"আঈন" মানে হইলো আসো। প্রিয় কতক্ষণ ডাকাডাকি করলো
- বাবা আঈন, বাবা আঈন...
এতক্ষণ ওর সাথে ক্রিকেট খেলে আমি ক্লান্ত। বললাম, বাবা একা একা খেলো। বাবা রেষ্ট নেই। কিন্তু কে শোনে কার কথা! শুয়ে ছিলাম, হাতের আঙ্গুল ধরে টানাটানি শুরু করলো, বাবা আঈন, বাবা, এই বাবা, আঈন...। শোয়া থেকে উঠলাম, চোখ রাঙ্গানি দিলাম, ধমক দিয়া বললাম
- প্রিয়..অঅ... যাও..ও...
প্রিয় আমার হাতের আঙ্গুল ছাড়লো। খাট থেকে নামলো। আমার দিকে তাকায়ে আছে। ঘাড় টা বাঁকা করে দাঁড়ায়ে রইলো। আমি আঁড় চোখে দেখতেছি। ছোটবেলায় দেখতে আমি হুবহু ওর মত ছিলাম। ঠিক এমন করেই রাগ করতাম। ষ্টিল ছবি'র মত শৈশবের কয়েকটা স্মৃতি মনে পড়া শুরু করলো। কতক্ষণ পর প্রিয় রুম থেকে চলে গেলো। আমি মনে মনে বললাম, এত সহজে হাল ছাড়ার পাত্রতো আমি শৈশবে ছিলাম না! পোলা আমার এত ভদ্র হইলো ক্যামনে!
প্রিয়'র নানু তরকারী কাটতেছিলো। সরাসরি সেইখানে গিয়ে সে হাজির হইলো। ওর নানুকে ধরে পুরা ঝুলে রইলো। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়া বলা শুরু করলো
- নান আঈন, নান, এ্যাই নান, আঈন...
অবস্থা বেগতিক দেখে সব কাজ ফেলে প্রিয়'র নানু তার সাথে আসলো। প্রিয় তার নানুকে নিয়ে আমার রুমে হাজির। আমি তখনো শোয়া। প্রিয় হুড়মুড় করে খাটে উঠলো। দাঁত কিড়মিড় করতে করতে দুই হাতের সমস্ত শক্তি দিয়া খামচি দিয়া ধরলো আমাকে। একা একা সাহস পায় নাই, তাই শক্তি হিসাবে নানুকে নিয়া আসছে। মনে মনে বললাম, শৈশবে এত বুদ্ধি আমার ছিলো না রে বাপ।
এরপর উঠলাম। বললাম, চলো ক্রিকেট খেলি। কিন্তু না, সে আর আমার সাথে খেলবে না। ফাইনালি মনেমনে বললাম
- এক্কেবারে মায়ের স্বভাব পাইছে। ছোবলও দিবো, মুখও ফিড়ায়ে নিবো...
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১০:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




