১৯৮৬ সালের দিকের কথা। মেলায় চাঁচের রঙ্গীন চশমা পাওয়া যেত, দাম দুই টাকা। টিনের পিস্তল, ডেবের-ডোল ইত্যাদি কেনার পর চশমা কেনার আর বাজেট ছিলো না। মনে একটা দুঃখ রয়ে গেলো। মেলার দিন অথচ চোখে একটা রঙ্গীন চশমা দিবো না!
বিকাল বেলা স্কুলের মাঠে টিনের পিস্তল হাতে ডেবের ডোল নিয়ে হাটছি। মোটাসোটা একটা লোক আমার চোখে একটা চশমা পড়িয়ে দিলো। এখনো চোখো ভাসে, আহা কি সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলেছিলো -এইটা তোমার। শিশুকালে বহু ভেবেছি, হিসাব মিলাতে পারিনি। যেনতেন জিনিস না, একটা রঙ্গীন চশমার মত জিনিস আমাকে দিয়ে দিলো!
এই চশমা আমার মনে বীজের মত গেঁথে গেলো। বীজ থেকে হড়েক রকম গাছ গজালো। এই গাছ থেকে এখন অনেক কিছু ঝরে পড়ে। উদাহরণ দেই।
স্বল্প-আয়ের এক বাবা ঐ দিন বলছিলো তার ছেলেটা ক্রিকেট খেলা দেখতে শিখেছে। এখন তার একটা ব্যাট লাগবে। বেতন পেলেই তিনি ব্যাট কিনে নিয়ে যাবেন। ভদ্রলোকের আর বেতন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো না। কারন, ঐযে মনে চাঁচের চশমার বীজ বুনে দিয়েছিলেন এক অপরিচিত ভদ্রলোক। এই বীজের গাছ থেকেই ঝরে পড়লো একটা ক্রিকেট ব্যাট আর তিনটা টেনিস বল
আমি শুধু ভাবি আর মজা পাই। চাঁচের চশমার বীজেরই এত ক্ষমতা! তাহলে ক্রিকেট ব্যাটের মত এমন আরো অনেকগুলো বীজ যে এরই মধ্যে অনেক মনে গেঁথে গেলো। এরা যখন বড় হবে তখন এইসব বীজের ক্ষমতা নিশ্চয়ই আরো অনেক বেশী হবে।
আহা, সব শিশুর শিশুকাল সুখের স্মৃতিতে ভরে ওঠুক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



