somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধার কাহিনী।

০৫ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইংরেজীতে একটা কথা আছে, হোয়াই ফ্রেন্ডস ফর?
কেউ হয়ত বল্লো
- দোস্ত এই কাজটা একটু কইরা দিবি?
তখন নিশ্চিন্তে বলা যায়, হোয়াই ফ্রেন্ডস ফর?
অর্থাৎ অবশ্যই কইরা দিবো। এই কাজটা যদি কইরা দিতে না পারি, তাইলো বন্ধু হইলাম কোন দিনের জন্য?

আবার মজা করে উল্টাটাও হয়।
হয়ত আপনার মেজাজ গরম। অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নাম ধইরা গালি দিতে ইচ্ছা করতেছে। কাছের বন্ধুটারে দেন কয়টা গালি। সে যদি বলে
- কি রে গালি দিতাছস ক্যান!
তখন অবাক হয়ে বলতেই পারেন, হোয়াই ফ্রেন্ডস ফর!
অর্থাৎ মিজাজ গরম হইলো তেরে একটু গালি, লাত্থি, গুতা দিয়া যদি মিজাজই ঠান্ডা করতে না পারি, তাইলে তুই বন্ধু হইছস ক্যান!

এবার মূল প্রসঙ্গে আসি।
আমার ব্যক্তিগত তেমন কোন খরচ নাই। সেই ছেলেবেলা থেকেই আমি কম খরচে অভ্যস্ত। টুকটাক ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস কেনাই আমার একমাত্র সখ। মোবাইল, ল্যাপটপ, কাপর, পারফিউম ইত্যাদির সখ নাই। তাই আমার হাতে টুকটাক ক্যাশ টাকা সবসময়ই থাকতো, এখনো থাকে।

বিয়ের আগে স্বাধীন ছিলাম। যে যেমনে চাইছে, ধার দিসি। সেই টাকা ফেরত পাওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে অলরেডি একটা লেখা লেখেছিলাম। তাই এই দিকে আর গেলাম না।

এখন বিয়ের পর আর স্বাধীনতা নাই। কত টাকা বেতন পাই, কত টাকা খরচ সব বউয়ের নখদর্পণে। তাই কাউরে ধার দিবো অথচ বউ টের পাবেনা তা অসম্ভব। এমনও হয়, আমার মনে থাকেনা অথচ বউ বলে দিতে পারে আমার একাউন্টে কত টাকা থাকার কথা। তাই ধার দেওয়াটা এখন খুবই টাফ।

এর পরেও ধার দিচ্ছি। এখন ধার দেওয়ার তিনটা কষ্ট
- অলরেডি আমি বুঝে গেছি, ধার দেওয়া মানে একসাথে বন্ধু এবং টাকা দুইটাই হারানো।
- সংসারের খরচ বেড়েছে। নিজের চলতেই কষ্ট হয়। এর উপর ধারের টাকা আলাদা করা আরো কষ্ট। আর কষ্টের উপরে কষ্ট হলো, বউকে বুঝানো যে কেন ওমক কে টাকাটা ধার দিতে হচ্ছে।
- নাহ্ তিন নাম্বার কারনটা এই মুহূর্তে বলবো না।

বউরে হয়ত বল্লাম
- বউ শুনো না কি হইছে
বউ আমার কণ্ঠের টোন শুনেই আজকাল টপিক টের পেয়ে যান। ভ্রু কুঁচকায়ে শীতল গলায় বলেন
- আবার কী!
- ঐ ওমুকে একটা বিপদে পড়ছে, বুচ্ছ, আমার খুব কাছের মানুষ

বউ তখন অনেক কিছু বলেন। ভালোবেসেই বলেন। এই ভালোবাসার বাণী বলা গেলো না। সারাংশ হচ্ছে
- তুমি কি সবারই কাছের? আর তার পরিবারের কেউ নাই ধার দেওয়ার জন্য? আগেতো পরিবারের কাছে যাবে এর পরেই না বন্ধু!

আমি এক দিন মিন মিন করে বল্লাম, বউ শব্দটা হচ্ছে - ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলি। অর্থাৎ আগে বন্ধু পরে পরিবার।
বউ এই কথার বলটাকে ডাইরেক্ট ছক্কা পেটালেন। বল্লেন
- ঠিক আছে। আগে বন্ধু পরে পরিবার তো! এই টাকা তুমি ধার দিয়া দেখো। তখন বন্ধুরে নিয়াই থাইকো।

আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। তিনি আরো যোগ করলেন
- প্রিয়রে তোমার অফিসে দিয়া এর পরে আমি যাবো। আর বাপের বাড়ী যাবো মনে কইরো না। দুই চোখ যেই দিকে যায় সেই দিকে যাবো। তখন তোমার বন্ধুদেরকে নিয়া তোমার পোলারে সামলাইও।

এত রিস্ক নিয়াও যে টাকা ধার দেই। বন্ধুরা বিপদে পড়লেই দেই, সেই টাকাটা কি আমার ফেরত পাওয়া উচিৎ না! বিপদে পড়াতেই তো বন্ধু হিসাবে ধার দিসিরে ভাই। দানও করি নাই, সুধের টাকা খাওয়ার জন্যও প্রফিটে টাকা দেই নাই।
-০-
আমার লেখা ইদানিং আত্মিীয়-স্বজন, জুনিয়র বন্ধুরাও পড়েন। তাই অনেক কথা প্রাসঙ্গিক হলেও বলতে পারিনা। তাই একটু হিন্টস দিয়ে একটা কথা বলি।

এক ভদ্রমহিলা আক্ষেপ করে বলতেছেন - পর মানুষ বলে খারাপ, আপন ভাসুররে বিশ্বাস করলাম, এর পরেও....।

খুব কাছের মানুষদের বিশ্বাস করে আমিও ...।
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ, রাজনীতিতে আতঙ্ক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫০


দেশে এখন যারা ক্ষমতায় আছেন, তারা মধ্য ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের মানুষজন । সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে আছেন প্রবীণ নেতা নিতাই চন্দ্র রায়। এই অবস্থায় শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেয়ালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় পরিচয়, গ্রাফিতিতে চুনকালি ও পলিটিক্যাল ইসলাম

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:০৪


রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন প্রগতিশীল লেখকের লেখা পড়ে আমি হতাশ ও বিস্মিত হয়েছি। তাঁদের মধ্যে একাধিকজন লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ হিন্দু ছিলেন না, তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×