একটা গল্প বলি, পরিচিত গল্প।
গল্পের পর আবার উপদেশমূলক কথাও বলবো, পরিচিত উপদেশ।
মরা ইঁদুর পড়ে আছে এক পবিত্র স্থানে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে খুব। কয়েকজন মুরব্বি বল্লেন
- ইঁদুরের ভাগ্য দেখছো! আহা, মরণ যদি হয় তো হোক এমন পবিত্র মরণ।
কিন্তু পবিত্র মরণের পচা গন্ধ আর দশটা পচা গন্ধের মতই হয়। এই গন্ধে সবাই অতিষ্ট। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, ঐ পচা ইঁদুরের জায়গাটা বেড়া দিয়ে আলাদা করা হবে। কাজ হলো না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, বালতি বালতি পানি ঢালা হবে। কাজ হলো না। এত কাহিনী দেখে একজন শিশু অবাক। সে সমাজের তৈরী করা এত পবিত্র অপবিত্র কিছু বুঝে না। সহজ করে বল্লো
- ঐ ইঁদুরটারে বাইরে ফালাইয়া দিলেই তো হয়।
গল্প শেষ।
এবার ফাও হিসাবে আরেকটা কথা।
ধরেন দেওয়ালে কেউ পানের পিক ফেলেছে। ইশ্ নোংরা বলে পাশ কাটিয়ে গেলেন। যাওয়ার সময় ওয়াক থু বলে আরেকটা থুথু দিয়ে আপনি পিছনে না ফিরেই চলে গেলেন। পরে যে লোক এদিক দিয়ে যাবে সে দখবে, নোংড়াটা আরো নোংরা হয়েছে।
তাহলে সমাধান কী?
সমাধান হলো, কেউ একজন অতি সাধারন মানুষ দেখবেন এক বালতি পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে পরিষ্কার করে দিয়েছে ঠিকই। অতি রুচিওয়ালা মানুষদের মত ইশ্ নোংরা বলে থু দিয়ে চলে যায়নি।
-০-
এবার উপদেশ।
ছোটখানো অসঙ্গতিগুলো কিন্তু আমরা নিজেরাই সমাধান করে ফেলতে পারি। সমস্যা প্যাঁচানোর জিনিস না, ফেলে রাখার জিনিস না। সমস্যা সমাধান করতে হয়।
রাজনৈতিক নেতাদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমার আপনার কথা সাধারণ মানুষজন শুনেন না। শুনেন কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের কথাই। আর এই দেশের নব্বই ভাগেরও বেশী মানুষ সাধারণ মানুষ। অতএব নব্বই ভাগ মানুষ যাদের কথা শুনেন তাদেরকে গালি দিয়ে লাভ হবে? আরে ভাই আপনি আমিই তো বলি -এক মুখ সোনা দিয়ে ভরা যায়, দশ মুখ ছাই দিয়েও ভরা যায়না। ষোল কোটি মানুষের দেশ আমরা। বাংলাদেশের লোকসংখ্যা রাশিয়ার চাইতে বেশী। অথচ আয়তনে মনে হয় রাশিয়া ১১৫ গুন বড় আমাদের চাইতে!
ধরেন বাড়ীর সামনের রাস্তাটা ভাঙ্গা। আমি আপনি কি একটা ঘন্টা সময় বের করে কয়েকটা ইটা ফেলছি? মানলাম, রাস্তা পাকা করার কাজ আমার আপনার না। কিন্তু ছোটখাটো ভাঙ্গা, পানি জমা এই কাজগুলো নিজেরা করে ফেলতে পারি না? সরকার কি আপনার বাড়ীর সামনে দিয়ে রোজ আসা যাওয়া করে? রোজ আসা যাওয়া তো আমি আপনি করি। এখন হয়ত বলবেন সরকার কে তো ট্যাক্স দিচ্ছি। আচ্ছা বলেন তো, কয়জন ট্যাক্স দিচ্ছি সরকারকে? কত টাকা দিচ্ছি? একটু উন্নত দেশগুলার দিকে তাকিয়ে দেখেন। পানির বিল যেমন দিতে হয়, পানি খরচ করার পর যে ড্রেন দিয়ে যায় তার বিলও দিতে হয়। তারমানে বৃষ্টির পানি ধরে রেখেও যদি গোসল করেন তা ও বিল দিতে হবে। আমাদের দেশের সরকার কি নিচ্ছে এত এত ট্যাক্স? আর আমরাই বা কয়জন ফেয়ারলি ট্যাক্স দিচ্ছি?
বিশ্বাস করেন, ছোটখানো কাজগুলায় বেশি টাকা লাগে না। নিজের পকেট থেকে দুই শো, পাঁচশো টাকা খরচ করে এমন একটা নাগরিক দুর্ভোগ আপনি দূর করতে পারবেন যার অভিযোগ অন্তত দুই, পাঁচ হাজার মানুষ রোজ দিচ্ছে! ধরেন সেক্টরের রাস্তায় বাল্বটা নষ্ট হয়ে আছে। দেন না, কাউরে দুইশো টা টাকা দেন ঠিক করে দিবে। এর জন্য সরকার বা কমিটির খোঁজ করার দরকার নাই।
আরে ভাই, রবীন্দ্রনাথ তো বলেই গেছেন-
আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে
নইলো মোদের রাজার সাথে মিলবো কী স্বত্বে।
অভিযোগ কারীতে দেশ ভরে গেছে, এখন দরকার রাজার। আসুন আমরা আমাদের রাজ্যে রাজা হই।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




