উপকার করার একটা একটা ফল বলি।
ক, খ দুই ভাই। সম্ভবত ৭৪ সালের দিকে তাদের জমিজমা আমাদের কাছে বিক্রি করে চলে গেলো পার্বত্য চট্রগ্রামে। টাইলং নামের কোন একটা জায়গায়। সমতলে থাকা মানুষের জন্য পার্বত্য জীবনের মত কঠিন সংগ্রাম করা সহজ না। মেলেরিয়ায় আর খাবার অভাবে কিছুদিন ভুগে আবার ফেরত চলে আসলো।
গ্রামে দুষ্টুলোকের কোন কালেই অভাব ছিলো না। তাদেরকে বুদ্ধি দিলো, তোরা মাওলানানার নামে মামলা করে দে। বল্ জোর করে তোদের জমি কিনে নিছে। মাদ্রাসা শিক্ষক দাদা আমার অকূল পাথারে পড়লেন। সম্পদবিমুখী জ্ঞানপিপাসু দাদা আমার তার সন্তানদেরকে দোষা শুরু করলেন। তোরা কী করবি জমিজমা দিয়ে! এই যন্ত্রনা এখন তোরাই পোহা। ক,খ যন্ত্রনা আমাদেরকে ভালোই দিলো। যন্ত্রনা দিতে গিয়ে নিজেদের হাতে ফেরত নিয়ে আসা জমানো অর্থ যখন শেষ। তখন আর কোন বুদ্ধিদাতা এদের নাই।
একদিন সকাল বেলা দুই ভাই আমাদের বাড়ী হাজির
- ভাই, অন্যের কথায় তোমারে যন্ত্রনা দিছি। এখন তোমরা ছাড়া আর কোন আশ্রয় দাতা নাই।
আমাদের বাড়ী থেকে আরো প্রপারে, মেইনরোডের একটা জমি দেখায়ে বললো
- এই জমিটাতে আমাদেরকে কিছু দিন থাকতে দাও। সারা জীবনের জন্য তোমাদের কাছে ঋণী থাকবো।
সারা জীবন তারা আমাদের কাছে আরো ঋণী হতেই থাকলেন। ছোট বেলায় দেখতাম, বাড়ীতে বিচার নিয়ে আসছে লোকজন।
- তোমরা যে বজ্জাত ঠাঁই দিছো, তারা আমার এই ক্ষতি করছে। এখন তোমরা এর ক্ষতি পূরণ দাও।
কুমিল্লা হইলো, মামলাবাজদের এলাকা। হাতে কোন ব্যস্ততা না থাকলে মানুষ শহরে গিয়া একটা মামলা করে আসে। এলাকায় একটা সময় আমাদেরকে হুমকি দেওয়ার একটা সুযোগ তৈরী হয়ে গেলো।
- এই সুবিধা দাও, না হয় মামলা করে দিবো, তোমাদের লোকই সাক্ষি দিবো।
এই আমাদের লোক গত তিরিশ, চল্লিশ বছর ধরে এমন করেই আছে। কিছুদিন আগে কে যেন তাদেরকে বুদ্ধি দিছে
- কোন জায়গায় এক যুগের বেশী থাকলে, তারা এই জমির মালিক হয়ে যায়।
এই কথা প্রচারের পর মনে হইলো, নাহ তাদেরকে এখন অন্তত বলা উচিৎ, কিছু দিন তোমাদের শেষ হইছে, এখন নিজের পথ দেখো। এলাকায় এখনো খারাপ লোকের অভাব নাই। ক, খ মারা গেছে কিছুদিন আগে। তার সন্তানেরাও একই পথে হাঁটা ধরলো।
একটু আগে আব্বা ফোন দিয়ে কয়
- বাবা ওরা উঠার জন্য কিছুটা রাজি হইছে, তবে একটা কিন্তু আছে।
- কী কিন্তু!
- ক'র পোলারা একটা জায়গা কিনছে, এইটা বাড়ী বানানোর মত রেডি করে দিতে হবে। আমাদের জমি থেকে মাটি দিলে মনে হয় লাখ খানেক টাকা হইলেই হবে। আর খ'র পোলাপানেরতো কোন জমি নাই। এদেরকে আমাদের অন্য একটা জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হবে, অন্তত পাঁচ বছরের জন্য।
আমি অবাক হয়ে বললাম
- আমাদের জায়গায় প্রায় চল্লিশ বছর থাকলো! এরপরে আবার টাকা দিয়ে বাড়ী বানায়ে অন্য জায়গায় শিফ্ট করায়ে দিতে হবে? কারা এই সিদ্ধান্ত দিলো!
আব্বা কোন উত্তর দিলো না।
উপকারকারীকে বাঘে খায়, এই প্রবাদ এমনি এমনি তৈরী হয় নাই। ব্যক্তিগতভাবে বহু বন্ধুকে, আত্মীয়কে বিপদে টাকা ধার দিয়েছি। টাকা'র সাথে শেক্সপিয়ারের সূত্রমত সম্পর্কও গেছে। টাকা দিয়ে বিপদে সাহায্য করেছি। পরে তাদের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে দিনের পর দিন আমাকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।
উপকার যদি করতেই হয়, তবে তা নিজেকে করা ভালো, যেন কোনদিন অন্যের কাছে উপকার চাইতে না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:০৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




