বাউল শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন (ভালো নাম শাহাব উদ্দিন চৌধুরী) ভাইকে নিয়ে আমার একটা মজার স্মৃতি আছে।
এক শীতের দিন সকাল বেলা তার সাথে দেখা। বল্লাম
- ভাই চলেন নীচে যাই। আপনার সাথে রুমে বসে চা খেয়ে পুষাবে না।
গেলাম নীচে। সেই দিন তেমন একটা শীত পড়ে নাই। তিনি জাষ্ট একটা পাঞ্জাবী পড়ে চলে এসেছেন। চা খেতে খেতে বল্লেন
- পগালা শীত লাগতেছেরে, চাদর কিনবো।
বলতে চাচ্ছিলাম, ভাই শীততো আজ একেবারেই নাই! কিন্তু ভাগলাম, শিল্পী মানুষ। তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বলা ঠিক না। বল্লাম, চলেন...।
গেলাম চাদরের দোকানে। চাদর একটা পছন্দ করলেন। পকেট থেকে টা্কাও দিলেন দোকানদারকে। আমি তখন শাহাবুদ্দিন ভাইকে রিকোয়েষ্ট করে বল্লাম
- ভাই, আমার খুব ইচ্ছা করতেছে আপনারে এই চাদরটা কিনা দিতে। আপনি খেয়ালী মানুষ, হয়ত আজই কোথাও এইটা ফালায়ে যাবেন। কিন্তু সারা জীবন আমি এই সুখটা অন্তরে বয়ে বেড়াবো। আপনার গান আমি প্রতিদিন শুনি। আপনার গান শোনার সময় আমার মনে হবে, আপনি দূরের কেউ না। আপনি আমার দেয়া একটা চাদর অন্তত একবার হইলেও পড়ছেন।
তিনি দুইটা সেকেন্ড কী যেন ভাবলেন। পরে বল্লেন, দে পাগলা, দে।
-০-
এর পরে এমন অনেক দিন হইছে। হয়ত বাসায় যাচ্ছি। রাস্তায় শাহাবুদ্দিন ভাইয়ের কথা মনে হইলো। দিলাম ফোন। ফোন দিয়েই বলি
- ভাই আমি আপনার ভক্ত, আমার নাম অরুণ...। আমাকে স্মৃতি ঘেটে মনে করে চেনার দরকার নাই। এমনি ফোন দিলাম।
আমর কোন দিনই মনে হয় নাই তিনি আমাকে চিনতে পারেন। দুই একটা কথা বলে ফোন রেখে দেই।
কিন্তু এক দিন সত্যি সত্যি অবাক হয়ে গেলাম। বৈশাখী টিভির সরাসরি সম্প্রচারের একটা অনুষ্ঠানে এসেছিলেন একদিন। কোন একজন ফোনে রিকোয়েষ্ট করলেন "মা" নিয়ে কোন একটা গান করতে।
শাহাবুদ্দিন ভাই মনটা খারাপ করে বল্লেন, আমাদের অরুনের মা মারা গেছে মাত্র কিছু দিন আগে...।
পরে তিনি আমার রুমে এসে বলে গেলেন, পাগলা তোমার কথা তো মাত্র আমি অনস্ক্রিন বলে আসলাম।
-০-
অন স্ক্রিন তিনি আমার কথা বলছেন এতে আমার কিছু যায় আসে না। তিনি যে আমাকে মনে রাখছেন, এই আনন্দের ঘোরই আমি কাটায়ে উঠতে পারতেছি না।
-০-
সৃষ্টি কর্তার দুইটা সৃষ্টিতে নিবিড় একটা সম্পর্ক আছে। তা হইলো, আকাশ আর মানুষ। ফকির শাহাবুদ্দিন ভাই এর মত মানুষগুলোর ছোট্ট মানব দেহে আল্লাহ আকাশের মত একটা বিশাল মন দিয়ে দেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




