somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’- শ্রদ্ধাঞ্জলি

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৩ রাত ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নূর হোসেনকে যদি আমরা ১০ নভেম্বর তারিখে বন্দি করতে পারতাম, আমরা যদি আজ গণতন্ত্রের পুষ্পোদ্যানে বসে স্বৈরশাসনের দিনগুলোর কেবল স্মৃতিচারণ করতাম তবে তা হতো আমাদের জন্য গৌরবের। কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতা দেখে কেবল ১০ নভেম্বর নয় পুরো মাস পুরো বছর জুড়েই নূর হোসেনের রক্তের ঋণ পরিশোধের নিরন্তর সংগ্রাম। আজও পারলাম না গণতন্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে। গত ৩০ বছর ধরে একই রকম রাজনৈতিক দিন আমরা পার করছি। আজকের দিনটির সাথে হুবুহু মিলে যাওয়া দিন আমাদের স্মৃতিতে অসংখ্য। কবে স্বৈরাচার নিপাত যাবে, গণতন্ত্র আসলেই মুক্তি পাবে! একবুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে তাই নূর হোসেনের প্রতি আগাম শ্রদ্ধাঞ্জলি।
নূর হোসেন হয়তো কোন ক্ষ্যাপাটে তরুণের নাম। হয়তো সে গণতন্ত্র সম্পর্কেই বিস্তৃত ধারণা রাখত না। হয়তো সে কেবলই এক দলীয় কর্মী ছিল। নতুন ইতিহাস আবিষ্কারের দেশে হয়তো কোনদিন কেউ জানাবে নূর হোসেনের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে হয় নি। কিন্তু এ কথা কেউ কোনদিন অস্বীকার করতে পারবে না গণতন্ত্রের মুক্তি আর স্বৈরশাসনের অবসান চেয়েছিল দেশবাসী সেসময়। কাজেই নূর হোসেন সমগ্র দেশবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়। মৃত্যু অনেক-সময় জীবনকে গৌরবান্বিত করে। নূর হোসেন সেদিন জীবিত থাকলে হয়তো তার কথা কেউ মনে রাখত না কিন্তু স্বৈরশাসনের অবসান আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করে সে অমর হয়েছে। নূর হোসেনের বুকে পিঠে লেখা ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্র মুক্তি পাক’ আজও সমান প্রাসঙ্গিক। স্বৈরশাসন নির্মূলে আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শহিদ নূর হোসেন প্রাসঙ্গিক থাকবে চিরকাল।
নূর হোসেনের সম্মানে কয়েকটি লাইন…

‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’

সাত বছরের এক শিশু,
যে টেলিভিশন দেখছে, পত্রিকা পড়তে শিখছে,
যে পেয়েছে মনে রাখার অধিকার,
তার যাত্রা শুরু
এক গণ-আন্দোলনের চূড়ান্ত বিস্ফোরণের আওয়াজে।
সে মিছিল দেখে, ভাষণ শোনে,
পত্রিকার পাতায় বড় বড় অক্ষরে প্রতিবাদের শব্দ পড়ে।
সে অর্থ খুঁজে ফেরে,
তার প্রথম শেখা শব্দগুলোতে;
গণতন্ত্র, আন্দোলন, মিছিল, স্লোগান, ভাষণ, পতন আরো কত কী!
নতুন দিন, নতুন পত্রিকা, নতুন সব ছবি;
সব বোঝা যায় না, সব মনে থাকে না
এতটুকু বোঝা যায়, ঝাঁঝালো সব সংবাদ, প্রতিদিন প্রতিবাদ।
কিছু স্লোগান হৃদয়ে গেঁথে যায়,
কিছু ছবি স্মৃতির পাতায় অবিচ্ছেদ্য রূপ পায়।
‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’- বুকে পিঠে লেখা
নূর হোসেন নামক এক যুবকের ছবি।
সে নাকি শহিদ হয়েছে!
এক ডাক্তারের নাম প্রথম-বার শোনা,
তার ছবি প্রথমবার দেখা, তাঁর মৃতদেহের ছবি।
সাদা-কালো সব ছবি, সাদা-কালো সব স্মৃতি।
স্বৈরাচারের পতন হল, গণতন্র এলো।
অনেক বছর পর,
সেই শিশু আজ নূর হোসেনের বয়েসী।
আজও সে সেই আন্দোলনের গল্প শোনে,
দেখে নানা দিবস পালন।
জেহাদ, নূর হোসেন, ডাঃ মিলন আরো কত নাম!
অনেক আয়োজন, স্মৃতিচারণ।
রাতের কোন গভীরে ঘুম ভেঙ্গে গেলে
আজকের তরুণ নূর হোসেনের কন্ঠ শোনে,
“স্বৈরাচার কি নিপাত গেছে? গণতন্র কি মুক্তি পেয়েছে?”
অস্ফুট-স্বরে তরুণ কহে,
“সেই পতিত স্বৈরাচার আজও ক্ষমতার অংশীদার।
আজও গণতন্র বন্দী স্বৈরশাসনের শিকলে”।
নূর হোসেন ডাক দিয়ে যায়, “তবে চুপ কেন! প্রতিবাদ কর”।
নতুন ভোরে ঘুম ভাঙে,
আজকের তরুণ নতুন পত্রিকা খোলে।
তার দৃষ্টি খুঁজে ফেরে
নতুন কোন নূর হোসেনের প্রতিবাদ ছবি।
নূর হোসেনের ভূমিকায়, নিজেকে সে কল্পনাও করে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ১০:৫৯
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাতিম গাছের ছায়ায়

লিখেছেন আবু সিদ, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৩


সূর্যটা আজ যেন আগুনে আগুন। মাথার ওপর তামাটে আকাশ। নিচে তপ্ত পিচঢালা পথ। এই কাঠফাটা দুপুরে একদল কিশোর লক্ষ্যহীন হেটে চলেছে । রনি, রাহাত, ওলি আর আশফাক। তাদের পদক্ষেপে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের ওভারব্রীজ

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৪

বেশ অনেকদিন আগের কথা। আমি কোন এক দুর্ঘটনায় পা এ ব্যাথা পাই। হাসপাতালে ইমারজেন্সি চিকিৎসা নেই। কিন্তু সুস্থ হতে আরো অনেক দেরী। সম্ভবত চিটাগাং রোডে (নারায়ণগঞ্জ) এ রাস্তা পার হবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৈচিত্রে ভরা মহাবিশ্ব, তবে মানুষ কেন একই রকম হবে?

লিখেছেন মিশু মিলন, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:৩৯



এবার শেখরনগর কালীপূজার মেলায় গিয়ে সন্ধ্যার পর ভাগ্নি আর এক দাদার মেয়েকে বললাম, ‘চল, তোদের অন্য এক জীবন দেখাই।’
সরু গলি দিয়ে ওদেরকে নিয়ে গেলাম পিছনদিকে যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল্লাহর সুন্নাতের পরিবর্তে রাসূলের (সা.) বিভিন্ন মতের অনুমোদন সংক্রান্ত হাদিস বাতিল হবে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:৪৭



সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ৪৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৪৩। পৃথিবীতে অহংকার প্রকাশ এবং কূট ষড়যন্ত্রের কারণে (অকল্যাণ)।কূট ষড়যন্ত্র এর আহলকে(এর সাথে সংযুক্ত সকল ব্যক্তি) পরিবেষ্ঠন করে। তবে কি এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×