somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শুভ্রতায় ভরা প্রহর

২৭ শে জানুয়ারি, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোহান চলে গেলো শান্তিরক্ষা মিশনে, ছোট মেয়েটা তখন পেটে, দু’মাস বাকি তার পৃথিবীতে আসবার। নিজের সব থেকে নাজুক সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্ভরতার মানুষটি চলে গেল। যদিও যাবার সময় বারবার বলে গেলো, ‘আমি আসবো, আমাদের বাবু যখন আসবে, আমি আসবো’। কিন্তু কেন জানি না আমি বুঝতে পারছিলাম, সে আসতে পারবে না, নিজেকে একটা শক্ত মানুষে পরিবর্তিত করলাম। লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদি, সবার সামনে দেখাই, ‘এইতো ভালো আছি’। অস্থিরতা ৩ বছরের সেবন্তিকে নিয়ে, আমার শান্তশিষ্ট লক্ষ্মী মেয়েটা বাবা যাবার পর কেমন যেন হয়ে গিয়েছে, চুপচাপ থাকে আবার এমন অস্বাভাবিক দুষ্টামি করে, সবার মাঝে মুখ লুকানোর জায়গা পাইনা আমি। হসপিটালে নতুন বাবু সোনাকে যখন আনতে যাবো, সেবন্তি মাকে ছাড়া কিভাবে থাকবে, এটা নিয়েই বেশি চিন্তা হতো। কিভাবে কেমন করে যেন সবকিছু পাড়ি দিয়ে ছোট মায়াবতী দুটো মেয়ে নিয়ে, যশোরে নিজের বাসায় ফিরলাম। দু’মাসের অবন্তি সোনাপাখি অন্য বাবুদের থেকে একটু ভিন্ন, ভয়ানক কান্নাকাটি করে, শুধু তাই নয় ঘুমায় না সে; চিকিৎসাশাস্রে একে বলে, ‘কলিক বেবি’। দিনের পর দিন ঘুমহীন রাতের সাথে তার অকারন কান্নাকাটিতে প্রায়ই বিধ্বস্ত আর অস্থির হয়ে পড়তাম। গৃহপরিচারিকা রাবেয়া ঝামটা দিত, ছোট বাচ্চাদের জিনরা বিরক্ত করে, নজর টিপ পরাও না, বাচ্চাতো কাঁদবেই। সে নিজেই কাপড় পুড়িয়ে সরিষার তেল মিশিয়ে কাজল বানাল। মুখ-চোখে লেপটে থাকে বলে আমি বেশি একটা লাগাতে দিতাম না। সেদিন বড় মেয়েকে গোসল, জামা কাপড় পড়ানোর পালা শেষ করে, ছোট মেয়েকে গোসল করিয়ে গা মুছিয়ে দিয়ে গেলাম জামাকাপড় আনতে। জামাকাপড় এনে দেখে, সেবন্তি নজর টিপ পড়িয়ে দিচ্ছে ছোট আপুকে, সাথে নিজের জামাকাপড় আর অবন্তির সারা মুখ ভরিয়ে ফেলেছে কাজলের কালিতে। আমাকে দেখে বলে, ‘মা নজর লেগে যাবে তো’। এত স্নিগ্ধ, মমতাপূর্ণ সে দৃশ্য আমারও মনে হল, একটু কালি না হয় থাক, নজর লেগে যাবে তো। আমার মেয়ে দুটি যেন এরকম শুভ্রতায় ভরা মায়াময় জীবন কাটাতে পারে। অনেক ভালোবাসি মা তোমাদের। তোমাদের বাবাকেও অনেক ভালোবাসি।
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×