somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেগম খালেদা জিয়ার অফিস থেকে তথ্যপাচার যন্ত্র উদ্ধার, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ?

০২ রা নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান দফতর থেকে ১৭টি তথ্যপাচার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর রাতে দফতরের বিভিন্ন কক্ষ (নিজের কক্ষসহ) থেকে ১৭টি কলম সম্বলিত অডিও এবং ভিডিও তথ্যপাচার যন্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে, এ ব্যাপারে ওই দফতরের কেউ মুখ খুলতে চাইছেন না। বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা ছাড়া এ ঘটনা দলের আর অন্য কারো জানাও নেই।

দলের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানিয়েছে, বেগম জিয়ার উপস্থিতিতেই এ সব যন্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত দলও গঠন করা হয়েছে। দিল্লি থেকে ঢাকায় ফিরে আসার পরেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারেন বেগম জিয়া। সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে খালেদা জিয়ার গুলশান দফতরের কোনও তথ্য গোপন রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। গুলশানের রাজনৈতিক দফতরের নিজের কক্ষে বসে খালেদা জিয়া বিএনপির রাজনীতি, আগামী জাতীয় নির্বাচনের ছক, সরকার বিরোধী আন্দোলনের কৌশলসহ কূটনৈতিক সম্পর্কে জোরদারে অতি গোপনীয় যেসব পরিকল্পনা করেছিলেন, তার সব কিছুই মূহূর্তেই বাইরে ফাঁস হয়ে যেতো।

গুলশানে খালেদা জিয়ার এই নতুন দফতর প্রতিষ্ঠার পর থেকে সেখানে বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, কূটনীতিক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীসহ দলের মাঠ নেতাদের সঙ্গে যে সব আলাপচারিতা হয়েছে, তার প্রায় সবটাই বাইরে ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এতোদিন গুলশান দফতরের এ সব তথ্য ফাঁসের আশংকা ছিল গুঞ্জন হিসাবে। জানা গেছে, গুঞ্জনের বিষয়টি বিএনপি চেয়ারপারসনকেও অবহিত করেছিলেন বিশ্বস্ত দু’একজন নেতা। কিন্তু তাতে ততটা জোরালোভাবে কান দেননি বেগম জিয়া।

কিন্তু গত ১০ অক্টোবর রাতে গুলশান দফতরে নিজের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষ থেকে ১৭টি কলমসম্বলিত অডিও এবং ভিডিও তথ্যপাচার যন্ত্র উদ্ধারের পর কপালে ভাঁজ পড়ে তাঁর। তিনি নিশ্চিত হন, উদ্ধার করা এ সব তথ্যপাচার যন্ত্রের মাধ্যমেই তাঁর পরিকল্পনাগুলো ফাঁস হয়ে গিয়েছে।জানা গেছে, তথ্যপাচার যন্ত্রগুলো কারা এবং কিভাবে গুলশান দফতরের কক্ষের বিভিন্ন জায়গায় রেখেছেন, এখন সে বিষয়েই অনুসন্ধান চলছে। খালেদা জিয়ার গুলশান দফতরের একাধিক স্টাফকে সন্দেহের তালিকায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তাও বের করতে বিশ্বস্ত লোকদের দিয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দিয়েছেন তিনি।

সূত্রের দাবি, গত ১০ অক্টোবর রাতে গুলশান দফতরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন দেশের একজন শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী। প্রায় ঘণ্টাকাল একান্ত আলাপচারিতা শেষে খালেদা জিয়ার কক্ষ থেকে বের হন তিনি। ওই ব্যবসায়ী গুলশান কার্যালয়ের খালেদা জিয়ার কক্ষের সামনে যেতেই কার্যালয়েরই একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা তার পথরোধ করেন। ব্যবসায়ীকে অনেকটা ‘শাসিয়ে’ তিনি বলেন, ‘আপনি ম্যাডামকে বেশ কিছু বিষয়ে অভিযোগ করেছেন? এটা ঠিক হয়নি।’ প্রশ্ন শুনেই হতভম্ব হয়ে যান ওই ব্যবসায়ী। এ সময় তিনি তার চশমা ভুল করে খালেদা জিয়ার দফতরে রেখে আসার অজুহাতে পুনরায় খালেদা জিয়ার কক্ষে যান। জানা গেছে, এরপর বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে তথ্য পাচারের বিষয়টি তিনি খুলে বলেন (তবে যে ব্যক্তিটি তার পথরোধ করেছিলেন, তার নাম বলেননি)। তিনি খালেদা জিয়াকে আরও বলেন, ‘ম্যাডাম আপনার সঙ্গে যা কিছু কথা হয় সঙ্গে-সঙ্গে তা বাইরে পাচার হয়ে যায়। আমার মনে হয় আপনার কার্যালয়ের ভেতরে ও আপনার রুমে এমন কোনও যন্ত্র আছে, যার মাধ্যমে মুহূর্তেই তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে।’ ওই ব্যবসায়ীর কথা শোনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর দফতরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিজের কক্ষে তলব করেন বেগম খালেদা জিয়া।

সূত্র আরও দাবি করেছে, খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১০ অক্টোবর রাতেই গুলশান কার্যালয়ের সব কক্ষ, কক্ষে থাকা পর্দার সিলিং, ফুলের টব, কার্পেটসহ নানা আসবাবপত্র তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের রুম, কনফারেন্স রুম, ফুলের টব, পর্দার সিলিং ও অন্যান্য রুম থেকে অডিও এবং ভিডিও সম্বলিত ১৭টি কলম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কলমগুলো বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পরবর্তীতে পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়, সেগুলো গোপন তথ্যপাচার যন্ত্র। কার্যালয়ের অভ্যন্তরে আরও কোনও তথ্যপাচার যন্ত্র আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে গত ১১ ও ১২ অক্টোবরও তল্লাশি চালানো হয় ওই দফতরের বিভিন্ন জায়গায়। তবে ওই দু’দিন আর কোনও তথ্যপাচার যন্ত্র পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর থেকে গুলশান দফতরের অনেক স্টাফদের মধ্যেই চাকরি কিংবা দলের দায়িত্ব হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্পুর্ন কপি পেষ্ট , শুধু মাত্র ফেসবুকে খুজে পেলাম বলে শেয়ার করছি। অনেকটা ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি মত :P
সূত্রঃ শোয়াইব বিন আহমেদ সোহেল-JCD Activist (Former & Present)

দৈনিক পূর্বকোন- নাম আজকে শুনলাম
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১২ সকাল ১১:৪৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পেঙ্গুইনটা কেন পাহাড়ের দিকে পা বাড়ালো?

লিখেছেন অপু তানভীর, ২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২৩



যারা ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেন, তাদের নিউড ফিডে গতদুই দিনে একবার হলেও এই ভিডিও ফুটেজটা এসেছে। ফুটেজটাতে দেখা যাচ্ছে একদল পেঙ্গুইনের মধ্যে কিছু সংখ্যক পেঙ্গুইন যাচ্ছে খাদ্যের সন্ধানে পানির দিকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা ফুটপাতে দাঁড়িয়েছিলাম, এটাই ছিল আমাদের অপরাধ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৪০


২০২২ সালের কথা। মিরপুর ১২ নম্বর, বর্ধিত পল্লবী আবাসিক এলাকা দিয়ে হাঁটছিলাম। খুব স্বাভাবিক একটা রাত। রাস্তায় মানুষজন, রিকশা, গাড়ি—সবকিছু চলছে। হঠাৎ আমার ঠিক সামনে ধপ করে একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আনাড়ী

লিখেছেন সামরিন হক, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫৭




ছবি- নিজের তোলা

জীবন, সাধ মৃত্যু।
অপেক্ষা,নিদারুণ ফাঁসের দড়ি।
প্রতিদিন,একটু একটু মরি।

ভালোবাসা,ঘুণে ধরা কাঠের টুল।
ক্ষয়ে ক্ষয়ে করে যায় খুন।
বেঁচে থাকা,আপ্রাণ লড়াই।
ভুলে যাই মূহূর্তে কি চাই!

যন্ত্রণা প্রকৃত ত্রুটি
নইলে কি আর
দোটানায় ভুগি।

ঝুলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতের লেজ গুটিয়ে পালানো কেবল শুরু

লিখেছেন অপলক , ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪



বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে (বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড বিআইএফপিসিএল) শনিবার সকালে খাবারের টেবিলে ৯ কর্মকর্তাদের না পেয়ে কর্তৃপক্ষ খোঁজখবর নিতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানা যায়, তারা কাউকে না জানিয়েই... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৮৯

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪৭



হ্যালো ফারাজা,
তুমি কথার পিঠে কথা বলতে শিখে গেছো! পাঁচ বছরের এক বাচ্চা মেয়ে কি সুন্দর কথা বলছে। মাঝে মাঝে বাবার সাথে রাগ দেখাচ্ছে। বাবার কাছে গল্প শুনতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×