প্রায় বছর দশেক আগের কথা। অফিসে নাম মাত্র একটা ইনক্রিমেন্ট হইলো। সবার মন খারাপ। কেউই ইনক্রিমেন্টের চিঠি রিসিভ করছে না। কিন্তু আমি রিসিভ করলাম। বস বল্লেন
- আপনি কি আপনার এই ইনক্রিমেন্টে হ্যাপি?
আমি হাসি দিয়ে বল্লাম
- ভাইয়া প্রতিষ্ঠান মনে করছে আমি এর যোগ্য। আমার যদি বেশী যোগ্যতা থাকে তো ভালো কোথাও চলে যাবো। আর যদি না থাকে তাহলে চুপচাপ এই বেতনেই সন্তুষ্ট থাকবো। হিসাবটাতো সহজ।
ব্স হাসলেন। হা হা হা হা করে সুন্দর করে অনেক্ষণ হাসলেন।
মনে পড়লো, আমাদের একটা সফটওয়্যার ফার্ম ছিলো। সবচেয়ে ভালো যে এম্প্লয়ীটা ছিলো। সে একদিন এসে বল্লো
- ভাইয়া, এই বেতনেতো পুষাচ্ছে না। বেতন না বাড়াইলেতো থাকতে পারবো না।
আমি তারে বল্লাম
- ভাই, আপনি অনেক ভালো, যোগ্য একটা মানুষ। আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী অর্ধেক বেতনও আমরা দিতে পারতেছি না।
ছেলেটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায়ে রইলো। আমি তার কাঁধে একটা হাত রেখে বল্লাম
- অথচ দেখেন এই বেতনটা আপনাকে দিতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার নিজের উপর। আরো কিছু দিন আমাদের সাথে কষ্ট করবেন, নাকি কাল থেকেই দ্বিগুন বেতনে কোথাও জয়েন করবেন। কারন আমি জানি এই যোগ্যতা আপনার আছে।
ছেলেটা এবার আমার কাঁধে একটা হাত রাখলো। বল্লো
- ভাইয়া, এই প্রতিষ্ঠানটাতো আমারও! নিজের প্রতিষ্ঠান ছাইড়া কই যাবো?
আসলে চাকরী বাকরি হইলো প্রতিষ্ঠানের সাথে একটা সম্পর্ক। সম্পর্কটা কোনদিনও একতরফা না। সম্পর্কটা মিউচুয়াল। আর সম্পর্ক যে সবসময় টাকা পয়সা দিয়েই ধরে রাখতে হয় তা না। এর মধ্যে থাকতে হয় দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, স্বীকৃতির মত অনেক ছোটখাটো বিষয়। আর অবশ্যই দুই পক্ষেরই ভালো ব্যবহারের মায়ায় ভরা যাদু।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



