো বানিয়ে ভাসিয়ে দিলাম। কিন্তু নৌকোটা বেশ ভাল বেগেই চলছে। যেন এই কবিতা নিয়ে দূর দুরান্তে পাড় করতে পারলে বেঁচে যায় সে। বেশ অপমানবোধ হল।

একটা সিগারেট জ্বালিয়ে চেয়ে রইলাম ঐ ওপারে থাকা কুঁড়ে ঘরটার দিকে। আমার এখানে প্রতিদিন বসে থাকার প্রধান কারণ এই কুঁড়ে ঘরটা। এটা নিয়ে বেশ একটা ফ্যান্টাসি গত কয়েক মাস ধরেই চলছে। আজ অব্দি ঐ ঘরটা থেকে কাউকে বের হতে দেখিনি। আমার আশা ঐ ঘর থেকে একজন অপরূপা বের হবে, একজন মায়াবী চোখের ললনা। যাকে দেখেই আমি প্রেমে পড়ে যাব। কিন্তু আজ অব্দি একটা কুকুরকেও বেরুতে দেখিনি। তাই তো আশা আরও জোরালো হয়।
প্রতিদিন ওই ঘরে থাকা আমার কল্পনার অনাবিষ্কৃত মেয়েটাকে আজ অব্দি দেখিনি বলেই তো আশা আজো ভেস্তে যায় নি। একটা আশা তো থাকতেই হয়। নাহলে মানুষ আর বাঁচে কি করে?? আজ অনেক রাত হয়েছে।। যেতে হবে। কাল আবার আসবো। ঠিক ঐ আধো চাঁদের আবছা আলোর চাদর বিছানোর আগ মুহুর্তেই আসবো। এক রাশ আশা নিয়ে।। যদি সে কাল ঘরটা ত্যাগ করে বের হয়??
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:২২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×