somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টি নিয়ে ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ

০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চড়ুইভাতিকে আমরা বলতাম কুজাকুড়ি।
এই খেলার মোক্ষম সময় ছিলো বর্ষাকাল। বড়রা পাতলা কাঁথা গায়ে দিয়ে দিতেন ঘুম। ছোটরা আমরা বিনা বাধায়, বিনা টেনশানে শুরু করতাম খেলা। বাড়ীর সবচেয়ে অনাদরে পড়ে থাকা, অব্যবহৃত ঘরটিকে আমরা বেছে নিতাম। শিশুমনের কোথাও না কোথাও নিশ্চয়ই একটা যুক্তি ছিলো, এই ঘরের যতই অনিষ্ট করি কেউ কিছু বলবে না।

শহরের ছেলেপেলেরা দেখি মিছামিছি চড়ুইভাতি খেলে। আমাদের সময় তা ছিলো না। শহরের মা বাবাদের মত গ্রামের মা-বাবারা অত পাষাণ হন না। তারা আগুন নিয়ে বাচ্চাদের খেলতে দেন। আগুন দিয়ে সত্যিকারের ভাত, তরকারী রান্না করাতম। বৃষ্টিতে ভিজে এ বাড়ী ও বাড়ী থেকে পাতা, খড়, জ্বালানী কাঠ (কুমিল্লার ভাষায় লাড়কী বলে) সংগ্রহ করা হতো। তাই রান্নার মধ্যে কেমন একটা ধোঁয়াটে গন্ধ থাকতো। তবু আহা কী সে স্বাদ!

আমি বর্শীতে মাছ ধরায় বেশ পটু ছিলাম। তাই বৃষ্টিতে আমারই বেশী ভিজতে হতো। বেশ মনে আছে, আকাশ মেঘে ঢাকা, রহস্যময় অন্ধকার। বাড়ী ভর্তী নানান রকম গাছ। এই গাছের কারেন যেন অন্ধকার আরো যেত বেড়ে। পুকুরের চারপাশে বিভিন্ন ঝোপঝাড়। মুর্তাগ গাছ নামের একটা গাছ খুব হতো তখন পুকুর পাড়ের ভীতরের দিকে। তখনের বৃষ্টিতে ভেজার নেশা কি জিনিস তা বোঝার বয়স হয়নি। মুর্তাগ গাছের ঝোপের ফাঁকে ছিপ ফেলে বসে থাকতাম। বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ছোটছোট হয়। কিন্তু গাছের পাতায় জমে থাকা পানি টুপ করে পুকুরে পড়লে তা একটু বড় করেই পড়ে। এই পানি বর্শীর চুবানিতে (শলা দিয়ে বানানো একটা অংশ যা বর্শীর সুতার মাঝখানে বেঁধে দেওয়া হয় ভেসে থাকার জন্য) পড়ার সাথে সাথেই মনে হতো এই বুঝি কোন মাছ ধরা পড়লো।

সবচেয়ে বেশী মনে পড়ে বর্ষায় ভেজা পাখীদের কথা। দোয়েল পাখীর নাচ যে কত সুন্দর নাচ তা তখন বুঝিনি, এখন মিস করি। দোয়েলের চাইতে ছোট মাথা কিন্তু পাখা বড় আরেকটা পাখী ছিলো, নাম মনে নাই। কিন্তু নাচে দোয়েলের চেয়েও বেশী পাকা ছিলো। আরেক রকমের পাখী ছিলো টুনটুনির চেয়েও ছোট। এরা এক দলে গোটা পঞ্চাশেক করে এক সাথে ঘুরে বেড়াতো। মাছ ধরা, পাখী দেখা, বৃষ্টিতে ভেজা এবং চড়ুইভাতির মজা সবকিছুর আনন্দ শিশুমনে একত্রে নেচে বেড়াতো।

রান্নাবান্না শেষে পুকুরে গোসল করতাম সবাই এক সাথে। বৃষ্টির গোসলেও আলাদা মজা আছে। উপুড় হয়ে পানিতে মরার মত পড়ে থাকতে হবে। নাক, মুখ, কান থাকবে পানির নীচে। পিঠ আর মাথার পিছনের অংশ ভাসতে থাকবে। পায়ে হালকা হালকা স্ট্রোক দিতে হবে ভেসে থাকার জন্য। বৃষ্টির শব্দ রিনঝিন হয়না, বৃষ্টির শব্দ হয় টুপটুপটুপ...। তা বুঝতে গেলে এমন করে আনন্দটা নিতে হবে।

আজও কি এমন করে অন্ধকার হয়ে বৃষ্টি হয়? যে মেঘময় অন্ধকারে সারাদিনমান আন্দের নেশা হু হু করে ছড়িয়ে যেতে থাকে মনে, মন থেকে মনের গহীনে? কে জানে হয়ত হয়। কিন্তু অফিসের ভিতরের লাইটিং এ যেখানে বাহিরে দিন না রাত তা ই টের পাওয়া যায়না এখানে এমন মোহনীয় মেঘময় অন্ধকার কিভাবে বোঝা যাবে?

আমার পুত্র প্রিয়'র বৃষ্টির স্মৃতি হবে কোন এক বারান্দার গ্রিলে ধরে বৃষ্টি দেখা। তার সঙ্গী হবে মা, ভাগ্য তার খুব ভালো হলে হয়ত সঙ্গী হিসাবে পাবে বাবা, মা দুজনকেই। তবু সব শিশুর বৃষ্টি স্মৃতি হোক স্বর্গীয় আনন্দের। আমার বিশ্বাস স্বর্গের দুইট জিনিস দুনিয়াতে সেম্পল হিসাবে আছে। এক হলো চাঁদের আলো আরেক হলো অন্ধকার হয়ে পড়া নিরলশ একটানা ঝুম বৃষ্টি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:২৮
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোথায় পাই পাগলের শ্বশুর

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮


পাগলের পাতা ছাগলে খায়,
দাঁতের দোষটা হাতেই যে কয়;
দেয় রে দোষটা দেয় চোখের,
মনটা যে ধোয়া তুলসীপাতা,
কেউ দেখে না রে মুখের।

মুখের কথা ঠোঁটে কয়,
ছাগল ডাকে রে ভাই, ব্যাঁ-ব্যাঁ;
পাগলের কাজ পাগল করে সই,
সাধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×