somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসলে চাকরী বাকরি হইলো প্রতিষ্ঠানের সাথে একটা সম্পর্ক

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রায় বছর দশেক আগের কথা। অফিসে নাম মাত্র একটা ইনক্রিমেন্ট হইলো। সবার মন খারাপ। কেউই ইনক্রিমেন্টের চিঠি রিসিভ করছে না। কিন্তু আমি রিসিভ করলাম। বস বল্লেন
- আপনি কি আপনার এই ইনক্রিমেন্টে হ্যাপি?
আমি হাসি দিয়ে বল্লাম
- ভাইয়া প্রতিষ্ঠান মনে করছে আমি এর যোগ্য। আমার যদি বেশী যোগ্যতা থাকে তো ভালো কোথাও চলে যাবো। আর যদি না থাকে তাহলে চুপচাপ এই বেতনেই সন্তুষ্ট থাকবো। হিসাবটাতো সহজ।
ব্স হাসলেন। হা হা হা হা করে সুন্দর করে অনেক্ষণ হাসলেন।

মনে পড়লো, আমাদের একটা সফটওয়্যার ফার্ম ছিলো। সবচেয়ে ভালো যে এম্প্লয়ীটা ছিলো। সে একদিন এসে বল্লো
- ভাইয়া, এই বেতনেতো পুষাচ্ছে না। বেতন না বাড়াইলেতো থাকতে পারবো না।
আমি তারে বল্লাম
- ভাই, আপনি অনেক ভালো, যোগ্য একটা মানুষ। আপনার যোগ্যতা অনুযায়ী অর্ধেক বেতনও আমরা দিতে পারতেছি না।

ছেলেটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকায়ে রইলো। আমি তার কাঁধে একটা হাত রেখে বল্লাম
- অথচ দেখেন এই বেতনটা আপনাকে দিতেই আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার নিজের উপর। আরো কিছু দিন আমাদের সাথে কষ্ট করবেন, নাকি কাল থেকেই দ্বিগুন বেতনে কোথাও জয়েন করবেন। কারন আমি জানি এই যোগ্যতা আপনার আছে।

ছেলেটা এবার আমার কাঁধে একটা হাত রাখলো। বল্লো
- ভাইয়া, এই প্রতিষ্ঠানটাতো আমারও! নিজের প্রতিষ্ঠান ছাইড়া কই যাবো?

আসলে চাকরী বাকরি হইলো প্রতিষ্ঠানের সাথে একটা সম্পর্ক। সম্পর্কটা কোনদিনও একতরফা না। সম্পর্কটা মিউচুয়াল। আর সম্পর্ক যে সবসময় টাকা পয়সা দিয়েই ধরে রাখতে হয় তা না। এর মধ্যে থাকতে হয় দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, স্বীকৃতির মত অনেক ছোটখাটো বিষয়। আর অবশ্যই দুই পক্ষেরই ভালো ব্যবহারের মায়ায় ভরা যাদু।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:৩৭
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৮

পুলিশ বদলাবেন, নাকি পুলিশ সংস্কার করবেন?

ফ্যাসিস্ট আমলে পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছিল- এ অভিযোগ শুধু রাজনৈতিক নয়, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার অংশ।
জুলাইয়ের পর- সেই পুলিশ কি সত্যিই বদলেছে, নাকি শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই ধরণের মানুষগুলোই বি,এন,পি-কে আবারও ডোবাবে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০১



পড়ালেখার পিছনে টাকা খরচ করা 'টাকা পাচার'?
যারা বিদেশে পড়ালেখা করতে যান, তাঁরা কি দেশের টাকা লুট করে নিয়ে যান, নাকি নিজের বাপের টাকায় পড়ালেখা করেন?

পড়ালেখার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



প্রায় বিশ কোটি মানুষের এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বর্গ কিলোমিটারের দেশ বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের ফরেন কারেন্সি আয়ের মাধ্যম মাত্র: - রেমিট্যান্স আর পণ্য রপ্তানি।

রেমিট্যান্স: সাধারণত কোনো ব্যক্তি যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×