somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে অভ্যাস গুলোর কারণে প্রেমহীন আপনার জীবন!

১২ ই অক্টোবর, ২০১৩ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আশেপাশের বন্ধু বান্ধবরা যখন সবাই প্রেম করে বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়ছে তখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে এই একাকীত্বের পেছনে কি আপনি নিজেই দায়ী কিনা। অনেক সময় নিজেকে ভেতরে গুটিয়ে রাখা, মানুষের সাথে মিশতে সংকোচ কিংবা মন খুলে কথা বলতে পারার অভ্যাস না থাকার কারণে অনেকেই ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন না। মিলিয়ে দেখুন তো এসব অভ্যাস আপনারও আছে কিনা।
১।সঠিক সময়ে সাড়া না দেয়া
অনেকেই হয়তো আপনাকে ভালোবেসে মনের দরজায় কড়া নেড়েছিলো। কিন্তু আপনার কাছ থেকে সাড়া না পেয়ে সরে গিয়েছে। অথচ আপনি হয়তো পুরো ব্যাপারটা না বুঝেই কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান নি । অথবা ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গিয়েছেন। যারা না বুঝে অথবা বিভিন্ন কারণে ইচ্ছে করেই অন্যের অনুভবের আহবানে সাড়া দেয় না তাঁরা সাধারণত একাই রয়ে যায়। তবে তাই বলে তো যেনতেন কেউ একজন প্রেমের প্রস্তাব দিলেই তো রাজী হওয়া যায় না। আপনার পছন্দ অনুযায়ী এবং আপনার পরিবারের চাহিদার সাথে যদি কারো যোগ্যতা মিলে যায় তাহলেই কেবল মাত্র সাড়া দিন। মনের মিল থাকলে প্রেম হয়েও যেতে পারে।
২।নিজেকে গুটিয়ে রাখা
আপনি যদি বিপরীত লিঙ্গের মানুষদের থেকে অনেক বেশি দূরত্ব বজায় রেখে চলেন অথবা অতিরিক্ত লজ্জা পান তাহলে আপনার প্রেমে জড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। প্রেম যদি করতেই চান তাহলে জড়তা কাটিয়ে বিপরীত লিঙ্গের সাথে সখ্যতা করার ক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে নিজের ভেতরে। কেউ যদি আপনার সাথে কথা বলতে আসে কিংবা সিনেমা দেখতে যেতে চায় আর আপনি যদি লজ্জা পেয়ে পুরো ব্যাপারটি এড়িয়ে যান, তাহলে নিশ্চিত ভাবেই সম্পর্ক গড়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই। প্রেম করতে চাইলে বিপরীত লিঙ্গের সাথে বন্ধুত্বে আগ্রহ দেখাতেই হবে। কেউ নিজ থেকে কথা বলতে চাইলে, বন্ধুত্ব করতে চাইলে সেটা গ্রহণ করুন। লজ্জা পেয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখলে দিনশেষে কেবল নিঃসঙ্গতাই আসবে আপনার ভাগে।
৩।যাপিত জীবনের ব্যস্ততা
“শিক্ষা জীবনে পড়াশোনা আর টিউশনির ফাঁকে সময়ই মেলেনি প্রেম নিয়ে ভাবার। যখন শিক্ষা জীবন শেষ তখন তো চাকরী জীবনের শুরু। কর্ম ক্ষেত্রে সারাদিন ব্যয় করার পর প্রেম করার সুযোগ কিংবা ফুসরত কোনোটাই তো মেলে না।”… অনেকেরই এমন অভিযোগ জীবনের প্রতি। ব্যস্ততা তো থাকবেই। কিন্তু ব্যস্ততার সাথে তাল মিলিয়ে মনের চাহিদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল মাত্র যন্ত্রের মত কাজ করে যাওয়ার নাম জীবন নয়। জীবনে আবেগ, অনূভূতি ও ভালোবাসারও প্রয়োজন আছে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেই নিজের জন্য, নিজের বন্ধুদের জন্য সময় বের করা উচিত। বেড়াতে যাওয়া, সামজিকতা, দশ জনের সাথে মেলামেশা ইত্যাদি করলেই না একটা সুযোগ তৈরি হবে মনের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়ার।
৪।সম্পর্ক নিয়ে ভয়
প্রেম করা নিয়ে অনেকেরই মনে ভয় থাকে। প্রায় সব মানুষের মধ্যেই প্রেম-ভালোবাসা সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক ধারণা থাকে। কেউ কেউ মনে করেন প্রেম করা মানেই অনেক খরচ, মানসিক অশান্তি, উটকো ঝামেলা ইত্যাদি। তাই প্রেমের ক্ষেত্রে এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে যান অনেকেই। একটা বিষয় মনে রাখা উচিত, যদি সম্পর্ক গড়তেই চান তাহলে ভয় পেয়ে লাভ নেই। মনের মধ্যে একই সঙ্গে ভয় এবং ইচ্ছা দুটি থাকলে আপনি বার বার দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যাবেন এবং হতাশা কাজ করবে আপনার মধ্যে। আর প্রেম করলে কিছুটা বেশি খরচ হবেই। ঘুরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া ইত্যাদি খরচ গুলো দুজনে মিলেমিশে বহন করবেন। আর সম্পর্কে ছোটখাটো মানসিক টানা পোড়েন থাকবেই। এগুলো এড়িয়ে যেতে পারলে কিংবা মেনে নিতে পারলে সম্পর্ক সুন্দর হয়। তাই প্রেম করার ইচ্ছা থাকলে মন থেকে অহেতুক ভয় দূর করে ফেলুন।
জীবন একটাই। আর সেই একটা মাত্র জীবন মনের মানুষ ছাড়া একলা কাটিয়ে দেয়ার কোনো মানে নেই। বিপরীত লিঙ্গের মানুষের সাথে কথা বলতে অতিরিক্ত জড়তা, সংকোচ ইত্যাদি ঝেড়ে ফেলুন। কেউ আগ্রহ নিয়ে বন্ধুত্ব করতে চাইলে আহবানে সারা দিন, এই বিশ্বাস রাখবেন যে নিশ্চয়ই আপনার ভালো কোনো দিন তাকে আগ্রহী করে তুলেছে আপনার প্রতি। ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে সময় বের করুন নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিকতা রক্ষার জন্য। নিজেকে অকারণে গুটিয়ে রাখবেন না।


বি. দ্র. আমারতো সবগুলোই কভার করেছে। :((আপনার কারণ কোনটা?;)

দ্য বাংলাদেশ হেরাল্ড থেকে সংগৃহীত
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাতিম গাছের ছায়ায়

লিখেছেন আবু সিদ, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩


সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×