বহু বছর আগের কথা। সোনারগা হোটেলে কী একটা সেমিনারে গেছি। সেমিনারগুলাতে সাধারণত বুফে খাওয়া থাকে। খাইতে বসছি। চামচ কোনটা কোন হাতে নিতে হবে মনে নাই। প্রথমে ডান হাতে ফর্ক (কাটা চামাচ) আর ডান হাতে স্পুন (চামচ) নিলাম। একটু পরে মনে হইলো, নাহ উল্টা হইছে। চামচ উলট পালট করলাম। বাম হাতে ফর্ক আর ডান হাতে স্পুন নিলাম। কিছুক্ষণ পর আবার বিপত্তি। মাংসের টুকরা কাটতে নাইফ নিতে হবে হাতে। বুঝতেছিনা, ফর্ক ফেলে নাইফ নিবো, নাকি স্পুন ফেলে।
খাওয়ায় মনযোগের চাইতে বেশী মনযোগ ফাইভ ষ্টার হোটেলের শৃঙ্খলার দিকে। একটু দম ফালানোর জন্য সামনের টেবিলের দিকে তাকাইলাম। দুইটা টেবিল পরেই দেখি এক ভদ্রলোক আয়েশ করে গল্প করতেছেন। আর গল্পের ফাঁকে ফাঁকে হাত দিয়ে ধরেই খাবার মুখে দিচ্ছেন। লোকটা কে তা চেনার আগে লোকটার স্মার্টনেসের দিকেই আটকে থাকলাম। একটু পর ধান্দা কেটে যাবার পর বুঝলাম, লোকটা ব্যারিষ্টার রফিক উল হক! পাশের লোকটারে কনুই দিয়া গুতা দিয়ে ঈশারা করে দেখাইলাম। ভদ্রলোক বেশ মজা নিয়ে কিছুক্ষণ দেখলেন। তারপর বললেন
- সোনারগা হোটেল কর্তৃপক্ষ হয়ত অনুমতি নিয়া ছবিও তুইলা রাখতে পারে উনার। পরে এরা এদের ব্রশিওরে এই ছবি দিয়া নীচে ক্যাপশন দিবো, ব্যারিষ্টার রফিক উল হকের মত লোক হাতে তুলে আমাদের খাবার খেয়েছেন!
সাধারণ মানুষেরাই নিয়মে বাঁধা থাকেন। যারা বড় মানুষ, তারা নিজের মত থাকেন। তাদের ঐ নিজস্বতাতেই নিদারুন সৌন্দর্য্য।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

