somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়

১৮ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বনাম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বৈরথটা বেশ প্রাচীন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র যখন বলে, আমি প্রাইভেট ভার্সিটির ছাত্রের চেয়ে বেশি মেধাবী, প্রাইভেটের ছাত্র তখন বলে, তুমি মেধাবী হতে পারো, কিন্তু লেখাপড়া বেশি হয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার লেখাপড়া হয় নাকি? ব্যস,তর্ক শুরু...

কোথায় বেশি পড়ালেখা হয়, কোথায় কম হয়, তা নিয়ে আমি কিছু বলবোনা। ধরে নিলাম, পাবলিকের চেয়ে প্রাইভেটে লেখাপড়া বেশি হয়, ফ্যাসিলিটিও অনেক বেশি পাওয়া যায়। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুম, উন্নতমানের বেঞ্চ,টেবিল, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর যেখানে অনেক পাবলিক ভার্সিটির স্টুডেন্ট দূরতম কল্পনাতেও ভাবতে পারেনা সেখানে প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে এসব মিনিমাম ফ্যাসিলিটি। পাবলিক ভার্সিটির ক্লাসরুমে বেঞ্চগুলো থাকে ঢলঢলে, ঘূঁণেধরা, নড়বড়ে, শতবর্ষীয় ফ্যানগুলো উপর থেকে বিকট শব্দ করে ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে, প্রাচীন দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে নিয়মিত বিরতিতে। তবুও কেন মানুষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়? ভর্তিপরীক্ষায় কেন এত তীব্র যুদ্ধ হয়? কেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্যে সবাই এত চেষ্টা করে?

একটা কারন কমন,সবাই বলবেন, টাকা। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যেরকম ম্যাক্সিমাম ফ্যাসিলিটি দেয়া হয়, টাকাও দিতে হয় সেরকম বিশাল অঙ্কের। পড়াশোনা নিয়মিত হয়, ক্লাসে স্যারেরাও থাকেন সচেতন, তারা জানেন, মোটা অঙ্ক খরচ করে ছাত্ররা এখানে পড়তে আসে, তাই তাদের রেসপন্সিবিলিটিও থাকে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ন্যূনতম অঙ্কের টাকা দিয়ে ভর্তি হওয়া যায়। মাস শেষে, শিক্ষার্থীর বাবা-মা'কে টাকার বান্ডিল নিয়ে দৌড়াতে হয়না। টাকা এখানে গৌণ বিষয়।

টাকার বিষয়টা যদি বাদই দেই, তাহলে তো প্রাইভেটের চেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিছিয়ে থাকার কথা। পিছিয়ে থাকে কই?
অনেকে বলেন, পাবলিকে সব মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে, প্রাইভেটে মেধাবীর সংখ্যা কম। এ কথাতেও আমার তীব্র আপত্তি। পাবলিকে যারা ভর্তির সুযোগ পায়, তারা যেমন মেধাবী, যারা প্রাইভেটে পড়ে, তারা কি মেধাবী না? প্রতিবছর HSC পরীক্ষায় এ প্লাস পায় ৭০-৮০ হাজার স্টুডেন্ট, সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সীট মিলিয়েও মনেহয় ৭০-৮০ হাজার সীট নেই। যারা এ প্লাস পেয়েছে পরীক্ষায় তারা সবাই মেধাবী, তাহলে "ভর্তিপরীক্ষা" নামের জুয়াখেলায় পিছিয়ে পড়া কাউকে আপনি অমেধাবী বলবেন কীভাবে?

তাহলে, এটাও বোঝা গেলো, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা পড়ে তারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মতই সমান মেধাবী, তাদের মধ্যে কোনো বৈষম্য নেই।
তাহলে, বৈষম্যটা কোথায়?
প্রিয় পাঠক, এবার আমরা আসল টপিকসে ঢুকছি।

আসল বৈষম্যটা পরিবেশে। যেখানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি পাচ্ছেন বিশাল বড় একটা জায়গা যেটাকে আমরা "ক্যাম্পাস" বলি সেখানে অনেক প্রাইভেট ভার্সিটিতে "ক্যাম্পাস" তো দূরের কথা ক্ষুদ্রপরিসরের একটা মাঠও নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মানে যে সারাবছর আপনি পাঠ্যবইয়ের মাঝে মুখগুঁজে বসে থাকবেন, তাও তো না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনি আপনার প্রতিভা প্রকাশের অথবা বিকাশের খুব ভালো একটা মঞ্চ পাবেন। মুক্ত একটা পরিবেশ পাবেন, যেখানে হয়তো এ.সি'র কৃত্রিম বাতাস নেই, সীসামুক্ত ফুরফুরে বাতাস আছে। বসার জন্য হয়তো আধুনিক আসবাব নেই তবে পা ছড়িয়ে বসার জন্যে সবুজরং এর কচি ঘাস আছে। ক্লাসরুমে টিউবলাইট নেই, মিঠেকড়া রোদের আলো আছে। কিছুই নেই আবার অনেককিছু আছে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এই একটি কারনেই পিছিয়ে পড়ে যায় বারবার। অপরিসর একটা জায়গায় রাস্তার পাশে বিশাল একটা বিল্ডিং হয়ে যায় একাডেমিক বিল্ডিং, গ্রাউন্ড ফ্লোরের অপরিসর ওয়াকওয়ে হয়ে যায় কংক্রিটের ক্যাম্পাস। ক্লাসরুমগুলো হয়ে যায় কোচিং সেন্টারের মত। হাজারো সুবিধা থাকা সত্বেও তারা দ্বৈরথে পিছিয়ে পড়ে বারবার, পরিবেশ তাদের পিছিয়ে দেয় প্রতিবার।

এখানেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় এগিয়ে থাকে। ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিবেশের কাছে হার মেনে যায় কৃত্রিম আধুনিকতা, হেরে যায় আধুনিক প্রযুক্তিও...
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×