বাসার নীচ থেকে ফোন দিলাম বউরে
- শুনো, তুমি কই?
বউ উত্তর দিলেন না। বুঝলাম বাসায় ছাড়া আর কোথাও তো তার থাকার কথা না। প্রিয়'র যন্ত্রনা যত বাড়ছে, প্রিয়'র মার ধৈর্য ততই কমছে। ফালতু কথার উত্তর দেওয়ার ধৈর্য তার একেবারেইশেষ হয়ে গেছে অলরেডি।
বল্লাম
- আমি বাসার নীচে
তিনি শীতল কণ্ঠে উত্তর দিলেন
- তো আমি কী করবো?
আসলেইতো তিনি করবেন টা কী! এবার মূল কথাটা বল্লাম
- প্রিয়কে নিয়ে তুমি একটা রুমে গিয়ে দড়জা বন্ধ করে থাকো একটু প্লিজ।
আমার ১০ মাস ৫ দিন বয়সের পুত্র নাটকীয়তা বুঝে না। সো, এর কারনও গিন্নি খোঁজে পেলেন না। অতএব বুঝলাম, ফালতু কথা আরেকটা বলে ফেলছি। যোগ করলাম
- আরে অফিস থেকে বের হওয়ার সময় হিসি করে বের হই নাই। এখন বাসায় ঢুকার সাথে সাথেতো প্রিয় কোলে ঝাপায়ে পড়বে। আমার বাথরুমে যাওয়াটা সাড়ে-আর্জেন্ট।
গিন্নি কিছু বল্লেন না, লাইন কেটে দিলেন। বাসায় ঢুকছি আর ভাবছি, যদি প্রিয় আমাকে দেখে ফেলে! ছেলেটারে কোলে নিয়েই বাথরুমে যেতে হবে।
বাসায় ঢুকার পর ল্যাপটপের ব্যাগটা হাত থেকে নামাইতে দুই সেকেন্ড দেরী হইলেও আর রক্ষা থাকে না। দুই চোখ দিয়ে নিমিষের মধ্যেই গড় গড় করে পানি পড়তে থাকে। আর ঠোঁটে যে কয়টা বাঁক ধরে তা মনে হয় নদীর কিনারায়ও থাকে না। এমনই প্রবল প্রিয়র ভালোবাসা তার বাপের প্রতি।
-০-
প্রবল ভালোবাসাগুলো এমন ভাবেই যুক্তিহীন হয়। পরিবেশ, পরিস্থিতি কিছুই বুঝে না। তাই এই পাগলা ভালোবাসা থেকে একটু দূরে যেতে অনেক কাহিনী করতে হয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



