![]()
পাকিস্তানের রক্ষাকারীরা পড়িয়া নীতির বেশ,
এই রথখানি আগুনে পুড়ায়ে করিলো ভষ্মশেষ।
শিল্পীর হাতের মহা-সান্ত্বনা যুগের যুগের তরে,
একটি নিমিষে শেষ করে গেল এসে কোন বর্বরে।
………………………………
– ধামরাই রথ- পল্লীকবি জসীমউদ্দীন
গ্রামের বাড়ি যাওয়ার রাস্তায় বলে ধামরাই রথ আমার শৈশবের স্মৃতিতে বড় একটা অংশ জুড়ে আছে। হয়তো পুরো ধামরাইবাসীর মনেই এর একটা স্থায়ী আসন আছে। আমি যতটুকু দেখেছি রথযাত্রা আর রথমেলা ধর্মের সীমানা পেরিয়ে সবার কাছেই উৎসবের উপকরণ। ধামরাই বাজারের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া একফালি সরু রাস্তার দুপাশ দিয়ে ছড়িয়ে আছে শত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যের কিছু স্মৃতিচিহ্ন। যাদের একটি হল রথ।
প্রতি বছর রথযাত্রা ও রথমেলা শুরু হয় চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে। লোকমুখে জানা যায়, পাল বংশের রাজা যশোবন্ত পাল মাধব মূর্তি আবিষ্কার করেন। একদিন রাজা হাতিতে চড়ে বেড়াতে যান ধামরাইয়ে পাশে শিমুলিয়া এলাকায়। চলতে চলতে হাতিটি এক মাটির ঢিবির সামনে গিয়ে থেমে যায়। তখন তিনি স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে মাটির ডিবি খনন কাজ শুরু করেন। সেখানে একটি মন্দির পাওয়া যায়। তাতে বিষ্ণুর মূর্তির ন্যায় শ্রী মাধব মূর্তিও ছিল। রাজা ভক্তি করে সেটা নিয়ে আসেন। তখন থেকে শ্রী মাধবের নামে রাজা যশোবন্ত পালের নামটিও বিগ্রহের সাথে যুক্ত হয়ে এর নাম হয় শ্রীশ্রী যশোমাধব। ধামরাইয়ের কায়েতপাড়ায় শ্রী মাধব অঙ্গনে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত ও অধিষ্ঠিত রয়েছে শ্রীশ্রী যশোমাধব বিগ্রহ।
![]()
যাই হোক সময় বয়ে চলে, মানুষ আবার নতুন করে শুরু করে। সেই আড়ম্বর আর জৌলুস না থকলেও এরপর ২৭ ফুট উঁচু একটি ছোট রথ বানানো হয়।
![]()
২০০৬ সালে তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার বীণা সিক্রি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন রথ নির্মাণের ঘোষণা দিলে আবার আলোচনায় আসে ধামরাই রথ-যাত্রা।
![]()
লোকজ পণ্যের সমারোহ ছাড়াও পুতুল নাচ, সার্কাস রথমেলার আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দেয়। আমার পছন্দের একটা খাবার পাওয়া যায় মেলায়, একরকম খই যার নাম বিন্নি। এই মেলা ছাড়া বছরের অন্য সময় খুব-একটা হাতের কাছে পাওয়া যায় না। এছাড়া এখানে তামা কাসায় বানানো সৌখিন শৈল্পিক পণ্যের কয়েকটি স্থায়ী দোকান আছে। মানিব্যাগের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যহানিকর হলেও জিনিসগুলো কিন্তু সুন্দর। আমার একটা জিনিস পছন্দ হয়েছে সেটার নাম মনে হয় নটরাজ। দামের কারনে আগেও কয়েকবার শূন্য-হাতে ফিরে এসেছি ভবিষ্যতেও ফিরব আশা রাখি।
![]()
সবশেষে যাদের কথা না বললে আমার শৈশবের স্মৃতি আর ধামরাই বাজার এলাকার ইতিহাস আসম্পূর্ণ থেকে যাবে তারা হল বানরের দল। প্রায় সব-বাড়িতেই এদের উপস্থিতি আর দুষ্টুমি, সে অতি মজার অভিজ্ঞতা। এদের সংখ্যাটা একেবারেই কমে গেছে।
(তথ্যসূত্রঃ dnewsbd.com)
ছবিঃ কিছু নিজের কিছু ইন্টারনেটের

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


